reporterঅনলাইন ডেস্ক
  ১ ঘণ্টা আগে

বোস্টনে জার্মানির এক ট্র্যাজিক মহাকাব্যের অবসান!

ছবি : সংগৃহীত

বোস্টন: ফুটবল বিধাতা যেন আজ জার্মানির জন্য এক চরম নির্মম চিত্রনাট্য লিখে রেখেছিলেন। যে কাই হাভার্টজ ৫৪ মিনিটে দুর্দান্ত এক হেডে গোল করে দলকে ম্যাচে ফিরিয়েছিলেন, টাইব্রেকারের স্পট কিকে তিনিই বনে গেলেন ট্র্যাজিক হিরো। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে স্তব্ধ করে দিয়ে টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে জিতে শেষ ষোলোর টিকিট কেটেছে প্যারাগুয়ে, আর বিষাদের সাগরে ডুবেছে ডাই ম্যানশাফটরা। বিশ্বকাপ ইতিহাসে এই প্রথমবার টাইব্রেকারে হারের তিক্ত স্বাদ পেল জার্মানি।

রক্ষণভেদের ব্যর্থতা ও প্যারাগুয়ের ইতিহাস : ম্যাচের শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ ছিল জার্মানদের পায়ে। প্রথমার্ধে প্রায় ৮০ শতাংশ সময় বল নিজেদের দখলে রেখেও প্যারাগুয়ের জমাট রক্ষণ ভাঙতে পারছিল না নাগেলসম্যানের দল। উল্টো ৪২ মিনিটে কাউন্টার অ্যাটাক থেকে মাতিয়াস গালারজার ক্রসে হুলিও এনসিসো দারুণ এক হেডে প্যারাগুয়েকে এগিয়ে নেন। নকআউট পর্বের ইতিহাসে এটিই ছিল প্যারাগুয়ের প্রথম গোল।

হাভার্টজের ফেরা ও গোলরক্ষক গিলের দেয়াল : বিরতির পর ৫৪ মিনিটে ফ্লোরিয়ান ভির্টসের মাপা ক্রসে মাথা ছুঁইয়ে জার্মানিকে সমতায় ফেরান কাই হাভার্টজ। ম্যাচ সমতায় ফেরার পর একের পর এক আক্রমণ চালায় জার্মানি। কিন্তু প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিল আজ যেন চীনের প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। ৭৮ মিনিটে হাভার্টজের নিশ্চিত গোলের হেড এবং নির্ধারিত সময়ের শেষ দিকে জনাথন তাহের হেড অবিশ্বাস্য দক্ষতায় রুখে দেন গিল।

ভিএআর বিতর্ক ও নাগেলসম্যানের ক্ষোভ : অতিরিক্ত সময়ের ১০২ মিনিটে জনাথন তাহ হেডে বল জালে পাঠালে উল্লাসে মেতে উঠেছিল জার্মানি। কিন্তু সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ভিএআর (VAR) চেক করে রেফারি গোলটি বাতিল করেন, কারণ কর্নার নেওয়ার মুহূর্তে প্যারাগুয়ে গোলরক্ষককে ধাক্কা দিয়েছিলেন ওয়াল্ডেমার আন্তন। এই সিদ্ধান্তে ডাগআউটে ক্ষোভ প্রকাশ করায় হলুদ কার্ড দেখতে হয় জার্মান কোচ হুলিয়ান নাগেলসম্যানকে।

টাইব্রেকারের সেই অভিশপ্ত রাত : নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময় ১-১ সমতায় শেষ হওয়ার পর ম্যাচ গড়ায় ভাগ্যের লড়াই টাইব্রেকারে। জার্মানির হয়ে প্রথম শটটিই নিতে আসেন হাভার্টজ। কিন্তু তাঁর দুর্বল শটটি রুখে দিয়ে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেন প্যারাগুয়ে গোলরক্ষক গিল।

পরে জশুয়া কিমিখ, জামাল মুসিয়ালা ও নাদিয়েম আমিরি গোল করলেও নিক ভোল্টেমেড ও শেষ শট নেওয়া জনাথন তাহের ব্যর্থতায় জার্মানির বিদায় নিশ্চিত হয়ে যায়। প্যারাগুয়ের পক্ষে আন্তোনিও সানাব্রিয়া ও ফাবিয়ান বালবুয়েনা শট মিস করলেও গুস্তাভো গোমেস, মাতিয়াস গালারজা ও শেষ শটে হোসে কানাল সফল হলে ইতিহাস গড়ে মাঠ ছাড়ে প্যারাগুয়ে।

২০১০ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপে টাইব্রেকারে জয় পাওয়া প্যারাগুয়ে এখন শেষ ষোলোর লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে ফ্রান্স ও সুইডেন ম্যাচের বিজয়ীর বিরুদ্ধে। আর বোস্টনের মাঠ ছাড়ার সময় জার্মান শিবিরে কেবলই জমাট বেঁধে রইল একরাশ দীর্ঘশ্বাস আর কান্নার রোল।

পিডিএস/এমএইউ

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়