সম্পাদকীয়

  ০৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২০

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ

সত্য কখনোই পরাজিত হয় না; মিথ্যারই পরাজয় ঘটে। পৃথিবীর ইতিহাস তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ। আর এই সত্যের চীরন্তন জয়ের মধ্য দিয়েই বেড়ে উঠেছে আজকের পৃথিবী। পৃথিবীর ভালো ও মন্দের মধ্যে দ্বন্দ্বের অবস্থানও চীরন্তন। পরস্পরবিরোধী অবস্থান থেকে দ্বন্দ্ব ও সংঘাতের মধ্য দিয়েই বেরিয়ে আসে সত্য। কখনো কখনো এ সত্য বেরিয়ে আসতে অনেক সময়ক্ষেপণ হয়, কখনো কখনো দ্রুততম সময়ের মধ্যে তা বেরিয়ে আসে। মিয়ানমার সংকট সমাধানের ক্ষেত্রে আমরা সে সত্য অবলোকন করেছি।

অনেকের মতে, সময়ক্ষেপণ হয়েছে অনেক; কিন্তু আমরা মনে করি, সময় অনেক ব্যয় হয়েছে—এ কথা সমর্থনযোগ্য নয়। ফল পুষ্ট হওয়ার আগেই গাছ থেকে নামানো হলে তা খাওয়ার উপযুক্ততা হারায়। মিয়ানমার সংকট সমাধানের ক্ষেত্রেও আমরা সে কথাই বলতে পারি। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের ধীরে চলা নীতির প্রশংসাই করতে হয়। ধীরে হলেও বাংলাদেশ অনেকটাই এগিয়েছে। আইসিজেতে রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার পর এবার মানবতাবিরোধী অপরাধের আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)।

রাখাইন থেকে রোহিঙ্গাদের তাড়িয়ে দিয়ে মিয়ানমার মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে কি না, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত শুরু করেছে আইসিসি। নেদারল্যান্ডসের রাজধানী দ্য হেগে আদালতের প্রাক-বিচারিক নির্দেশের প্রায় আড়াই মাসের মাথায় গত ২৮ জানুয়ারি এ তদন্ত শুরু হয়। আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গাম্বিয়ার করা রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার অন্তর্বর্তী পদক্ষেপের আদেশ দেওয়ার এক সপ্তাহের মাথায় আইসিসির তদন্ত শুরু হলো। মানবতাবিরোধী অপরাধ আর গণহত্যার প্রেক্ষাপটে বিশ্বে প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক—এই দুই আদালতে রোহিঙ্গাদের ওপর নৃশংসতার বিচারের আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আইসিজেতে অভিযুক্ত রাষ্ট্র হিসেবে কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয়েছে মিয়ানমারকে। আর আইসিসিতে বিচার হবে মিয়ানমারের অভিযুক্ত ব্যক্তিদের। আইসিজে ও আইসিসির পাশাপাশি জাতিসংঘের গঠিত মিয়ানমারের বিরুদ্ধে স্বাধীন তদন্তের (আইআইএমএম) কাজ শুরু করেছে। মিয়ানমারে মানবাধিকার লঙ্ঘনের তদন্ত করে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে জাতীয়, আঞ্চলিক কিংবা আন্তর্জাতিক আদালতে ফৌজদারি মামলার সুপারিশ করবে আইআইএমএম। এসব আইনি উদ্যোগের ফলে রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে আন্তর্জাতিক পরিসরে মিয়ানমারের ওপর আরো বাড়তি চাপ বাড়ল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

আমরাও বিশ্লেষকদের এই মতামতের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে বলতে চাই, এ ক্ষেত্রে বিশ্ব সম্প্রদায়ের ভূমিকা অনন্য। একই সঙ্গে এ কথাও সত্য, বাংলাদেশ তার ভূমিকা পালনে ছিল যথেষ্ট ইতিবাচক। বিশেষ করে বিদেশের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টিকে আজকের যে অবস্থানে এনে দাঁড় করিয়েছেন, নিঃসন্দেহে তা প্রশংসার দাবি রাখে। আমরা আরো মনে করি, প্রধানমন্ত্রীর যোগ্য নেতৃত্বে ভবিষ্যতের বিদেশনীতি বাংলাদেশকে আরো বেশি সুসংহত করবে। আর রোহিঙ্গা সংকটের একটি ইতিবাচক সমাধান মানবতার বিজয় ঘোষণা করবে।

পিডিএসও/হেলাল

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
বাংলাদেশ,রোহিঙ্গা সংকট,সম্পাদকীয়,বিদেশনীতি
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়