মদন (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি

  ১ ঘণ্টা আগে

মদনে টিসিবি ডিলার বাছাইয়ে অনিয়মের অভিযোগ

ছবি : প্রতিদিনের সংবাদ

নেত্রকোনার মদন উপজেলার কাইটাইল ইউনিয়নে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ডিলার নিয়োগে সরকারি নীতিমালা অনুসরণ না করে প্রার্থী বাছাইয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রকৃত মুদিব্যবসায়ীদের বাদ দিয়ে নীতিমালার শর্ত পূরণ না করা দুটি প্রতিষ্ঠানকে যোগ্য হিসেবে সুপারিশ করার অভিযোগ এনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ (ইউএনও) সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন সায়েদুজ্জামান নামে এক ব্যবসায়ী।

১৬ আবেদনের বিপরীতে সুপারিশ ৩ প্রতিষ্ঠানের

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কাইটাইল ইউনিয়নে একজন টিসিবি ডিলার নিয়োগের জন্য ১৬ জন ব্যবসায়ী আবেদন করেন। আবেদনগুলো যাচাই-বাছাই ও তদন্তের দায়িত্ব ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে উপজেলা পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের মদন শাখার ব্যবস্থাপক হুমায়ূন কবিরকে দেওয়া হয়। তদন্ত শেষে ১৬ জন আবেদনকারীর মধ্যে লাবিব এন্টারপ্রাইজ, জিসান এন্টারপ্রাইজ ও মায়ের দোয়া স্টোর—এই তিনটি প্রতিষ্ঠানের নাম উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।

অভিযোগকারীর দাবি, টিসিবির ডিলার নিয়োগ নীতিমালা অনুযায়ী আবেদনকারীকে প্রকৃত মুদিব্যবসায়ী হতে হবে এবং বৈধ ট্রেড লাইসেন্সসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকতে হবে। কিন্তু জিসান এন্টারপ্রাইজ ও মায়ের দোয়া স্টোর প্রকৃত মুদিব্যবসা পরিচালনা না করলেও তাদের যোগ্য হিসেবে সুপারিশ করা হয়েছে।

সরেজমিনে মেলেনি মুদিদোকানের অস্তিত্ব

মঙ্গলবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জিসান এন্টারপ্রাইজ নামে কোনো স্থায়ী মুদিদোকান নেই। স্থানীয় এক মুদিব্যবসায়ী আশরাফুলের দোকানের সামনে সাময়িকভাবে একটি সাইনবোর্ড টানিয়ে ছবি তোলা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। পরে সেই সাইনবোর্ড সরিয়ে নেওয়া হয়। অন্যদিকে, মায়ের দোয়া স্টোরে মূলত হাঁস-মুরগি, গবাদিপশুর খাদ্য এবং পশু চিকিৎসার ওষুধ বিক্রি করতে দেখা যায়।

ডিলার পদে আবেদনকারী ও দীর্ঘদিনের মুদিব্যবসায়ী কাজী আলম বলেন, “আমি ১৯৯৮ সাল থেকে বাররী বাজারে মুদিব্যবসা করছি। আমিও আবেদন করেছিলাম। অথচ প্রকৃত মুদিব্যবসায়ীদের বাদ দিয়ে যাঁরা মুদিব্যবসার সঙ্গে জড়িত নন, তাঁদের তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। জিসান এন্টারপ্রাইজ নামে যে দোকান দেখানো হয়েছে, সেটি প্রকৃতপক্ষে আশরাফুলের দোকান। শুধু সাইনবোর্ড লাগিয়ে ছবি তুলে তদন্তকারী কর্মকর্তাদের দেখানো হয়েছে।”

বাররী বাজার কমিটির সহসভাপতি ও ব্যবসায়ী সানোয়ার হোসেন বলেন, “মায়ের দোয়া স্টোর মূলত হাঁস-মুরগি ও গরু-ছাগলের খাবারের দোকান। পাশাপাশি কিছু পশু চিকিৎসার ওষুধও বিক্রি করা হয়। এটি প্রচলিত অর্থে মুদিদোকান নয়।”

সুপারিশপ্রাপ্তদের দাবি ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

অভিযোগের বিষয়ে মায়ের দোয়া স্টোরের স্বত্বাধিকারী মনির হোসাইন বলেন, “আমি হাঁস-মুরগির খাবারের পাশাপাশি মুদি ব্যবসাও করি।”

জিসান এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী খালেকুজ্জামান হিরণ বলেন, “যেখানে সাইনবোর্ড টানানো দেখেছেন, সেটিই আমার ঘর, আর সেটিই আমার দোকান।”

এদিকে সুপারিশপ্রাপ্ত অন্য প্রতিষ্ঠান লাবিব এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী সায়েদুজ্জামান হাদিস বলেন, “আমার মুদির দোকান বাররী বাজারে আছে। কিন্তু বাকি যে দুজনকে সুপারিশ করে পাঠানো হয়েছে, তাদের কোনো মুদির দোকান নেই। অথচ যে ১৩ জনকে বাদ দেওয়া হয়েছে, তাদের মধ্যে অনেকেরই প্রকৃত মুদির দোকান ছিল।”

মন্তব্য করতে নারাজ তদন্ত কর্মকর্তা

এ বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা ও উপজেলা পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের মদন শাখার ব্যবস্থাপক হুমায়ূন কবির বলেন, “আমি তদন্ত প্রতিবেদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে জমা দিয়েছি। এ বিষয়ে এর বেশি কোনো মন্তব্য করতে আমি রাজি নই।”

মদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাদির হোসেন শামীম বলেন, “এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

পিডিএস/এমএইউ

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়