লামা (বান্দরবান) প্রতিনিধি
ভাঙনের কবলে বসত ঘর কবরস্থান চলাচল রাস্তা
লামায় টানা বৃষ্টিতে পাহাড় ধ্বস

গত তিন দিনের টানা বর্ষণে লামা পৌরসভার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত। উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধ্বসে বাসিন্দাদের বাড়ি ঘর ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার খবর পাওয়াগেছে। উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির মনিটরিং সেল বিভিন্ন এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির বিষয় খোঁজখবর নিচ্ছেন।
জানা যায়, গত তিন দিনের টানা বর্ষণে আজিজনগর ইউনিয়নের হীমছড়ি পাড়ায় পাহাড় ধ্বসে বাসিন্দাদের স্থাপনার আংশিক ক্ষতি হয়েছে। এছাড়াও লামা পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। লামা-আলীকদম সড়কের কয়েকটি পয়েন্ট ডুবে যাওয়ায়, লামা-আলীকদম সড়ক যোগাযোগ দু'দিন ধরে বন্ধ রয়েছে।
স্থানীয় সুত্রগুলো জানায়, টানা বর্ষণে নদী খাল ছড়ার পানি উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে ক্ষেতের ফসলসহ বেশ কয়েকটি কৃষি খামার ভেসে গেছে। পাহাড় ধ্বসে দুর্গম এলাকার রাস্তা-ঘাট বন্ধ হয়ে যোগাযোগ ব্যহত হচ্ছে। অতিবর্ষনে বিভিন্নস্থানে গোদা বাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ার খবর পাওয়াগেছে। তবে এর সঠিক হিসেব এখনো পাওয়া যায়নি। ৭ জুলাই দুপুরে জমিন পরিদর্শনে লামা উপজেলা প্রশাসক নির্বাহী অফিসার পিআইও এবং পৌরসভা প্রকৌশলী পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের ক্ষতিগ্রস্ত জায়গা ঘুরে দেখেন।
লামা পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডে মধুঝিরির তীব্রস্রোতে বাসিন্দা সামচুল আলম ও আকবরের বসত বাড়ি ও পাশে একটি ব্রিজ ধ্বসে পড়ার উপক্রম হয়েছে। এছাড়া একই ঝিরির আরেক অংশে কবরস্থানসহ চলাচলের রাস্তা, কালভার্ট, সীঁড়িসহ ঝিরির পাড় ভেঙে যাচ্ছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মঈন উদ্দিন এসব স্থান সরেজমিন পরিদর্শন করে জানান, এতদবিষয়ে বান্দরবান পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবহিত করা হয়েছে এবং ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
তিঁনি আরো বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে ও দুর্যোগ মনিটরিং সেল সর্বদা খোঁজখবর রাখছেন। সম্ভাব্য ক্ষতি এড়ানোর জন্য পাহাড়ের ঝুঁকিপূর্ণ ঢালুতে বসবাসরত ও নিচু এলাকার বাসিন্দাদেরকে আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান নেয়ার জন্য বারংবার তাগাদা দিয়ে গত চারদিন আগে থেকে সতর্ক করা হচ্ছে। বিগত দিনের অভিজ্ঞতার আলোকে আশ্রয় কেন্দ্র ও উদ্ধার টিম প্রস্তুত রয়েছে। লামা পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডস্থ মধুঝিরি, মাতামুহুরি নদীর সাবেক বিলছড়ি, ফকিরপাড়া, রাজবাড়ি কুড়ালিয়া টেকসহ লামা খালের বিভিন্ন স্থানে পানির তীব্র স্রোতে ভাঙন শুরু হয়েছে।
ভাঙ্গন রোধে বান্দরবান পানি উন্নয়ন বোর্ডের তড়িৎ হস্তক্ষেপ কামণা করেছেন স্থানীয়রা।









































