মঞ্জুরুল হক, জামালপুর
চার বছর আগে সার ব্যবসায়ী নওশের আলী হত্যাকাণ্ড
মাদারগঞ্জে উপজেলা চেয়ারম্যান রিমুর মুক্তির দাবিতে হরতাল পালিত

জামালপুরের মাদারগঞ্জে চার বছর আগে সার ব্যবসায়ী নওশের আলী হত্যার ঘটনায় করা মামলায় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রায়হান রহমতুল্লাহ রিমুকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। এর রায়ের বিরুদ্ধে তার মুক্তির দাবিতে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২ জুলাই) এই কর্মসূচি পালন করে চেয়ারম্যান রিমুর সমর্থকেরা। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন।
মঙ্গলবার সকাল থেকেই চেয়ারম্যান রিমুর সমর্থকেরা মাদারগঞ্জের বিভিন্ন রাস্তায় অবস্থান নিয়ে মিছিল ও সড়ক অবরোধ করে। জামালপুর-মাদারগঞ্জ রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিরোধ তৈরি করে তারা। গাছের গুঁড়ি ফেলে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। হরতালে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বিদ্যালয়, দোকানপাট, অফিস বন্ধ ছিল। রিমুর মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকাল পুরো উপজেলায় হরতাল চলবে বলে ঘোষণা করেছেন তার সমর্থকরা।
জানা গেছে, মাদারগঞ্জ উপজেলা পরিষদের নব নির্বাচিত চেয়ারম্যান রায়হান রহমতুল্লাহ রিমু। শপথ গ্রহণ শেষে মঙ্গলবার (২ জুলাই) তার দায়িত্ব গ্রহণের কথা ছিল। সার ব্যবসায়ী নওশের আলী হত্যা মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। সোমবার (১ জুলাই) বিকালে জামালপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাসুদ পারভেজ এই আদেশ দেন। ফলে চেয়ারে বসার আগের দিন তাকে কারাগারে যেতে হয়।
এদিকে আদালতের ওই আদেশের বিরুদ্ধে চেয়ারম্যান রিমুর সমর্থকরা মাদারগঞ্জে তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ ও অগ্নিসংযোগ করে। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী পুরো উপজেলায় হরতাল আহ্বান করে তার সমর্থকেরা।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ইউসুফ আলী জানান, ২০২০ সালের ২৫ এপ্রিল সন্ধ্যায় মাদারগঞ্জ উপজেলার বালিজুড়ি বাজারে সার ব্যবসায়ী নওশের আলী সন্ত্রাসীদ হামলায় আহত হন। পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। এ ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় রায়হান রহমতুল্লাহ রিমুর নাম উঠে আসে। পরে উচ্চ আদালত থেকে তিনি ৬ সপ্তাহের জামিনে ছিলেন।
জামিনে থাকা অবস্থায় ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তৃতীয় ধাপে প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যদিয়ে রায়হান রহমতুল্লাহ রিমু মাদারগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তবে রবিবার (৩০ জুন) তার জামিনের মেয়াদ শেষ হয়।
সোমবার (১ জুলাই) জেলার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে রায়হান রহমতুল্লাহ রিমু জামিন আবেদন করলে তা না-মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক।
পিডিএস/আরডি









































