তিন জেলায় অর্থনৈতিক অঞ্চল
কর্মসংস্থান ও অর্থনীতিতে প্রাণের সঞ্চার হোক

বাংলাদেশের অর্থনীতির বড় অনিশ্চয়তা উৎপাদন খাতে। মূলত এই অনিশ্চয়তা নিরসনের জন্য দেশের বিভিন্ন স্থানে গঠিত হয়েছে অসংখ্য অর্থনৈতিক অঞ্চল। যা দেশের অর্থনীতিতে ব্যাপক প্রাণের সঞ্চার করেছে। সেই ধারাবাহিকতায় এবার বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, রপ্তানি বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষে বরিশাল ও লালমনিরহাটে নতুন রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) এবং গাজীপুর, বরগুনা ও পিরোজপুরে অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গত মে মাসে অনুষ্ঠিত জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের করণীয় সংশ্লিষ্ট আলোচনায় কয়েকজন জেলা প্রশাসক নতুন ইপিজেড ও অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। সেই লক্ষে সরকার এরই মধ্যে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব ও সংশ্লিষ্টদের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। আমরা আশা করি, নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতেও গতি সঞ্চার করবে। এতে সমৃদ্ধ হবে দেশ।
বলা সংগত, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়-সংশ্লিষ্ট ছয়টি সিদ্ধান্ত স্বল্প (এক বছর), মধ্য (তিন বছর) এবং দীর্ঘ (পাঁচ বছর) মেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বরিশাল ও লালমনিরহাটে ইপিজেড এবং গাজীপুর, বরগুনা ও পিরোজপুরে অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের উদ্যোগ রয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশ এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন অথরিটির (বেপজা) অধীনে দেশে আটটি সরকারি ইপিজেড রয়েছে। এগুলো হলো- ঢাকা, চট্টগ্রাম, মোংলা, কুমিল্লা, ঈশ্বরদী, কর্ণফুলী, আদমজী ও উত্তরা ইপিজেড। কর ও শুল্ক সুবিধায় কাঁচামাল আমদানি এবং উৎপাদিত পণ্য সরাসরি বিদেশে রপ্তানি সহজ করাই এসব ইপিজেডের প্রধান কাজ। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জেলা ও মাঠ প্রশাসন অধিশাখার যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম খান গণমাধ্যমে বলেন, প্রতি বছরই ডিসি সম্মেলনে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রস্তাব আসে। গুরুত্ব বিবেচনায় সরকার স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করে। এবারও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। বলা প্রাসঙ্গিক যে, বর্তমানে আটটি ইপিজেড ও বেপজার অর্থনৈতিক অঞ্চলে মোট ৪৪৯ শিল্পপ্রতিষ্ঠান চালু রয়েছে। এর মধ্যে শতভাগ বিদেশি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ২৫৮টি, যৌথ মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ৪৯টি ও শতভাগ দেশীয় প্রতিষ্ঠান ১৪২টি। তবে যে উদ্দেশ্য নিয়ে অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠিত হয়েছে তার সুফল এখনো কাঙ্ক্ষিত হারে দৃশ্যমান নয়।
বলা বাহুল্য, অর্থনীতি অঞ্চলগুলোতে নানা সমস্যা বিরাজমান। অবকাঠামোগত সমস্যা, বিদ্যুৎ গ্যাস ও জ্বালানি সমস্যা তো রয়েছেই। এ ছাড়া দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ব্যবসা শুরুর ক্ষেত্রে অনেক সমস্যায় পড়তে হয়। এসব এলাকায় শ্রমিকদের আবাসন এখনো গড়ে ওঠেনি। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা অবকাঠামোসহ প্রণোদনা পান না। বিদেশিরা এসে যেন কারখানা স্থাপন করতে পারেন, সেটি দেখার দায়িত্ব রয়েছে বেজার। একাধিক অফিসে যেন বিনিয়োগকারীদের যেতে না হয়, সে ব্যবস্থা করতে হবে। বেজার কার্যক্রম ডিজিটালাইজ করতে হবে। এ ছাড়া আশুলিয়াসহ যেসব এলাকায় কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে সেসব এলাকার বেকার শ্রমিকদের পুনর্বাসন, কাজে নিয়োজিত করতে অর্থনীতি অঞ্চলগুলো ব্যবহার করা যেতে পারে। পাশাপাশি এসব অঞ্চলে বিনিয়োগের পরিবেশ নিয়েও চিন্তা করা উচিত। ব্যবসার পরিবেশ ও বিশেষায়িত অঞ্চলে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে সরকার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সদিচ্ছা যথেষ্ট। সেক্ষেত্রে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নেবে- এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
"





































