নাহিদ হাসান রবিন

  ৯ ঘণ্টা আগে

মতামত

মূল্যবোধের সংকট : ঘর ও শিক্ষালয়ের দায়

একটি বিশাল অট্টালিকা যদি কেবল চকচকে ইট আর আধুনিক কাঁচ দিয়ে ঘেরা থাকে কিন্তু তার ভিত্তি যদি নড়বড়ে হয়, তবে সামান্য কম্পনেই তা ধূলিসাৎ হয়ে যায়। আমাদের বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা এবং তার ফলস্বরূপ গড়ে ওঠা সমাজব্যবস্থা আজ ঠিক সেই নড়বড়ে ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে থাকা এক জৌলুসপূর্ণ প্রাসাদের মতো। আমরা বাইরে থেকে দেখছি শিক্ষার হার বাড়ছে, সর্বোচ্চ মেধা তালিকায় নাম আসার বন্যায় ভেসে যাচ্ছে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম, দেশজুড়ে বড় বড় দালানকোঠা আর নামিদামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সমারোহ। কিন্তু এই চাকচিক্যের আড়ালে যে ধসে পড়া নৈতিকতার কঙ্কাল লুকিয়ে আছে, তা আমরা সচেতনভাবে এড়িয়ে যাচ্ছি। শিক্ষা যদি হয় মানুষের ভেতরের অন্ধকার দূর করার প্রদীপ, তবে প্রশ্ন জাগে, সেই আলো কি আমাদের আগামী প্রজন্মের হৃদয়ে পৌঁছাচ্ছে, নাকি কেবল পরীক্ষার উত্তরপত্রের সীমানায় আটকা পড়ে আছে? শিক্ষা কেবল তথ্য আহরণ বা কোনো বিশেষ দক্ষতা অর্জনের নাম নয়; শিক্ষা হলো সেই প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে একজন মানুষ তার ভেতরের পশুত্বকে দমন করে মনুষ্যত্বকে জাগিয়ে তোলে। কিন্তু আজ আমরা এমন এক যান্ত্রিক প্রতিযোগিতার সংস্কৃতি গড়ে তুলেছি যেখানে প্রকৃত মানুষ হওয়ার চেয়ে তথাকথিত সফল হওয়াটা অনেক বেশি জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার রন্ধ্রে রন্ধ্রে আজ যে গলদ বাসা বেঁধেছে, তার শুরুটা হয় একেবারে শৈশব থেকে। একটি শিশু বিদ্যালয়ে যখন প্রথম পা দেয়, তখন থেকেই তার মাথায় ঢুকিয়ে দেওয়া হয় যে তাকে অন্যের চেয়ে শ্রেষ্ঠ হতে হবে। এই ‘অন্যের চেয়ে ভালো করার’ মন্ত্রটি আপাতদৃষ্টিতে অনুপ্রেরণামূলক মনে হলেও এর ভেতরে লুকিয়ে আছে এক ভয়াবহ বিষ। এই প্রতিযোগিতা তাকে শেখায় না কীভাবে পাশে থাকা বন্ধুটির সঙ্গে দুপুরের খাবার ভাগ করে খেতে হয়, বরং তাকে শেখায় কীভাবে বন্ধুটিকে টপকে এক নম্বর আসনটি দখল করতে হয়। ফলে সহমর্মিতা, ত্যাগ আর ভ্রাতৃত্বের মতো কোমল গুণগুলো অঙ্কুরেই বিনষ্ট হয়ে যায়। আমরা পাঠ্যবইয়ে হয়তো ‘সততাই সর্বোৎকৃষ্ট পন্থা’ কিংবা ‘পরোপকারই ধর্ম’ জাতীয় নীতিবাক্যগুলো পড়াই, কিন্তু বাস্তব জীবনে সেই শিশুটি যখন দেখে তার চারপাশের আদর্শ আর আচরণের মধ্যে আকাশ-পাতাল ব্যবধান, এটিই তার মনে প্রথম নৈতিক ফাটলটি তৈরি করে। লোহাকে পিটিয়ে যেমন ইস্পাত করা হয়, মানুষের মনকেও তেমনি শিক্ষার আগুনে পুড়িয়ে খাঁটি সোনায় পরিণত করার কথা ছিল। কিন্তু আমরা সেই লোহাকে সোনার রঙ দিয়ে ঢেকে দিয়েছি মাত্র, যা সামান্য ঘষাতেই তার আসল রূপ প্রকাশ করে দেয়।

শিক্ষালয়ের ভূমিকার সমান্তরালে নৈতিকতা গঠনে পরিবারের ভূমিকা, বিশেষ করে অভিভাবকদের দায়বদ্ধতা আজ সবচেয়ে বেশি প্রশ্নের মুখে। পরিবার হলো নৈতিকতার আদি পাঠশালা এবং মা-বাবা হলেন সেই পাঠশালার প্রধান পরিচালক। কিন্তু বর্তমান সময়ের অধিকাংশ অভিভাবক সন্তানদের মানুষ করার চেয়ে প্রতিযোগিতার বাজারে নামানোর দৌড়ে বেশি আগ্রহী। একটি শিশু যখন কথা বলতে শেখে, তখন থেকেই তাকে শেখানো হয় বড় হয়ে তাকে উচ্চপদে আসীন হতে হবে কারণ তাতে কাড়ি কাড়ি টাকা আর সামাজিক সম্মান আছে। কিন্তু তাকে খুব কমই বলা হয় যে বড় হয়ে তাকে একজন সৎ মানুষ হতে হবে। যখন খাবারের টেবিলে আলোচনা হয় কেবল কার সন্তান কত টাকা বেতনে চাকরি পেল কিংবা কার কত দামি গাড়ি হলো, তখন সেই পরিবারের সন্তানদের কাছে সফলতা মানেই হয়ে দাঁড়ায় বস্তুগত প্রাপ্তি। তারা নীতি-নৈতিকতাকে দরিদ্রের বিলাসিতা মনে করতে শুরু করে। এই ভোগবাদী মানসিকতা থেকেই জন্ম নেয় অপরাধ। একজন অভিভাবক যখন তার সন্তানের সামান্য অকৃতকার্য হওয়া মেনে নিতে পারেন না এবং তাকে মানসিকভাবে লাঞ্ছিত করেন, তখন সেই সন্তানটি জেদি এবং অসহিষ্ণু হয়ে ওঠে। সে শিখতে শুরু করে যে পৃথিবীতে জেতার জন্য যেকোনো পথ অবলম্বন করা বৈধ। অনেক অভিভাবক আজ নিজেদের অপূর্ণ স্বপ্ন সন্তানের মাধ্যমে পূরণ করতে চান। তারা সন্তানকে একটি স্বতন্ত্র মানুষ হিসেবে না দেখে নিজেদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধির হাতিয়ার হিসেবে দেখেন। ভালো ফল পাওয়ার নেশায় তারা সন্তানকে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত অতিরিক্ত পড়ার চাপে গোলকধাঁধায় বন্দী করে রাখেন। এই দমবন্ধ করা পরিবেশে শিক্ষার্থীর সৃজনশীলতা তো মরবেই, সেই সাথে মরে যায় তার সংবেদনশীলতাও। সে তার মা-বাবার চোখে ভালোবাসা খোঁজার বদলে কেবল প্রত্যাশার চাপ দেখতে পায়। যখন একজন অভিভাবক পরীক্ষার আগে সন্তানের হাতে অবৈধভাবে সংগ্রহ করা প্রশ্নপত্র তুলে দেওয়ার জন্য ব্যাকুল হন, তখন তিনি সেই সন্তানের বিবেককে চিরতরে অন্ধ করে দেন। সেই সন্তান বড় হয়ে যখন দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত হয়, তখন সেই দায়ভার কেবল শিক্ষাব্যবস্থার ওপর চাপিয়ে দিলে চলবে না; এর সিংহভাগ দায় ওই অভিভাবকের। কারণ তিনি তার সন্তানকে শিখিয়েছেন যে নিয়ম ভাঙাটা বীরত্বের কাজ যদি তাতে ব্যক্তিগত লাভ থাকে।

আমরা আজ ‘দক্ষ জনশক্তি’ তৈরির নেশায় এতটাই মত্ত যে, ‘ভালো মানুষ’ তৈরির বিষয়টি পাঠ্যসূচির বাইরে ঠেলে দিয়েছি। বিজ্ঞান, গণিত কিংবা প্রযুক্তিতে অগাধ পাণ্ডিত্য অর্জন করে একজন শিক্ষার্থী হয়তো মহাকাশে রকেট পাঠাতে পারবে কিংবা কোটি টাকার কলকব্জা তৈরি করতে পারবে, কিন্তু তার যদি নৈতিক শিক্ষার ভিত্তি না থাকে তবে সেই জ্ঞান হয়ে উঠতে পারে ধ্বংসাত্মক। একটি ধারালো ছুরি দিয়ে যেমন চিকিৎসক জীবন বাঁচান, তেমনি একজন অপরাধী তা দিয়ে প্রাণ কেড়ে নেয়। জ্ঞান হলো সেই ছুরির মতো; আর নৈতিকতা হলো সেই বিচারবুদ্ধি যা ঠিক করে দেয় ছুরিটি কোন কাজে ব্যবহৃত হবে। আজ সমাজে আমরা যে উচ্চশিক্ষিত দুর্নীতিবাজ বা হিংস্র মানসিকতার মানুষ দেখি, তারা কিন্তু অশিক্ষিত নয়। তারা আমাদের প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থারই ফসল। তারা সর্বোচ্চ ফলাফল করেছে, বড় সনদ নিয়েছে, কিন্তু অভাব ছিল কেবল একটি জিনিসের; মূল্যবোধের। তারা তথ্য জানে কিন্তু জীবনবোধ বোঝে না। তাদের মস্তিষ্ক পৃথিবীর বিশাল তথ্যের ভাণ্ডারে পূর্ণ, কিন্তু হৃদয়ে মানুষের প্রতি মমত্ববোধ নেই। নদী যেমন সাগরে মেশার আগে হাজারো বাঁক পেরিয়ে নিজেকে শান্ত ও গভীর করে তোলে, শিক্ষালয়ের লক্ষ্য হওয়া উচিত ছিল শিক্ষার্থীর চরিত্রকে সেই গভীরতা দেওয়া। কিন্তু আমরা নদীকে কেবল দ্রুতবেগে বইয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছি, তার তীরের গাছপালার যত্ন নিচ্ছি না। ফলে নদীভাঙছে, তীরের জনপদ প্লাবিত করছে কিন্তু শেষ পর্যন্ত তৃষ্ণা মেটাতে পারছে না।

শিক্ষালয়ে আজ খেলাধুলা, বিতর্ক কিংবা সাংস্কৃতিক চর্চার জায়গা দখল করে নিয়েছে অতিরিক্ত পড়ার স্তূপ। অথচ এই কার্যক্রমগুলোই ছিল নৈতিকতা চর্চার প্রধান ক্ষেত্র। খেলার মাঠে একটি শিশু শেখে কীভাবে পরাজয় মেনে নিতে হয়, কীভাবে দলগতভাবে কাজ করতে হয়। একটি বিতর্ক প্রতিযোগিতায় সে শেখে ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে নিজের যুক্তি তুলে ধরতে। কিন্তু আমরা যখন শিক্ষাব্যবস্থাকে কেবল চার দেয়ালের ভেতর বন্দি করে পরীক্ষার সূচিতে বেঁধে ফেললাম, তখন থেকেই আমাদের মূল্যবোধের অবক্ষয় ত্বরান্বিত হলো। একজন শিক্ষক আগে ছিলেন মানুষ গড়ার কারিগর, যার আদর্শ দেখে শিক্ষার্থীরা অনুপ্রাণিত হতো। আজ সেই শিক্ষকও অনেক ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতার অংশ হয়ে পড়েছেন। যখন শিক্ষকতা কেবল একটি পেশা হয়ে দাঁড়ায় এবং তার লক্ষ্য থাকে কেবল নির্ধারিত পাঠ শেষ করা, তখন আর আদর্শের আদান-প্রদান ঘটে না। শিক্ষকের মর্যাদা যখন সমাজ ধুলোয় মিশিয়ে দেয়, তখন সেই শিক্ষকের

কাছ থেকে উচ্চ নৈতিকতা আশা করাও কঠিন। তবুও একজন আদর্শ শিক্ষকই পারেন ক্লাসরুমের একঘেয়ে পড়া শেষ করে একটি মানবিক গল্প শুনিয়ে শিক্ষার্থীর হৃদয়ে দয়ার বীজ বপন করতে।

এখানে একটি বিষয় এড়িয়ে যাওয়ার উপায় নেই যে, শিক্ষার্থীরা আসলে এই ত্রুটিপূর্ণ ব্যবস্থার শিকার। তাদের ভেতরেও ভালো কিছু করার, মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সুপ্ত ইচ্ছা থাকে। কিন্তু সমাজ যখন কেবল তাদের ফলাফল দেখে বিচার করে, তখন তারা বাধ্য হয়ে সেই অসুস্থ প্রতিযোগিতায় শামিল হয়। সমাজে আমরা আজ কাকে বীরের সম্মান দিচ্ছি? যে সৎ কিন্তু সাধারণ, তাকে কেউ চেনে না; অথচ যে অসাধু উপায়ে বিপুল ক্ষমতার অধিকারী হয়েছে, তাকেই সবাই তোষামোদ করছে। এই সামাজিক স্বীকৃতি যখন অনৈতিকতার পক্ষে যায়, তখন শিক্ষার্থীরা বিভ্রান্ত হয়। তারা ভাবে, নৈতিকতা মেনে চললে হয়তো জীবনে পিছিয়ে পড়তে হবে। এই ধারণাটি একটি জাতির জন্য ক্যানসারের চেয়েও ভয়ংকর। বর্তমানের অসহিষ্ণু সমাজ কাঠামোর জন্য আমাদের নৈতিক শিক্ষার অভাবই প্রধানত দায়ী। রাস্তায় তুচ্ছ ঘটনায় মানুষ ক্ষিপ্ত হয়ে উঠছে, সামান্য স্বার্থের দ্বন্দ্বে ভেঙে যাচ্ছে বছরের পর বছর লালিত সম্পর্ক। এর কারণ হলো আমাদের ভেতরে ক্ষমার গুণটি নেই, সহিষ্ণুতা নেই। শিক্ষা যদি মানুষের মনের কোণে দয়া আর করুণার উৎস তৈরি করতে না পারে, তবে সেই শিক্ষা কেবল অহংকারই বাড়িয়ে দেয়। একটি ফলবতী গাছ যেমন ফলের ভারে নুয়ে পড়ে, প্রকৃত শিক্ষিত মানুষও তেমনি বিনয়ী হওয়ার কথা। কিন্তু আমাদের সনদের বোঝা আমাদের আরো বেশি উদ্ধত করে তুলছে।

বাস্তবতা হলো, যতক্ষণ পর্যন্ত আমরা শিক্ষার মূল লক্ষ্য হিসেবে ‘মানুষ হওয়াকে’ সবার উপরে স্থান না দেবো, ততক্ষণ কোনো পরিবর্তনই স্থায়ী হবে না। আমাদের ফিরে যেতে হবে সেই শিক্ষায়, যেখানে ফলাফলের চেয়ে চরিত্রের কদর বেশি। পাঠ্যবইয়ের পাতায় নৈতিকতার গল্প পড়ানোর চেয়ে বেশি প্রয়োজন সেই গল্পগুলোকে বাস্তবে রূপ দেওয়া। অভিভাবকদের দৃষ্টিভঙ্গির আমূল পরিবর্তন এখানে প্রধান শর্ত। যখন একজন পিতা তার সন্তানকে বলবেন যে তুমি দ্বিতীয় হলেও সমস্যা নেই কিন্তু কখনো মিথ্যে বলো না, তখন সেই সন্তানের সাহস এবং নৈতিকতা বহুগুণ বেড়ে যায়। পরিবারে এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে যেখানে শিশুরা সততা এবং পরোপকারের জীবন্ত উদাহরণ দেখতে পায়। শিক্ষকদের মর্যাদা ফিরিয়ে দিতে হবে যাতে শ্রেষ্ঠ মেধাবীরা এই পেশায় আসেন এবং নিজেদের আচরণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সামনে আদর্শের প্রতীক হয়ে দাঁড়ান। সর্বোচ্চ ফলাফল অর্জনের উন্মাদনা কমিয়ে শিক্ষার গুণগত মান এবং শিক্ষার্থীর মানসিক বিকাশের দিকে নজর দেওয়া এখন সময়ের দাবি। মনে রাখতে হবে, আমরা যদি কেবল যন্ত্র তৈরি করি তবে সেই যন্ত্র

একদিন আমাদেরই নিয়ন্ত্রণ করবে। কিন্তু আমরা যদি মানুষ তৈরি করতে পারি, তবে সেই মানুষেরাই একটি সুন্দর পৃথিবী উপহার দেবে।

এখন ভাববার সময় এসেছে, শিক্ষা যেন কেবল রুটিরুজির মাধ্যম না হয়ে জীবনবোধের আলো হয়। অন্ধকার যেমন প্রদীপের নিচে লুকিয়ে থাকে, আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাও তেমনি নীতিহীনতার অন্ধকারে ঢাকা পড়ছে। মাটির টান ছাড়া যেমন বৃক্ষ বাঁচে না, তেমনি নৈতিকতার শক্ত ভিত ছাড়া কোনো জাতি বিশ্বদরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে না। এখনো সময় আছে মেধা আর মননকে মুক্ত করে মূল্যবোধের খোলা আকাশে ওড়ানোর। আগুনের পরশমণি যেমন লোহাকে খাঁটি করে, তেমনি সত্যিকার শিক্ষাই পারে আমাদের জীর্ণ সমাজকে নতুন করে গড়ে তুলতে। প্রদীপ যখন জ্বলে, তখন সে চারপাশকে আলোকিত করে; আমাদের প্রতিটি শিশু যেন একেকটি প্রদীপ হয়ে জ্বলে ওঠে, নম্বরের আলোয় নয়, বরং চরিত্রের আলোয়। তবেই আমরা এমন এক প্রজন্ম পাব যারা কেবল পৃথিবীর বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে না, বরং পৃথিবীকে আরো শান্তিময় ও মানবিক করে তুলবে। শিক্ষার মূল সুরটি যখন নৈতিকতার তারে বাজবে, তখনই গড়ে উঠবে আমাদের কাঙ্ক্ষিত সুন্দর ও বাসযোগ্য সমাজ। মূল্যবোধের সেই জয়গান শুরু হোক আজ থেকেই, আমাদের প্রতিটি ঘর এবং প্রতিটি শিক্ষালয় থেকে।

লেখক : কথাশিল্পী, সাংবাদিক ও কলাম লেখক

[email protected]

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়