নরসিংদী ও রায়পুরা প্রতিনিধি
নরসিংদীতে সংঘর্ষ গুলিতে যুবক নিহত

নরসিংদীর রায়পুরায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ববিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ফের দফায় দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে অনিক (২০) নামে এক যুবক নিহত হন। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত কয়েকজন আহত হয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার ভোরে চলা উপজেলার চরাঞ্চলের নিলক্ষা ইউনিয়নের হরিপুর ও দড়িগাঁ এলাকায় স্থানীয় নাজিম উদ্দিন গ্রুপ ও আলাল মুন্সি গ্রুপের অনুসারীদের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
নিহত অনিক দড়িগাঁ পূর্বপাড়া এলাকার ওসমান মেম্বারের ছেলে এবং নাজিম উদ্দিন গ্রুপের সমর্থক বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পূর্ব বিরোধের জেরে দীর্ঘদিন ধরে এলাকা ছাড়া ছিলেন আলাল মুন্সি ও জবা মেম্বারের অনুসারীরা। মঙ্গলবার ভোরে স্পিডবোটযোগে ভাড়াটিয়া অস্ত্রধারীদের নিয়ে তারা নিলক্ষা ইউনিয়নে প্রবেশ করে নাজিম উদ্দিনের সমর্থকদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষ দ্রুত হরিপুর ও দড়িগাঁ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে এবং ভোর থেকে শুরু হয়ে কয়েক দফায় সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত চলতে থাকে। সংঘর্ষ চলাকালে প্রতিপক্ষের ছোড়া গুলিতে মাথায় গুলিবিদ্ধ হন অনিক। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে স্বজনরা উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। একই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন বকুল মিয়ার ছেলে রাজু এবং অহিদ মিয়ার ছেলে মোস্তফা। এ ছাড়া আরো কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে অন্য আহতদের পরিচয় জানা যায়নি।
খবর পেয়ে পুলিশ, উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরজ করছে। উল্লেখ্য, গত বছরের ৮ ডিসেম্বর একই বিরোধকে কেন্দ্র করে নাজিম উদ্দিন ও আলাল মুন্সি গ্রুপের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে কুয়েত প্রবাসী মামুন মিয়া নিহত হন। ওই ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছিলেন। নিহত মামুনও নাজিম উদ্দিন গ্রুপের সমর্থক ছিলেন। ঘটনার পর প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। স্থানীয়দের দাবি, ওই সংঘর্ষের জের ধরেই আলাল গ্রুপের লোকজন এলাকায় উঠাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবারের এ রক্তক্ষয়ী ঘটনা ঘটেছে।
রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা বলেন, ‘বর্তমানে এলাকায় গোলাগুলি বন্ধ রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তল্লাশি অভিযান চলছে। অভিযুক্তরা এলাকা ছাড়া রয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ রায়পুরা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) প্রবীর কুমার ঘোষ বলেন, ‘পূর্ববিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন এবং একাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’
স্থানীয় সূত্রে আরো জানা গেছে, পূর্ব বিরোধের জেরে দীর্ঘদিন ধরে এলাকার বাইরে ছিলেন আলাল মুন্সি ও জবা মেম্বার। মঙ্গলবার ভোরে স্পিডবোটে নিলক্ষা ইউনিয়নে প্রবেশ করে ভাড়াটিয়া অস্ত্রধারীদের সহযোগিতায় নাজিম উদ্দিনের অনুসারীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় আলাল মুন্সির অনুসারীরা। একই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হওয়া আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
"




































