কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি
তিন মাস পর ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশন হাসপাতাল চালু

দীর্ঘ প্রায় তিন মাস বন্ধ থাকার পর পুনরায় চালু হয়েছে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগরে অবস্থিত ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশন হাসপাতাল। গতকাল সোমবার দুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে হাসপাতালটির চিকিৎসা কার্যক্রম পুনরায় উদ্বোধন করা হয়।
হাসপাতাল পুনরায় চালু অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষে আমন্ত্রিত অতিথি ছিলেন রণজিৎ চন্দ্র শীল। এ সময় উপস্থিত ছিলেন হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন চা বাগানের পঞ্চায়েত নেতারা, শ্রমিক প্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি।
জানা যায়, ডানকান্স গ্রুপ পরিচালিত ৫০ শয্যার এই দাতব্য হাসপাতালটি দীর্ঘদিন ধরে শমশেরনগরসহ আশপাশের চা বাগান এলাকার শ্রমিক ও নিম্ন আয়ের মানুষের চিকিৎসাসেবার অন্যতম ভরসাস্থল হিসেবে পরিচিত। তবে গত ২৭ মার্চ চিকিৎসাধীন অবস্থায় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ও চা শ্রমিক পরিবারের সদস্য ঐশী রবিদাস (১৪)-এর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হাসপাতালে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শমশেরনগর চা বাগানের রবিদাস টিলার বাসিন্দা বাবুল রবিদাসের মেয়ে ঐশী রবিদাস মাথাব্যথাজনিত সমস্যায় ২৬ মার্চ রাতে হাসপাতালে ভর্তি হন। পরদিন সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হলে স্বজন ও শ্রমিকদের একটি অংশ ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তোলেন। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা হাসপাতালে বিক্ষোভ প্রদর্শন, ফুলের টব ভাঙচুর এবং চিকিৎসক ও স্টাফদের অবরুদ্ধ করে রাখেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে নিরাপত্তাহীনতার কারণে চিকিৎসকরা হাসপাতাল ত্যাগ করলে হাসপাতালের চিকিৎসা কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ বন্ধ থাকার ফলে শমশেরনগর, মাধবপুর, মিরতিংগা, দেওরাছড়া, পাত্রখোলা, আলীনগর ও আশপাশের বিভিন্ন চা বাগানের হাজারো শ্রমিক পরিবার প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হন। জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হলে রোগীদের শ্রীমঙ্গল, কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কিংবা মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে যেতে হতো।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘চা শ্রমিক ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এই হাসপাতালের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার কারণে চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছিলেন। হাসপাতাল পুনরায় চালুর মাধ্যমে সেই সংকট অনেকটাই দূর হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’
"




































