চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
১০ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা, বরখাস্ত দুই

বেসরকারি ক্লিনিকে শেয়ার থাকা, অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগ এবং অফিস সময়ে সরকারি হাসপাতালে দায়িত্ব পালন না করে বেসরকারি ক্লিনিকে প্র্যাকটিস করার অভিযোগে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ১০ সরকারি চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। অভিযুক্ত চিকিৎসকদের মধ্যে ৮ জনই জেলার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে কর্মরত। এরই মধ্যে শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে দুই চিকিৎসককে সাময়িক বরখাস্তও করা হয়েছে। সম্প্রতি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের শৃঙ্খলা শাখা-২ থেকে এই মামলা রুজু করা হয়। স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী স্বাক্ষরিত ওই পত্রে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধি ৩(খ) মোতাবেক কেন তাদের চাকরি থেকে বরখাস্ত বা উপযুক্ত দণ্ড প্রদান করা হবে না- তা জানতে চাওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে পত্র প্রাপ্তির ১০ কর্মদিবসের মধ্যে অভিযুক্তদের লিখিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগের বিবরণে জানা যায়, জেলা হাসপাতাল সংলগ্ন ম্যাক্স হসপিটালে সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে অনুমতি ব্যতিত ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা ও শেয়ারহোল্ডার হওয়ার অভিযোগে ৬ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়েছে। তারা হলেন- চাঁপাইনবাবগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. রাফিজা নাসরিন, মেডিকেল অফিসার ডা. খায়রুন নেশা, মেডিকেল অফিসার ডা. শাহরিনা ইসলাম, শিশু বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. রেজাউল করিম, অর্থোপেডিক্স বিভাগের জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. মো. ইসমাইল হোসেন এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার মহারাজপুর উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার ডা. মোসা. মুনিরা খাতুন। এছাড়া শহরের সিটি ক্লিনিকে শেয়ার থাকার অভিযোগে জেলা হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. সামসুল আলম রাশেদের বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের করা হয়েছে।
অন্যদিকে, অনুমতি ছাড়া সরকারি হাসপাতাল ত্যাগের অভিযোগে জেলা হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. রুমালি খাতুন ও মেডিকেল অফিসার দিলরুবা ইয়াসমিনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এছাড়া অফিস সময়ে নিজের কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন না করে শহরের আরেকটি বেসরকারি ক্লিনিক অ্যাপেলো হাসপাতালে কর্মরত থাকা এবং সেখানে সাংবাদিকদের ক্যামেরা দেখে দৌড়ে পালানোর ঘটনায় ডা. মো. ইনজামাম-উল হকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাকে ইতিমধ্যে ভোলার মনপুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বদলি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) ডা. মাহবুব আলম জানান, অফিস চলাকালীন হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. সামসুল আলম রাশেদ বেসরকারি ক্লিনিকে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা তাকে হাতেনাতে ধরার পর বিভাগীয় মামলা রুজু হয় এবং বর্তমানে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, শুধুই জেলা হাসপাতালের মোট ৮ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে এই বিভাগীয় মামলা হয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. একেএম শাহাব উদ্দীন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, জেলায় পেশাগত শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে ডা. ইনজামাম-উল-হক এবং ডা. সামসুল আলম রাশেদসহ মোট দুই চিকিৎসককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সরকারি দায়িত্বে অবহেলা ও অনিয়মের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্য বিভাগের এই কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
"







































