রফিকুল ইসলাম, শিবচর (মাদারীপুর)

  ২০ ঘণ্টা আগে

আড়িয়াল খাঁ নদে ভাঙন

ঝুঁকিতে শিবচরের উৎরাইল-শিবচর সড়কের সেতু

মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার উৎরাইল-শিবচর সড়কে আড়িয়াল খাঁ নদের ওপর নির্মিত সেতুর পাড়ে আবারও ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত বছরের বড় ধরনের ভাঙনের পর চলতি বর্ষাতেও একই স্থানে নতুন করে নদীভাঙন শুরু হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ভাঙনের কারণে সেতুটি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের জুন-জুলাই মাসে সেতুর পাড় সংলগ্ন প্রায় ২০০ মিটার এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। স্থানীয়দের ভাষ্য, সেতুর একটি পিলার একসময় নদীর পাড়ে থাকলেও ভাঙনের কারণে সেটি এখন নদীর অনেক ভেতরে চলে গেছে। এতে নদীর গতিপথও উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২৩ সালের ৪ নভেম্বর ৫৫০ মিটার দৈর্ঘ্য এবং ৯.৮০ মিটার প্রস্থের ‘লিটন চৌধুরী’ নামে সেতুটি যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়। সেতুটি নির্মাণের ফলে শিবচর সদরের সঙ্গে দত্তপাড়া, শিরুয়াইল, নিলখী ইউনিয়নের সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন হয়। ফলে এই অঞ্চলের লক্ষাধিক মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর হয়।

শিবচর উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, ৯৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে আড়িয়াল খাঁ নদের ওপর ৫৫০ মিটার দৈর্ঘ্য এবং ৯.৮০ মিটার প্রস্থের সেতুটিতে স্প্যান সংখ্যা ১১টি এবং পিয়ার সংখ্যা নয়টি। সেতুটির পাইলের সংখ্যা ১২৩টি, পাইলের দৈর্ঘ্য ৪৮ মিটার। সেতুর জন্য অ্যাপ্রোচ সড়কের (সংযোগ সড়ক) দৈর্ঘ্য ১.৫০ কিলোমিটার। ৯৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে সেতুটির নির্মাণ কাজ করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মো. মইন উদ্দীন বাঁশি ও হা-মিম ইন্টারন্যাশনাল।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সেতুর নিচে ও পাড়ঘেঁষে তীব্র ঘূর্ণিস্রোত সৃষ্টি হয়েছে। ঘূর্ণিস্রোতের আঘাতে বালুমাটির তীর ধসে প্রতিদিনই নদীতে পড়ছে। বিশেষ করে সেতুর নিচ থেকে দক্ষিণ প্রান্ত পর্যন্ত অংশে ভাঙনের তীব্রতা বেশি।

স্থানীয়দের দাবি, ভাঙন রোধে জরুরি ভিত্তিতে নদীশাসন ও তীর সংরক্ষণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হোক। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত এলাকা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

স্থানীয় বাসিন্দা জনি বলেন, “গত বছরই এখানে ভাঙন শুরু হয়েছে। সেতুর পাড়ে নদীতে প্রচন্ড ঘূর্ণিস্রোত তৈরি হয়। সেই ঘূর্ণিস্রোতের কারণেই ভাঙন হচ্ছে। গতবার ২০০ মিটারেরও বেশি এলাকা নদীগর্ভে চলে গেছে। এবারও প্রতিদিন একটু একটু করে পাড় ভাঙছে। এভাবে চলতে থাকলে সেতুটি বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়বে।”

স্থানীয় ইমতিয়াজ নামের এক শিক্ষক বলেন, গতবার বর্ষার শুরুতেই সেতুর নিচে অনেকদূর ভেঙেছে। এবারও ভাঙন শুরু হয়েছে। পুরো বর্ষায় আরও ভাঙার আশঙ্কা রয়েছে। এখনই যদি ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তবে সেতুটিও নদীগর্ভে চলে যেতে পারে।

শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এইচ এম ইবনে মিজান জানান, বিষয়টি আমি জেনেছি। ভাঙন সম্পর্কে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়