ভাঙন ঝুঁকিতে ছোট যমুনার বেড়িবাঁধ

প্রকাশ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০

বদলগাছী (নওগাঁ) প্রতিনিধি

নওগাঁর বদলগাছী উপজেলা দিয়ে প্রবাহিত ছোট যমুনা নদী। ২০১৮ সালের বন্যায় বেড়িবাঁধ ভেঙে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার সৃষ্টি হলেও সংস্কারের জন্য কোনো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়নি পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।

কদমগাছী গ্রামের জব্বার, সোহাগ, মিল্টনসহ স্থানীয়রা জানান, ২০১৮ সালে বন্যায় ছোট যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বাঁধে ভাঙন সৃষ্টি হয়। বাঁধটি রক্ষার্থে এলাকাবাসী কর্তৃপক্ষকে বারবার তাগাদা দিলেও কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় প্রায় ১ হাজার মিটার এলাকাজুড়ে নদীর ভাঙন বৃদ্ধি পেয়েছে। গত কয়েক দিনের ব্যবধানে প্রায় ৫০০ ফুট জমি ও পাঁচ থেকে ছয়টি বাঁশঝাড় ভেঙে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। মথরাপুর ইউপির ভারপাপ্ত চেয়ারম্যান মকবুল হোসেন বলেন, একাধিকবার পাউবো কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরও বাঁধটি সংস্কারে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। বেড়িবাঁধ ভেঙে পড়ায় উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় এলাকাবাসী স্বেচ্ছাশ্রমে ভাঙন রোধের চেষ্টা করেছে। জরুরি ভিত্তিতে বাঁধটি সংস্কার করা না হলে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করেন তিনি।

আধাইপুর ইউপি চেয়ারম্যান জাকির হোসেন চৌধুরী বলেন, ২০১৮ সালের বর্ষায় বদলগাছী উপজেলার ছোট যমুনা নদী ও তুলশীগঙ্গা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। ছোট যমুনা নদীর সেনপাড়া বাঁধের পাকা রাস্তার প্রায় ১ কিলোমিটার পানির নিচে তলিয়ে যায়। স্থানীয় প্রশাসন, চেয়ারম্যান-মেম্বার এবং এলাকাবাসীর সহযোগিতায় দিনরাত পরিশ্রম করে বালুর বস্তা দিয়ে তা রক্ষা করা হয়।

সরেজমিন তথ্য সংগ্রহকালে এলাকাবাসী জানান, ছোট যমুনা নদীর কদমগাছী বেড়িবাঁধ, দেউলিয়া, দোনইল, ইদ্রাকপুর, তাজপুর, পারসোমবাড়ী, এনায়েতপুরসহ বাঁধের প্রায় অর্ধশতাধিক স্থানে মারাত্মক ভাঙন দেখা দিলে কোনো রকমে রক্ষা করা হয়। কিন্তু ভাঙনের সেই স্থানগুলোতে এখন পর্যন্ত সংস্কারের কোনো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে ইউএনও মুহা. আবু তাহির বলেন, কদমগাছীর বেড়িবাঁধ ভাঙন রোধে এলাকাবাসীকে উদ্বুদ্ধ করে বিভিন্ন স্থান থেকে বাঁশ, বস্তা ও বালু দিয়ে স্বেচ্ছাশ্রমে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানটি রক্ষা করা হয়। বিষয়টি নিয়ে পাউবোর সঙ্গে কথা বলেছি।

পাইবো নওগাঁর উপসহকারী মো. সাহাদত হোসেন বলেন, ভাঙন কবলিত স্থানগুলো পরিদর্শন করেছি। নওগাঁ জেলা পাইবোর নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুজ্জামান খান বলেন, বাঁধটি সংস্কারের জন্য বরাদ্দ চেয়ে পত্র পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে কাজ শুরু করা হবে।

 

 

"