চরকায় কর্মসংস্থান আদমদীঘির ১৫ হাজার নারীশ্রমিকের

প্রকাশ : ১৪ আগস্ট ২০২০, ০০:০০

আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি

বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার শাঁওইল বাজারের সুতা ব্যবসাকে কেন্দ্র করে উপজেলার ৪০টি গ্রামের প্রায় ১৫ হাজার নারীশ্রমিক সফলতার মুখ দেখেছেন। ফিরেছে সংসারের সচ্ছলতা, দূর হয়েছে দরিদ্রতা।

উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শাঁওইল বাজারের শীতবস্ত্র ও সুতা ব্যবসাকে কেন্দ্র করে গ্রামের অসহায় মহিলারা খুঁজে পেয়েছেন কাজের ঠিকানা, উপার্জন করছেন অর্থ। প্রায় দেড় যুগ আগে শাঁওইল বাজারের তেমন কোনো পরিচিতি ছিল না। শাঁওইল, দত্তবাড়ী, পুশিন্দা, নিমাইদীঘি লক্ষ¥ীকুল, মোহনপুর, মঙ্গলপুর, বিনাহালী, ধামাইল, শ্যামপুরসহ কয়েকটি গ্রামের তাঁতিদের তৈরি চাদর, গামছা কম্বল নিয়ে চলত শাঁওইল বাজার। সুতার মূল্য বৃদ্ধি আর তাঁতের সুতার তৈরি সামগ্রীর চাহিদা কমে যাওয়ায় ওই এলাকার তাঁতিদের জীবনে নেমে আসে দুর্ভোগ। পরবর্তী সময়ে ৯০ দশকের শুরুতে সান্তাহার এলাকার কিছু পুরাতন ব্যবসায়ী শাঁওইল বাজারে উলের ব্যবসা শুরু করেন। পুরাতন ওই উলের ব্যবসায় বদলে দেয় শাঁওইল এলাকার তাঁতিদের ভাগ্য। সুতার পরিবর্তে তারা পুরাতন উল দিয়ে চাদর, কম্বল তৈরি করতে শুরু করেন। উলের তৈরি কম্বল আর চাদরের মান ভালো আর দাম কম হওয়ার কারণে শাঁওইলের কম্বল আর চাদরের সুনাম অল্প সময়ে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। পর্যায়ক্রমে শীতবস্ত্রের পাশাপাশি উলের সুতার ব্যবসার ব্যাপক প্রসার ঘটে। ঢাকা থেকে গার্মেন্টসের অপ্রয়োজনীয় উলের ঝুট এনে শাঁওয়েল বাজারে ব্যবসায়ীরা শুরু করেন জমজমাট সুতার ব্যবসা। আর এই সুতা তৈরির কাজে জড়িয়ে পড়েন হাজার হাজার নারী শ্রমিক। শাঁওয়েল বাজারে কর্মরত শ্রমিকের সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার। এছাড়া বাজার পার্শ্ববর্তী প্রায় ৪০টি গ্রামের আরো প্রায় ১০ হাজার নারী শ্রমিক চরকায় সুতা তোলার কাজে নিয়োজিত রয়েছেন।

উপজেলার নিমায়দীঘি গ্রামের মকবুল সরদার, লাইলি বেগম, ছাহেরা বেওয়া, আশা, বেলি, রেবেকা, তছলিমা, বিউটি, ফিরোজা, ছুনু, লাবণী জানান, সুতা তোলার আগে একমাত্র স্বামীর আয়ের ওপর ভরসা করে খুব কষ্টে দিন চলত। চরকায় সুতা তোলার পর থেকে আমাদের সংসারে সচ্ছলতা ফিরে এসেছে। প্রতি কেজি উলের সুতা তুললে প্রায় ১০ থেকে ২০ টাকা পারিশ্রমিক পান। প্রতি মাসে তারা ৮০ থেকে ২০০ কেজি পর্যন্ত সুতা তুলতে পারেন বলে জানান তিনি। এতে আয় হয় প্রায় পাঁচ থেকে সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা।

শাঁওইল বাজারের অন্যতম ব্যবসায়ী গুলবর রহমান বলেন, নারী শ্রমিকদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফসল আজকের শাঁওইল বাজারের সফলতা।

 

"