মানিকগঞ্জের সিংগাইর

রাস্তা দখল করে প্রভাবশালীর মার্কেট স্থানীয় বাজার বন্ধ, ঘটছে দুর্ঘটনা

প্রকাশ : ১৪ আগস্ট ২০২০, ০০:০০

সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি

মানিকগঞ্জের সিংগাইরের সরকারি রাস্তা দখল করে বেশকিছু দোকান নির্মাণ করে ভাড়া দিয়েছেন স্থানীয় এক প্রভাবশালী। উপজেলা জয়মন্টপ ইউনিয়নের ছয়ানী বাজারের রাস্তার পূর্বপাশ দখল করে মো. জমসের আমীনের ছেলে মো. আনসার আলী এই দোকান করেছেন বলে অভিযোগ যাওয়া গেছে। এমন জনবহুল এলাকা দখল করে দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি কিভাবে বহাল তবিয়তে রয়েছে এ নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উপজেলার ছয়ানী বাজারের রাস্তা ৩টি ইউনিয়নের সঙ্গে সংযোগ হওয়ায় প্রতিদিন কয়েকশত যানবাহন চলাচল করে। ছয়ানী বাজারের পূর্বপাশে ৪০ ফুট প্রশস্ত রাস্তার বেশ কিছু জায়গা দখল করে মার্কেট নির্মাণ করে ডজনখানিক দোকান ভাড়া দিয়েছেন আনসার আলী। এতে ওই রাস্তায় যান চলাচলে দুর্ভোগসহ বিভিন্ন সময় র্দুঘটনা ঘটেছে। আগে ওই স্থানে এলাকায় উৎপাদিত সবজি নিয়ে সকালে নিয়মিত কাঁচাবাজার বসত। মার্কেট নির্মাণের পরে জায়গা সংকটে ওই অস্থায়ী বাজার বন্ধ হয়েছে। এখন অধিক করে তাদের ছয়ানী বাজারেই সবজি তুলতে হয়।

এদিকে সরকারি জমিতে স্থানীয় মার্কেট নির্মাণ ও জনদুর্ভোগের কথা চিন্তা করে দখলমুক্তের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন স্থানীয়রা। কিন্তু প্রশাসন এখনো উচ্ছেদ অভিযানের কোনো উদ্যোগ নেয়নি। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের পাশাপাশি রাজনৈতিক নেতারাও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।

সরকারি জায়গা ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করার জন্য লিজ নেওয়ার বিধান থাকলে তা নেননি আনসার আলী। উপরন্তু মার্কেট ভাড়া দিয়ে মোটা অঙ্কের আয় করলেও রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে সরকার। স্থানীয় আশকার আলী, আনিছ মৃধা, বিসু বেপারি, আবদুর রশিদ, জজ আলীসহ পঞ্চাশোর্ধ্ব অনেকেই অভিযোগ করেন, এ রাস্তা অনেক চওড়া ছিল। নিয়মিত এখানে সকালে কাঁচাবাজার বসত। এখন রাস্তা দখল করে আনছার আলী মার্কেট করায় জায়গা সংকটে তা বন্ধ হয়ে গেছে। রাস্তা সরু হওয়াতে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনাও ঘটছে। আমরা বলা সত্ত্বেও কোনো কর্ণপাত না করে উল্টো ক্ষমতার দাপট দেখায়। যার জন্য আমরা ভয়ে কিছু বলি না।

অভিযুক্ত মো. আনছার আলী বলেন, ‘আমি কোনো সরকারি জায়গায় দোকান করিনি। আমার জায়গায় দোকান করেছি। তবে আমার দুটি দোকান আংশিক রাস্তার পড়েছে। সরকার চাইলে আমি যেকোনো সময় ভেঙে দেব।’

জয়মন্টপ ইউপি চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার শাহাদৎ হোসেন বলেন, সার্ভেয়ার দিয়ে মাপে রাস্তার মধ্যে তার দুটি দোকান পড়েছে। আমি ইউএনও অফিসে রিপোর্ট দিয়েছি। তবে জয়মন্টপ ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (তহশিলদার) আবদুল মোন্নাফ বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নাই। আপনার কাছ থেকে শুনলাম। সার্ভেয়ার নিয়ে মেপে জায়গাটি কি অবস্থায় আছে দেখে আমার কর্তৃপক্ষকে জানাব।’ একইভাবে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মেহের নিগার সুলতানা বলেন, আমি সরেজমিনে গিয়ে দেখব। যদি সরকারি জায়গায় মার্কেট হয় অবশ্যই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব। ইউএনও রুনা লায়লা বলেন, আমি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

"