চট্টগ্রাম ব্যুরো

  ১৪ অক্টোবর, ২০২১

চসিক মেয়রের সঙ্গে সাক্ষাতে মার্কিন রাষ্ট্রদূত

চট্টগ্রামে বিনিয়োগে আগ্রহী যুক্তরাষ্ট্র

বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল আর মিলার বলেছেন, ভূ-প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যে বৈশিষ্ট্যে এবং পাহাড়-নদী-সমুদ্র-সমতট বেষ্টিত চট্টগ্রাম নগরীর নান্দনিক রূপে আমি মুগ্ধ ও বিমোহিত। এছাড়া এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর একটি প্রাচীনতম বাণিজ্যিক পোতাশ্রয়। এ কারণে সুদূর অতীতে পৃথিবীর নানা প্রান্তের বণিক, পর্যটক ও ব্যবসায়ীরা নৌবহর নিয়ে চট্টগ্রামে আসতেন। তখন থেকেই চট্টগ্রামের পরিচিতি, কদর, গুরুত্ব ও খ্যাতি ছিল। বর্তমানে চট্টগ্রামে বিনিয়োগের অপার সম্ভাবনার ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে বলে বিশ্বের বিনিয়োগকারীদের চোখ চট্টগ্রামের দিকে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও চট্টগ্রামে বিনিয়োগে আগ্রহী। বিশেষ করে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আইসিটি ও পর্যটন খাতে বিনিয়োগে ও সম্ভাব্যতা যাচাই করে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল আর মিলার গতকাল বুধবার বিকালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরীর সঙ্গে তার দপ্তরে সাক্ষাৎকালে এ কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, চট্টগ্রাম অচিরেই রিজিওনাল ও গ্লোবাল কানেক্টিভিটির কার্যকর যোগসূত্র হিসেবে সংযোজিত হবে। বিশ্বের বড় বড় অর্থনৈতিক শক্তির অংশগ্রহণ নিশ্চিত হলে তার ইতিবাচক প্রভাব শুধু বাংলাদেশ বা অঞ্চলগত নয়, বৈশ্বিকভাবে প্রতিফলিত হবে।

চসিকের মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল আর মিলারকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একান্ত অকৃত্রিম আগ্রহে চট্টগ্রাম এখন বৈশ্বিক সম্পদে পরিণত হচ্ছে। কর্ণফুলী তলদেশ দিয়ে নির্মিত ট্যানেল চট্টগ্রামকে ‘ওয়ান সিটি টু টাউন’ এ পরিণত করতে যাচ্ছে। রেলপথ কক্সবাজার পর্যন্ত সম্প্রসারিত হলে মিয়ানমার হয়ে চীন পর্যন্ত যোগাযোগ সংযোগের দ্বার খুলে যাবে। মিরসরাই ও দক্ষিণ চট্টগ্রামের অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলো শিল্পায়নের ক্ষেত্রে চমক দেখাবে। সমগ্র চট্টগ্রামই পর্যটন শিল্পের দ্যুতি ছড়াবে। তাই দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ-পরিস্থিতি তৈরি করে দিতে পারাটাই আমাদের এখন বড় কাজ। কাজটা সম্মিলিতভাবেই করতে হবে। এজন্য বৈশ্বিক অর্থনৈতিক শক্তির সহায়তা ও অংশগ্রহণ প্রয়োজন। অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে বিদেশি বিনিয়োগ ও সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) ওপর জোর দিতে চাই।

রোহিঙ্গাদের নিজদেশে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জরুরি ভিত্তিক উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে চসিক মেয়র বলেন, বাংলাদেশ একটি ঘন জনবসতিপূর্ণ জনপদ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মানবিক কারণে তাদের এ দেশে আশ্রয় দিয়েছেন। তাদের লালন-পালনের জন্য বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করে যাচ্ছেন। রোহিঙ্গা সমস্যা বিষয়টি আমাদের জন্য অত্যন্ত বিব্রতকর। এই পরিস্থিতি নিরসনের একমাত্র সমাধান হচ্ছে তাদের দ্রুত নিজ মাতৃভূমিতে প্রাপ্য মর্যাদা ও স্বীকৃতি অনুযায়ী প্রত্যাবাসন করা।

তিনি রাষ্ট্রদূতকে আরো অবহিত করেন যে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচক্ষণতা ও দূরদর্শিতার কারণে করোনার পরিস্থিতিকে সামাল দেওয়া সম্ভব হয়েছে। করোনা সংক্রমণ এখনো চলমান থাকলেও তার হার নিম্নমুখী।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন চসিক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শহীদুল আলম, মেয়রের একান্ত সচিব মুহাম্মদ আবুল হাশেম, প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম মানিক, যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের কাউন্সিলর ফর পলিটিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক অ্যাফেয়ার্স স্কট এ ব্র্যান্ডন, ইকোনমিক অ্যান্ড কর্মাশিয়াল স্পেশালিস্ট শাহীনুর সিকদার, ভারপ্রাপ্ত প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আলী, অতিরিক্ত প্রধান হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির চৌধুরী প্রমুখ।

 

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close