চট্টগ্রাম ব্যুরো

  ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২১

চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্র পরিদর্শনে তথ্যমন্ত্রী

মির্জা ফখরুলদের ওপর কর্মীদেরই আস্থা নেই

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, মির্জা ফখরুলদের ওপর কর্মীদেরই আস্থা নেই। যেই দলের এই অবস্থা সেই দলের মহাসচিবের হুইসেল বাজালেই আন্দোলনে মানুষ ঝাঁপিয়ে পড়ার বক্তব্য হাস্যকর। বিএনপি কোনো একটা অনুষ্ঠান করতে গেলে নিজেরাই মারামারি করে সে অনুষ্ঠান পন্ড হয়ে যায়। গতকাল চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় বেতারের আবাসিক প্রকৌশলী নিত্য প্রকাশ বিশ^াস, আঞ্চলিক পরিচালক এস এম মোস্তফা সরোয়ার, উপবার্তা নিয়ন্ত্রক মো. জাকির হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্রটি আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। কালুরঘাটে যে ট্রান্সমিটার ব্যবহার করে তৎকালীন চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ হান্নান বঙ্গবন্ধুর পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেছিলেন সেই ট্রান্সমিটারটি এখন চট্টগ্রাম পুরোনো সার্কিট হাউসে রাখা হয়েছে। এই ট্রান্সমিটারটা আগে যেখানে ছিল, সেই কালুরঘাট বেতারের ট্রান্সমিশন সেন্টারে স্থানান্তর করা হবে।

তিনি আরো বলেন, সেখানে একটা ছোট্ট জাদুঘর করে রাখা হবে। সেখানে স্বাধীনতা পার্ক স্থাপন করা হয়েছে, স্বাধীনতা পার্কের সঙ্গেই যেখান থেকেই এই ট্রান্সমিটার দিয়ে ঘোষণা করা হয়েছিল সেখানেই থাকা বাঞ্ছনীয়। বাংলাদেশ বেতারের পক্ষ থেকে এরই মধ্যে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সেখানে স্থানান্তরের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্র একটি ঐতিহাসিক বেতার কেন্দ্র। কারণ এই বেতার কেন্দ্র থেকেই ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধুর পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেছিলেন তৎকালীন চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ হান্নান। পরবর্তী সময়ে ২৭ মার্চ আওয়ামী লীগ নেতারা একজন সেনা কর্মকর্তাকে দিয়ে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করানোর জন্য মেজর জিয়াউর রহমানকে খুঁজে বের করে এনে তাকে দিয়ে বঙ্গবন্ধুর পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করানো হয়েছিল।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্র থেকেই ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা তৎকালীন অবিভক্ত চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ হান্নান বঙ্গবন্ধুর পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করে শুনিয়েছিলেন। এটা পুরো জাতি ও বিশ^বাসী জেনেছিল এবং বঙ্গবন্ধু যে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছেন, বাংলাদেশ যে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র সেটি চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্রের মাধ্যমেই দেশবাসী এবং বিশ^বাসী জেনেছিল। এটি একটি ঐতিহাসিক বেতার কেন্দ্র।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে রেডিও যেমন অনন্য ভূমিকা রেখেছে একইভাবে দেশ গঠনেও রেডিও অনন্য ভূমিকা পালন করে চলেছে। বিশেষ করে কৃষিভিত্তিক অনুষ্ঠান, জন্মনিয়ন্ত্রণ, পরিবেশ সংরক্ষণসহ সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানমালাগুলো মানুষ শুনে অনেক কার্যক্রম গ্রহণ করে। রেডিও যাতে দেশ গঠনে, দেশকে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ঠিকানায় পৌঁছে দিতে আরো জোরালো ভূমিকা রাখতে পারে সেজন্য রেডিওর উন্নয়নের জন্য অনেকগুলো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, রেডিও অত্যন্ত প্রাচীন গণমাধ্যম। একেবারে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মাঝে পৌঁছাতে পারে রেডিও। টেলিভিশন সমুদ্রের মধ্যে শোনা যায় না। কিন্তু রেডিও বঙ্গোপসাগরের মাঝিমাল্লা, পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ের চূড়ায় বসেও শোনা যায়। দুর্যোগ দুর্বিপাকের সিগন্যাল শুনতে রেডিওর ওপরই নির্ভরশীল থাকে মানুষ। মাঝখানে রেডিও শোনা কমে গেলেও এখন রেডিও শোনার অভ্যাস আবার ফিরে এসেছে। এখন মোবাইল ফোনে অ্যাপসের মাধ্যমে পৃথিবীর যেকোনো প্রান্ত থেকে বেতারের অনুষ্ঠান শোনা যায়।

 

 

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close