ক্রীড়া ডেস্ক
ফ্রান্স শিবিরে গৃহদাহ

ফ্রান্সের বিশ্বকাপ দলে তারকার ছড়াছড়ি। রক্ষণ, মিডফিল্ড থেকে ফরোয়ার্ড- দলের দুর্বলতা খুঁজে বের করা দুষ্কর। রাশিয়া বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন এবং কাতার বিশ্বকাপের রানার্সআপ লেস ব্লুজদের চলতি বিশ্বকাপেরও টপ ফেভারিট বলা হচ্ছে। তবে দিদিয়ের দেশ্যমের ফ্রান্স শিবিরে ‘ইগো সমস্যা’র অভিযোগ আছে, যা টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই গৃহদাহে পরিণত হয়েছে বলে দাবি করেছে মুন্ডো দেপোর্তিভো, টিওয়াইসি স্পোর্টসসহ একাধিক সংবাদ মাধ্যম। গৃহদাহের সঙ্গে জুড়ে গেছে তিন তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে, উসমান ডেম্বেলে ও মাইকেল ওলিসের নাম।
নর্দান আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপ প্রস্তুতির প্রীতি ম্যাচ খেলেই জাতীর দলের ক্যাম্প ছাড়েন কিলিয়ান এমবাপ্পে ও মাইকেল ওলিস। ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে তারা যথাক্রমে রিয়াল মাদ্রিদ ও মিউনিখ গিয়েছিলেন। বিশ্বকাপের ঠিক আগে তাদের ক্যাম্প ছাড়া নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। এর মধ্যে রিয়াল মাদ্রিদ তারকা এমবাপ্পে স্প্যানিশ প্রেমিকা স্তার স্পোজিতোর ডাকে উড়ে গিয়েছিলেন বলে দাবি করেছে সংবাদ মাধ্যম। বিশ্বকাপের বাজনা বেজে গেলেও এমবাপ্পে-ওলিসদের ‘পিকনিক মুড’ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভক্তরা। এমবাপ্পের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে আরো। আইভরিকোস্টের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচের আগে সিনিয়র সতীর্থ এনগোলে কান্তের সঙ্গে তিনি নাকি ন্যূনতম সৌজন্য দেখাননি। মাঠের বাইরের এসব কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি দুবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলের কৌশলগত বিষয় নিয়েও আছে মতবিরোধ। ফ্রান্সের শীর্ষ পর্যায়ের ক্রীড়াবিষয়ক সংবাদমাধ্যম লেকিপ যেমন দাবি করেছে, দেম্বেলে ট্রেনিং ক্যাম্পে এমবাপ্পেকে বলেন, ‘তোমার রক্ষণ ও প্রেসিংয়ে আরো ভূমিকা রাখা উচিত।’ ফ্রান্সের অধিনায়ক দুই বিশ্বকাপে ১২ গোল করা এমবাপ্পে। তাকে ‘উপদেশ’ দেওয়ার মধ্যেও আছে পজিশন নিয়ে দ্বন্দ্বের গন্ধ। বিশ্বকাপে ফ্রান্স শক্তিশালী দল হলেও নাম্বার টেন বা প্লে মেকিং পজিশনের নিয়মিত খেলোয়াড় নেই তাদের। নাম্বার টেন হিসেবে এমবাপ্পে খেলবেন নাকি ডেম্বেলে তা নিয়ে কোচ দিদিয়ের দেশম সংকটেও ছিলেন। কারণ পিএসজির জার্সিতে উসমান ডেম্বেলে বাঁ প্রান্ত ধরে সেন্টার ফরোয়ার্ডে খেলেন।
কিলিয়ান এমবাপ্পের পজিশনও একই। দুজনের কেউই আবার মাঠ দাপিয়ে খেলা ফুটবলার নন। তাদের মধ্যে ডেম্বেলেকে ব্লুজ কোচ দেশম মিডফিল্ডার পজিশনের জন্য বেছে নিয়েছেন, যা নিয়ে কিছুটা মনঃক্ষুণ্ণ পিএসজি ফরোয়ার্ড। কারণ ক্লাবের হয়ে লিগ ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছেন তিনি। গোলও করেছেন ২০টি। বিশ্বকাপে স্ট্রাইকার পজিশনে খেলতে পারলে এবারও তার ব্যালন ডি’অরের পাল্লা ভারী হতো। পছন্দের পজিশন হারিয়ে এমবাপ্পেকে রক্ষণে সহায়তা করার উপদেশ দিয়েছেন সাবেক বার্সা উইঙ্গার ডেম্বেলে।
সংকট আছে ম্যানচেস্টার সিটির নাম্বার টেন রায়ান সের্কিকে নিয়েও। প্লেমেকার পজিশনে ডেম্বেলের চেয়ে ভালো তিনি। অথচ ডেম্বেলে ওলিসকে সুযোগ করে দিতে পুরো বিশ্বকাপে বেঞ্চই গরম করতে হতে পারে তাকে। কোচ দেশমের প্রথম চ্যালেঞ্জ তাই সাজানো গৃহে শান্তি ফেরানো।
"









































