ক্রীড়া ডেস্ক

  ৮ ঘণ্টা আগে

আবিদজানের রাস্তা থেকে বিশ্বকাপে

বোনকে দেওয়া কথা রাখলেন দিওমান্ডে

আবিদজানের তপ্ত সিকোগি এলাকার ধুলাবালি ও কঠিন পাথুরে রাস্তা। এক জোড়া ভালো জুতা বা বুট কেনাও ছিল চরম বিলাসিতা। সেই রাস্তায় স্যান্ডেল পরে কিংবা খালি পায়ে ফুটবল খেলতো এক শিশু। ক্ষুধা, চরম দারিদ্র্য আর একাকিত্বের সঙ্গে লড়াই করা সেই ছেলেটিই এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম বড় আকর্ষণ। তিনি আইভরি কোস্টের ১৯ বছর বয়সি ফুটবলার ইয়ান দিওমান্ডে। জার্মান ক্লাব লাইপজিগে আলো ছড়ানো এই উইঙ্গারকে ঘিরে এবার বিশ্বকাপের স্বপ্ন দেখছে আইভরি কোস্ট। তবে তার এই তারকাখ্যাতির আড়ালে লুকিয়ে আছে এক বুক যন্ত্রণা, নিঃসঙ্গতা আর বোনকে দেওয়া এক করুণ প্রতিজ্ঞার গল্প। ছোটোবেলাতেই দিওমান্ডের বাবা ফ্রান্সে চলে যান। এরপর আবিদজানের ছোট্ট এক কামরায় অনেক সদস্যের সঙ্গে অভাবের সংসারে বড় হতে থাকেন তিনি। কিন্তু দিওমান্ডে বুঝতে পেরেছিলেন, দারিদ্র্যের এই বৃত্ত থেকে মুক্তি পেতে ফুটবলই তার একমাত্র উপায়। মাত্র ১০ বছর বয়সে মায়ের কোল ছেড়ে সম্পূর্ণ একা এক দূরবর্তী ফুটবল একাডেমিতে যোগ দেন তিনি।

সেখানে বুট ছাড়া খেলা এই প্রতিভাকে প্রথম চিনে নেন একাডেমির পরিচালক বাম্বা। দিওমান্ডের কাছে তিনি ছিলেন দ্বিতীয় বাবার মতো। তিনিই প্রথম এই খুদে ফুটবলারকে থাকার জায়গা দেন এবং এক জোড়া আসল বুট কিনে দেন। এরপর দিওমান্দের জীবন আবর্তিত হতে থাকে শুধু একটা ফুটবলকে কেন্দ্র করেই। এরপরের গল্পটা আরো কঠিন। ইংরেজি না জানা এক কিশোর হিসেবে সম্পূর্ণ একা যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান দিওমান্ডে, কারণ পরিবারের কেবল একটা বিমানের টিকিট কাটারই সামর্থ্য ছিল। ফ্লোরিডায় গিয়ে তীব্র একাকিত্বের মুখোমুখি হন তিনি। একটা মোবাইল অ্যাপের সাহায্যে ইংরেজি শেখার পাশাপাশি সম্পূর্ণ নতুন পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেন। দিওমান্ডে পরে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমেরিকার সেই সময়টা আমাকে এতটা একা থাকতে শিখিয়েছে যে, এখন মনে হয় আমি সারাজীবন একাই কাটিয়ে দিতে পারবো।’ ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে স্প্যানিশ ক্লাব লেগানেস থেকে যখন তার ইউরোপে খেলার ডাক আসে। ঠিক চুক্তি স্বাক্ষর করার আগে দিওমান্ডের জীবনে দুঃখের সংবাদ হয়ে আসে ছোট বোনের মৃত্যু। দিওমান্ডে বলেন, ‘আমার স্বপ্ন ছিল বোনকে খুশি করা। এখন আমার কাছে স্বপ্নের সবকিছু আছে, কিন্তু তা ভাগ করে নেওয়ার জন্য ও পাশে নেই।’ সেদিন থেকেই প্রতিটি গোল তিনি উৎসর্গ করেন প্রয়াত বোনকে।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়