ক্রীড়া ডেস্ক

  ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১

আবারও বায়ার্নে ধরাশায়ী বার্সা

শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নজরকাড়া ফুটবল খেলল বায়ার্ন মিউনিখ। ম্যাচের সময় যতই গড়াল ততই আধিপত্য বাড়তে থাকল তাদের। রবার্ত লেভানডভস্কির জোড়া গোলে বিবর্ণ বার্সেলোনাকে উড়িয়ে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের নতুন মৌসুমে শুভ সূচনা করল তারা।

ইউরোপের সর্বোচ্চ ক্লাব আসরের ‘ই’ গ্রুপের ম্যাচে ঘরের মাঠ ন্যু ক্যাম্পে ৩-০ গোলে হেরেছে রোনাল্ড কোম্যানের শিষ্যরা। প্রথমার্ধে জার্মান মিডফিল্ডার টমাস মুলার বায়ার্নকে এগিয়ে দেওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধে আলো ছড়ান পোলিশ স্ট্রাইকার লেভানডভস্কি।

চোটজর্জর কাতালানরা এ ম্যাচে পায়নি আক্রমণের বেশ কয়েকজন তারকাকে। চোটের কারণে সার্জিও আগুয়েরো, উসমান দেম্বেলে, আনসু ফাতি ও মার্টিন ব্র্যাথওয়েট খেলতে পারেননি। একাদশে থাকা মেম্ফিস ডিপাই ও লুক ডি ইয়ং ছিলেন একেবারেই নিষ্প্রভ।

বল দখলে প্রায় সমানে-সমান লড়াই হলেও বায়ার্ন গোলরক্ষক মানুয়েল নয়্যার কাটান অলস সময়। কারণ স্প্যানিশ ক্লাব বার্সেলোনা পাঁচটি শট নিলেও একটিও ছিল না লক্ষ্যে। অন্যদিকে, ইউলিয়ান নাগেলসমানের শিষ্যরা ১৭টি শট নিয়ে লক্ষ্যে রাখে সাতটি।

প্রথমার্ধের শুরু থেকে চলে আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ। উপভোগ্য ম্যাচে অবশ্য ভীতি ছড়াচ্ছিল বায়ার্ন। যতবারই তারা বার্সার ডি-বক্সে ঢুকছিল, ততবারই যেন গোলের সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছিল।

১৪ মিনিটে গোলমুখে ম্যাচের প্রথম শটটি নেয় বায়ার্নই। লেভানডভস্কির পাস পেয়ে ডি-বক্সের বাইরে থেকে লিয়ন গোরেটস্কা প্রচেষ্টা বার্সার বিপদের কারণ হয়নি। বল রোনালদ আরাউহোর গায়ে লাগার পর সহজেই লুফে নেন বার্সা গোলরক্ষক মার্ক-আন্দ্রে টের স্টেগেন।

পরের মিনিটে বাম প্রান্ত দিয়ে আক্রমণে উঠে ডি-বক্সে বল ফেলেন জর্দি আলবা। দূরের পোস্টে থাকা সার্জি রবার্তোর বাঁ পায়ের হাফ ভলি লক্ষ্যে থাকেনি। বল চলে যায় পোস্টের অনেক ওপর দিয়ে।

১৯তম মিনিটে দৃঢ়তার পরিচয় দিতে হয় টের স্টেগেনকে। লেরয় সানের বাঁ পায়ের জোরালো শট এক হাতে ফিরিয়ে দেন তিনি। রবার্তোর গায়ে লেগে বলের দিক কিছুটা পরিবর্তিত হলেও বার্সা গোলরক্ষক ছিলেন অবিচল।

২৭তম মিনিটে মুলারের পাস ফাটল ধরায় বার্সার রক্ষণে। জামাল মুসায়লা গোলমুখে শট নিলেও ত্রাণকর্তার ভূমিকায় হাজির হন জেরার্ড পিকে। তার ব্লকের পর অন্য সতীর্থরা বল বিপদমুক্ত করেন।

পরের মিনিটে দারুণ সুযোগ হাতছাড়া হয় স্বাগতিকদের। মেম্ফিস ডিপাইয়ের ফ্রি-কিকে অরক্ষিত আরাউহোর হেড পরীক্ষায় ফেলতে পারেনি মানুয়েল নয়্যারকে। বল অনেক বাইরে দিয়ে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।

যোগ্য দল হিসেবে বায়ার্ন এগিয়ে যায় ৩৪তম মিনিটে। ২০ গজ দূর থেকে মুলারের নেওয়া শট এরিক গার্সিয়ার গায়ে লেগে দিক পাল্টে জড়ায় জালে। বিপরীত দিকে ঝাঁপ দিতে পা বাড়িয়ে ফেলা টের স্টেগেনের পক্ষে বল ফেরানোর কোনো উপায়ই ছিল না।

এগিয়ে থেকে বিরতিতে যাওয়া বাভারিয়ানরা দ্বিতীয়ার্ধে হয়ে ওঠে অপ্রতিরোধ্য। একের পর আক্রমণে তারা ব্যতিব্যস্ত রাখে প্রতিপক্ষকে। শুরুর দিকেই দ্বিতীয় গোল আদায় করে তারা বসে পড়ে ম্যাচের চালকের আসনে।

৫২তম মিনিটে সানের শট টের স্টেগেন পা দিয়ে ঠেকানোর চার মিনিটের মধ্যে ব্যবধান দ্বিগুণ করে বায়ার্ন। মুসায়লার শট পোস্টে লেগে ফিরে আসলে বল পেয়ে যান ফাঁকায় থাকা লেভানডভস্কি। ফাঁকা জালে বল ঢোকানোর বাকি কাজটা অনায়াসে সারেন তিনি।

৬৬ মিনিটে বদলি নামার দুই মিনিটের ব্যবধানে ফিলিপ কৌতিনহো চেষ্টা করেন গোল শোধের। তার বাঁকানো শট ছিল যেন বার্সার হতাশাজনক পারফরম্যান্সেরই প্রতিচ্ছবি। বল থাকেনি লক্ষ্যে।

বাকিটা সময় সফরকারীদের আক্রমণ ঠেকাতে হিমশিম খেতে হয়েছে বার্সেলোনাকে। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। ৮৫ মিনিটে প্রায় একইভাবে ম্যাচে নিজের দ্বিতীয় গোলের দেখা পান লেভানডভস্কি।

বদলি নামা সার্জ গ্যানাব্রির শট বাধা পায় পোস্টে। ডি-বক্সে আলগা বল পেয়ে প্রথমে পিকের চ্যালেঞ্জে উতরে যান লেভানদভস্কি। এরপর বাম পায়ের বুলেট গতির শটে নিশানা ভেদ করেন তিনি।

 

 

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close