নিজস্ব প্রতিবেদক
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
৩২ হাজার প্রধান শিক্ষক নিয়োগে বাধা নেই

দেশের প্রায় ৩২ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগে বাধা নেই বলে রায় দিয়েছেন সর্বোচ্চ আদালত। প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বিভাগ গতকাল বৃহস্পতিবার এই রায় দেন। এর ফলে ১৩ বছর আগে আইনি জটিলতায় আটকে থাকা নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বাধা দূর হলো।
এ দিন আদালতে উপস্থিত ছিলেন এটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। তিনি বলেন, ‘সরকার ২০১৩ সালে ২৬ হাজার বেসরকারি প্রাথমিক স্কুল অধিগ্রহণ করে। তখন সরকার একটি আইন প্রণয়ন করে। সে আইনে বলা হয়- অধিগ্রহণ করা স্কুলের সবাই যোগদান করতে পারবেন। প্রধান শিক্ষকসহ যারা যোগদান করবেন তারা সহকারী শিক্ষক হিসেবে গণ্য হবেন। অর্থাৎ প্রধান শিক্ষক হিসেবে তারা পূর্বে দায়িত্ব পালন করলেও আইন অনুযায়ী সবাই যোগদান করবেন সহকারী শিক্ষক হিসেবে। তখন তারা সেটা মেনে নেন। কিন্তু ওই আইনের মধ্যে একটা বিধান ছিল যেখানে বলা হয়- যারা সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত হবে, তাদের সিরিয়ালটা হবে উপরে। আর যারা অধিগ্রহণ করা বেসরকারি স্কুল থেকে এসেছেন তাদের সিরিয়ালটা হবে তাদের নিচে এবং তাদের আগের সময়কালের তারা যে চাকরি করেছেন, চাকরির মেয়াদ গণনার ক্ষেত্রে পেনশন ৫০ শতাংশ গণনা করা হবে, পেনশনের ক্ষেত্রে, গ্র্যাচুইটির ক্ষেত্রে। তারা বললেন- না, আমরা আগে প্রধান শিক্ষক ছিলাম, এখনো প্রধান শিক্ষক হবো। আমরা এতদিনকার সিনিয়রিটি, আমরা ৫০ শতাংশ কেন গণনা হবে? এবং তারা বললেন- ৫০ শতাংশ গণনা হলেও আমাদের পদোন্নতির ক্ষেত্রেও এগুলো হবে। তারা হাইকোর্টে রিট করলেন। সবগুলো মিলিয়ে হাইকোর্টে রায় দিলেন যে, তাদেরকে সিরিয়াল মোতাবেক পেছনে দেওয়া হলো, এই আইনটা বাতিল করে দিলেন। এই আইন বাতিলের বিরুদ্ধে সরকার আপিল করল। আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায় বাতিল করেছেন।’ এর ফলে প্রায় ৩২ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরকার প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দিতে পারবে বলে জানান অ্যাটর্নি জেনারেল।
২৬ হাজার থেকে ৩২ হাজার হওয়া প্রসঙ্গে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘অনেক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক তো অবসরে গেছেন। ওগুলোতে নিয়োগ হয়নি। এই ২৬ হাজারের সঙ্গে বাড়তে বাড়তে ২০১৩ সাল থেকে এখন পর্যন্ত হয়েছে ৩২ হাজার হয়েছে। এগুলো সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।’
এর আগে ২০১৭ সালে ৫০ শতাংশ চাকরিকাল গণনা করে গ্রেডেশন তালিকা প্রণয়নপূর্বক জ্যেষ্ঠতা প্রদান, প্রধান শিক্ষক হিসেবে স্কেল প্রাপ্তি এবং নানাবিধ আর্থিক ও প্রশাসনিক সুবিধা প্রদানের দাবিতে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়। সেই রিটে হাইকোর্ট রুল জারি করেছিলেন। পরে রুলের শুনানি শেষে ২০১৯ সালের ১১ মার্চ হাইকোর্ট রুল আংশিক মঞ্জুর করেন। সেই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। বৃহস্পতিবার সেই আপিল মঞ্জুর করেন আপিল বিভাগ।
"









































