সালাহ উদ্দিন বাবর

  ৫ ঘণ্টা আগে

মাদকের স্বর্গরাজ্য ঢাকার দুই বিহারি ক্যাম্প

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্প এবং মিরপুর ১০, ১১ ও ১২ নম্বরের প্রায় ১৩টি বিহারি ক্যাম্প বর্তমানে মাদকের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। সন্ধ্যা নামলেই ক্যাম্পগুলোর অলিগলিতে প্রকাশ্যে চলে মাদক বিক্রি ও সেবনের রমরমা বাণিজ্য। বিশেষ করে মিল্লাত ক্যাম্প, সি-ব্লকের ক্যাম্প, বি-ব্লকের ক্যাম্প এবং সাংবাদিক আবাসিক এলাকা এফ-ব্লকসহ আশপাশের এলাকাগুলো মাদক সিন্ডিকেটের প্রধান কেন্দ্র। বছরের পর বছর এখানে প্রকাশ্যে মাদক বেচাকেনা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান চালালেও পরিস্থিতি তেমন বদলায় না। দিন দিন পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। আসক্তরা এখন লাইন ধরে মাদক কেনেন। রমরমা এই কারবারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধও চরমে। এতে বাড়ছে খুনাখুনি। আর এসব রমরমা মাদক কারবার ক্যাম্প কর্তৃপক্ষের আশ্রয়-প্রশ্রয়েই চলে বলে অভিযোগ রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মাদকসেবন ও পাচারের সঙ্গে জড়িতদের বড় অংশই ১৬ থেকে ৩০ বছর বয়সি তরুণ-তরুণী। তারা মাদকের জালে আটকে পড়ায় পারিবারিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতির পাশাপাশি অপরাধও বাড়ছে। মাদকাসক্ত অনেক তরুণ ছিনতাই, ডাকাতি, চুরি, হত্যাসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।

রাজধানীর মিরপুর ১১ নম্বরের মিল্লাত ক্যাম্প এলাকা মাদকের হটস্পট। কেবল মিল্লাত ক্যাম্পই নয়, মিরপুর ১০, ১১ ও ১২ নম্বরের মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ এখন মাদকসম্রাট কালা পারভেজ, জনি, রনি, সনি, রাখি, রানি, শিমা, ফান্টু মানো, হিরোইন দুলারা, শাহাজাদি বেগম, পৃথিবী, লিটন এবং রুবেল ওরফে ল্যাংড়া রুবেলসহ একাধিক চিহ্নিত মাদক কারবারির হাতে। এদের কারো নামে রয়েছে একাধিক মামলা, কেউবা পলাতক। তবু এলাকায় তাদের প্রভাব অটুট রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পুলিশের নাকের ডগায় এসব মাদক বেচাকেনা চললেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না কার্যকরভাবে।

এডিসি ক্যাম্প, কেটিসি ক্যাম্প, রহমত ক্যাম্প, মাদরাসা ক্যাম্প, মুসলিম ক্যাম্প, কনসাল ক্যাম্প, থার্টিনাস ক্যাম্প, কালাপানি বস্তি, কুর্মিটোলা ক্যাম্প, মুড়াপাড়া ক্যাম্প, এমসিসি ক্যাম্প, মিল্লাত ক্যাম্প, শাহপরান ক্যাম্প, সাংবাদিক আবাসিক এলাকা এফ-ব্লকের আশপাশ, মিরপুর ১০-১২ নম্বরের এই ১৫টি এলাকা মাদকের হটস্পট হিসেবে পরিচিত। আধিপত্য বিস্তারে মিল্লাত ক্যাম্পসহ আশপাশের এলাকায় প্রায়ই সংঘর্ষে জড়াচ্ছে মাদক কারবারে জড়িত একাধিক গ্রুপ। এসব সংঘর্ষে ঝরছে প্রাণ। মাদকসেবন ও ব্যবসার বিরুদ্ধে কেউ কথা বললেই দেওয়া হয় প্রাণনাশের হুমকি। হেরোইন, ইয়াবা, ফেনসিডিল, গাঁজা থেকে শুরু করে বাংলা মদসহ সব ধরনের মাদকই চলছে হাতবদল হয়ে। দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় মাদক কারবারিরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারিতে থাকলেও বেশিরভাগই রয়েছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। প্রশাসনের অভিযানেও ধরা পড়ে না মূল কারবারিরা।

শীর্ষ সন্ত্রাসী সিন্ডিকেট ও আন্ডারওয়ার্ল্ড কানেকশন : ক্যাম্পের মাদক নিয়ন্ত্রণ করে স্থানীয় বেশ কয়েকটি গ্যাং, যারা ঢাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী এবং রাজনৈতিক চক্রের সঙ্গে যুক্ত। সম্প্রতি ‘ফোর স্টার গ্রুপ’ এবং ‘ল্যাংড়া রুবেল’-এর মতো অপরাধীদের আন্ডারওয়ার্ল্ড কানেকশন এখানে প্রকাশ্যে এসেছে। এ ছাড়া মিরপুর-১০, ১১, ১২ এলাকায় রয়েছে মাদক সম্রাজ্ঞীদের নেটওয়ার্ক। মিল্লাত ক্যাম্পসহ অন্য স্পটও রনি, সনি, রাখি, রানি, শিমা, রাজিয়া, আনোয়ারী, শাহনাজ, সোনিয়া, সায়মা এবং শাম্মীর মতো চিহ্নিত ‘মাদক সম্রাজ্ঞীরা’ পুরো সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করে। তারা জেলহাজতে বসেই মোবাইল বা সহযোগীদের মাধ্যমে বাইরে মাদকের সাম্রাজ্য পরিচালনা করে।

মাদক ব্যবসার আধিপত্য ধরে রাখতে ক্যাম্পের ভেতরে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার নিত্যদিনের ঘটনা। এই মাদক কারবারিরা মূলত টেকনাফ ও সীমান্ত এলাকা থেকে আসা ইয়াবা, হেরোইন এবং গাঁজার বড় চালান সংগ্রহ করে ঢাকার বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে দেয়। এই মাদক সিন্ডিকেটের রয়েছে মাসোহারা ও প্রশাসনের ভূমিকা ‘লাইনম্যান’ ও টোকেন সিস্টেম। মাদক স্পটগুলো টিকিয়ে রাখতে ‘লাইনম্যান’ বা দালালদের মাধ্যমে প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকার মাসোহারা বা চাঁদা লেনদেন হয়। এই টাকা মাদক কারবারি, স্থানীয় প্রভাবশালী এবং প্রশাসনের নির্দিষ্ট কিছু অসাধু ব্যক্তির পকেটে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। সাংবাদিক আবাসিক এলাকার পাশের মাদক সিন্ডিকেটের সক্রিয় সদস্যের সূত্র জানায়, বড় কোনো সরকারি বা যৌথ বাহিনীর অভিযান হওয়ার আগেই আন্ডারওয়ার্ল্ডের সোর্স বা কর্মকর্তাদের মাধ্যমে মূল অপরাধীদের কাছে খবর চলে যায়, যার ফলে গডফাদাররা সহজেই পালিয়ে যায়। মাসোহারার একটি বড় অংশ ব্যয় হয় আইনি প্যানেল ও দালাল চক্রের পেছনে। যার কারণে মাদক ব্যবসায়ীরা গ্রেপ্তার হলেও কয়েক দিনের মধ্যে জামিনে বেরিয়ে এসে আবারও একই ব্যবসা শুরু করে।

মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্প : রাজধানীর মাদকের অন্যতম স্বর্গরাজ্য মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্প। রাস্তায় দাঁড়িয়ে কিশোর বিক্রি করছে গাঁজা। নারী-শিশুদের হাতে ইয়াবা, হেরোইন। ক্যাম্পের মুরগিপট্টি, বাবর রোড, আল ফালাহ মডেল ক্লিনিক গলি, হুমায়ূন রোডসহ বিভিন্ন স্থানে নিয়মিত চলে মাদক কারবার। ঘনবসতিপূর্ণ এই ক্যাম্পে বাইরে থেকে এসে কেনে মাদকদ্রব্য। রাস্তার ওপর হাঁকডাক দিয়েই ক্রেতা জোগাড় করা হয়।

ক্যাম্পের বাসিন্দা ও স্থানীয় সূত্রের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জেনেভা ক্যাম্পে ২৪ ঘণ্টাই মাদক বিক্রি হয়। এলাকার অনেকে কারবারের সঙ্গে জড়িত। মাদকের কারণে ক্যাম্পের সবার বদনাম হচ্ছে। এখানে দিনরাত এসব চলে। ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ এসে মাদক কিনে নিয়ে যায়। মাদকের কারণে ক্যাম্পে বিভিন্ন গ্যাং তৈরি হয়েছে। প্রায়ই পুলিশ অভিযান চালায়। কিছু মাদক ব্যবসায়ীদের তুলে নিয়ে যায়। পরে তারা জামিনে বের হয়ে আবার এই কাজে যুক্ত হয়।

সর্বশেষ তথ্য ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারাবাহিক বিশেষ অভিযানের সূত্র অনুযায়ী, মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পের মাদক সিন্ডিকেট মূলত কারাবন্দি শীর্ষ গডফাদারদের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড ও তাদের সক্রিয় সহযোগীদের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। জুন মাসের শুরুতে পুলিশ, র‍্যাব ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) ৩৫০ সদস্যের ডগ স্কোয়াডসহ ত্রিমুখী সাঁড়াশি অভিযানে বেশ কয়েকজন প্রধান সদস্য গ্রেপ্তারও হয়েছেন। বর্তমানে আলোচনায় থাকা এবং সক্রিয় সিন্ডিকেট সদস্যরা হলো বুনিয়া সোহেল ও টুনটুন কালাম গ্রুপ (সক্রিয় ও নতুন নেতৃত্ব) শীর্ষ মাদকসম্রাট বুনিয়া সোহেল কারাবন্দি থাকলেও তার ভাই টুনটুন কালামের নেতৃত্বে এই গ্রুপটি বর্তমানে ক্যাম্পে হেরোইন ও গাজার স্পটগুলো নিয়ন্ত্রণ করছে। তথ্য অনুযায়ী, এই গ্রুপের প্রধান চালিকাশক্তিরা হলেন- মো. মোস্তফা ওরফে মনু সে বুনিয়া সোহেল ও টুনটুন কালামের অন্যতম প্রধান সহযোগী এবং ক্যাম্পের অন্যতম শীর্ষ মাদক কারবারি। গত ১৩ জুন ২০২৬ পুলিশ তাকে বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার করে। মনু গ্রেপ্তার হওয়ার পর রানা ও কলিম জাম্বু এই দুজনে মাঠপর্যায়ে মাদক সরবরাহ তদারকি করছে। রাজন ওরফে কালু এবং বানর আরিফ ক্যাম্পের ভেতরের নির্দিষ্ট গলিতে খুচরা বিক্রির সিন্ডিকেট সামলায়। চুয়া সেলিম গ্রুপ (পলাতক ও আন্ডারগ্রাউন্ড সিন্ডিকেট) মাদকের স্পট ও আধিপত্য নিয়ে বুনিয়া সোহেল গ্রুপের সঙ্গে চুয়া সেলিমের সংঘাত এখনো কাটেনি। চুয়া সেলিম আত্মগোপনে থেকে তার সহযোগীদের দিয়ে সিন্ডিকেট সচল রেখেছে। সক্রিয় থাকা তার গ্রুপের সদস্যরা হলো উল্টা সালাম ও শাহ আলম। সেলিমের অনুপস্থিতিতে ক্যাম্পের ইয়াবা সিন্ডিকেটের মূল ডিলিং এরাই করছে। পিচ্চি রাজা পিস্তল ও মাদকসহ একাধিকবার গ্রেপ্তার হলেও তার অনুসারী কিশোর গ্যাং ক্যাম্পে সক্রিয় রয়েছে। পেলু আরমান ও কোপ মনু ক্যাম্পে রাতের আঁধারে বসা মাদকের হাটে অস্ত্রের পাহারা ও টাকা তোলার দায়িত্বে নিয়োজিত। ইশতিয়াক ও অন্য উপগ্রুপ (নতুন করে স্পট দখলকারী) পুরোনো মাদকসম্রাট ইশতিয়াকের মৃত্যুর পর তার কিছু পুরোনো ম্যানেজার নতুন স্পট তৈরি করে ব্যবসা টিকিয়ে রেখেছে। নাটা জাবেদ সাবেক এই ম্যানেজার বর্তমানে ক্যাম্পের উত্তর ও পূর্ব দিকের কিছু নতুন স্পটে হেরোইন বিক্রির সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করছে। পাকিস্তানি রাজু ইশতিয়াকের ভাই, যে মূলত সীমান্ত থেকে ফেনসিডিলের চালান এনে ক্যাম্পে ঢোকানোর সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত।

মাঝেমধ্যেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য জব্দ করছে। কিন্তু তাতেও দমছে না মাদক কারবারিরা। বরং আটক হওয়া মাদকের আর্থিক ক্ষতি পোষাতে আরো পাল্লা দিয়ে বড় বড় চোরাচালান নিয়ে আসছে মাদক চক্র। সংশ্লিষ্টদের মতে, গত তিন মাসে (মার্চ থেকে মে) শুধু বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) অভিযানে ৫০ লাখ ৮৯ হাজার ৮০৩ পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের ৮২ লাখ মানুষ বিভিন্ন ধরনের মাদকে আসক্ত। অন্যদিকে পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, সারা দেশে তিন মাসে (মার্চ থেকে মে) মাদক সংক্রান্ত মামলায় ১৮ হাজার ২১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মাদকের বিরুদ্ধে রয়েছে জিরো টলারেন্স। বিভিন্ন সময়ে অনেক হাঁকডাক দিয়ে চলে অভিযান। বিভিন্ন বাহিনী-সংস্থার তৎপরতাও চোখে পড়ার মতো। তা সত্ত্বেও মাদকের আগ্রাসন কেন বন্ধ হচ্ছে না, সে প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে অনেকের মনেই।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও অপরাধ বিশ্লেষকরা মনে করেন, মাদকের প্রবল চাহিদা ও সহজলভ্যতা, ভৌগোলিক ট্রানজিট, গডফাদাররা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকা এবং আইনি ফাঁকফোকরে মাদকের ব্যাপক বিস্তার বাড়ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক এবং সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক বলেন, মাদকের প্রভাব ক্রমশ বাড়ছে। মাদকাসক্তের সংখ্যা বাড়ছে এবং এর কারণে সমাজে নানা অপরাধ, বিশৃঙ্খলা ও পারিবারিক অশান্তি বাড়ছে। চুরি, ছিনতাই ও অন্য অপরাধের প্রবণতা বেড়ে যাচ্ছে। ফলে মাদকের ক্ষতিও ব্যক্তিগত সীমা ছাড়িয়ে সমাজব্যাপী, দীর্ঘমেয়াদি ও সুদূরপ্রসারী হয়ে দাঁড়ায়। তাই মাদক নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ও সমন্বিত ব্যবস্থা নিতে হবে। বাংলাদেশে মাদকের অধিকাংশই প্রতিবেশী দুই দেশ (ভারত ও মিয়ানমার) থেকে আসে। সরবরাহ বন্ধ করা, সীমান্ত ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা শক্ত করা, অংশগ্রহণকারী, পৃষ্ঠপোষক ও মাদক গডফাদারদের বিরুদ্ধে কঠোর তদন্ত এবং শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোরের পাশাপাশি পরিবার ও সমাজেরও বড় ভূমিকা পালন করতে হবে।

এ বিষয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হাসান মারুফ বলেন, যেসব দেশ থেকে বাংলাদেশে মাদক পাচার হচ্ছে, সেসব দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নিয়মিতভাবে তথ্য জানানো হচ্ছে, যাতে তারাও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারে। একইসঙ্গে মাদক পাচারকারীদের আইনের আওতায় আনতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে। অভিযান চলবেই, তবে গণসচেতনতা তৈরি হলে মাদক থেকে মানুষ দূরে থাকবে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, মাদক কারবারিরা শুধু নতুন ধরনের মাদকই আনছে না, বিক্রির কৌশলেও বড় পরিবর্তন এনেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, এনক্রিপ্টেড অ্যাপ, অনলাইন ব্ল্যাকমার্কেট এবং ডার্ক ওয়েব ব্যবহার করছে। অনলাইনে মাদক কেনাবেচা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে উঠছে। একইসঙ্গে স্থলপথের পাশাপাশি নদীপথ, সমুদ্রপথ ও আকাশপথও মাদক পাচারের রুট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে, যা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

ডিএনসির ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের উপপরিচালক মেহেদী হাসান বলেন, শুধু অভিযান নয়, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সমন্বিত ব্যবস্থা ছাড়া মাদকের চক্র নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে না। সম্প্রতি এমডিএমএ, কেটামিনসহ বিভিন্ন সিনথেটিক মাদক উদ্ধার করা হয়েছে। আরো নতুন ধরনের মাদকও বাংলাদেশে প্রবেশের আশঙ্কা রয়েছে।

ডিএমপির তথ্য মতে, গত মে মাসে রাজধানীতে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করে পুলিশ। এর মধ্যে ইয়াবা ট্যাবলেট ১ লাখ ৭৪ হাজার ১৪ পিস, আইস মাদক ৩১ গ্রাম, গাঁজা ৭৪৩ কেজি ৮৩৩ গ্রাম, হেরোইন ৬৭৫ গ্রাম ৪৪ পুরিয়া, ফেনসিডিল ১ হাজার ২৮০ বোতল অন্যতম। মে মাসে মাদকসহ মোট ৪১৬ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। অন্যদিকে এপ্রিল মাসে রাজধানীতে ইয়াবা ট্যাবলেট ৩ লাখ ৩৪ হাজার ৯৭৪ পিস, কোকেন ৪৫০ গ্রাম, গাঁজা ৯২৯ কেজি ৪২১ গ্রাম, হেরোইন ৯ কেজি ১৪১ গ্রাম এবং মার্চে ইয়াবা ট্যাবলেট ৯৯ হাজার ৮২৭ পিস, কোকেন ৪৫০ গ্রাম, গাঁজা ৪৩৯ কেজি ৩৩৭ গ্রাম, হেরোইন ৫৬৬ গ্রাম জব্দ করা হয়।

অন্যদিকে পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশে চলতি বছরের মার্চ থেকে মে পর্যন্ত তিন মাসে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ১৮ হাজার ২১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে মার্চে ৫ হাজার ৪০৯ জন, এপ্রিলে ৫ হাজার ৭০৯ জন এবং মে মাসে ৭ হাজার ৯২ জন।

এ বিষয়ে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, পুলিশের মূল কাজ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি অধিদপ্তর রয়েছে, তাদের কাজ মাদক নিয়ন্ত্রণ করা। তা ছাড়া বাংলাদেশে কোনো মাদকদ্রব্য উৎপাদন বা তৈরি হয় না। যেসব মাদক দেখা যাচ্ছে, সেগুলো সীমান্ত পেরিয়ে অন্য দেশ থেকে ঢুকছে। সেখানে নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। তার পরও নিয়মিত অভিযানের মাধ্যমে মাদক নিয়ন্ত্রণ ও জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়