সালাহ উদ্দিন বাবর
রেল নেটওয়ার্কে আসবে দেশের সব জেলা

দেশের প্রতিটি জেলাকে রেল সংযোগের আওতায় আনার কাজ শুরু করেছে সরকার। এরই মধ্যে সমীক্ষা শেষ হওয়ায় ভাঙ্গা থেকে ২৪৪ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণের অর্থের উৎস খুঁজে দেখা হচ্ছে। আর রেলের বাইরে থাকা অন্য জেলাগুলোয় রেল সম্প্রসারণের সমীক্ষা অচিরেই শুরু হবে বলে জানিয়েছেন রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বিশাল বিনিয়োগের পূর্ণ সুফল পেতে হলে শুধু যাত্রী পরিবহন নয়, পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দরকে কেন্দ্র করে পণ্য পরিবহনের বাণিজ্যিক সংযোগ এবং জেলাভিত্তিক অর্থনৈতিক হাব গড়ে তোলা জরুরি।
নতুন নেটওয়ার্কে জেলাগুলোয়ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনার সন্ধান করে তার সঙ্গে রেলকে সংযোগ করা ছাড়া পুরোপুরি সুফল মিলবে না বলে মত তাদের। রেলেই যাওয়া যাবে সাগরকন্যা কুয়াকাটায়। পদ্মা সেতুর রেললিংক প্রকল্পের ফরিদপুরের ভাঙ্গা পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারিত হওয়া সেই স্বপ্ন এখন অনেকটাই হাতের কাছে। ভাঙ্গা থেকে গোপালগঞ্জ-মাদারীপুর ও দক্ষিণাঞ্চলের বরিশাল, ঝালকাঠি, বরগুনা ও পটুয়াখালী পর্যন্ত ২৪৪ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণের সমীক্ষা শেষ হয়েছে বহুদিন আগেই।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, পায়রা বন্দরে অর্থনৈতিক জোন, বরিশালে মাল্টিমোডাল হাবসহ ১৯টি বড় স্টেশন নির্মাণ করা হবে। ১৭ কিলোমিটার নিচু জমিতে হবে উড়াল রেলপথ। কীর্তনখোলা, পায়রাসহ নদীগুলোয় নির্মাণ করা হবে ৪৬টি সেতু। কোনো ক্রসিং ছাড়া ট্রেন চলবে আন্ডারপাসের মধ্য দিয়ে। রেল প্রতিমন্ত্রী জানান, সম্ভাব্য ব্যয় ৪৪ হাজার কোটি টাকার এ প্রকল্পের অর্থের উৎস খুঁজছে সরকার। রেলের বাইরে থাকা অন্য জেলাগুলোয় রেল সম্প্রসারণের সমীক্ষা অচিরেই শুরু হবে বলে জানান রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ। আরো বলেন, আমাদের চিন্তা ভাবনার মধ্যে রয়েছে, যেহেতু এটার সমীক্ষার কাজ শেষ হয়েছে। সেহেতু অর্থ সংস্থানের দিকে চিন্তা আছে।
নেটওয়ার্কের বাইরে থাকা জেলাগুলোয় রেল সম্প্রসারণের লক্ষ্যে এগোচ্ছে সরকার। অল্প সময়ের মধ্যে এসবের জন্য নেওয়া হবে সম্ভাব্যতা যাচাই প্রকল্প বলে জানান রেলপথ প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, আমাদের চাওয়া ঢাকার আশপাশে রেলপথ বাড়ানো। পাবর্ত্য চট্টগ্রামের ৩টি জেলার সঙ্গে আমাদের রেল সংযোগ নেই আর দ্বীপ ভোলার সঙ্গে। বাকিগুলোর সঙ্গে রেল সংযোগ বাড়ানোর জন্য সরকার কাজ করছে। আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারে আছে, সবগুলো জেলাই আস্তে আস্তে রেল সংযোগের মধ্যে আসবে। রেল সম্প্রসারণের পাশাপাশি জেলাভিত্তিক অর্থনৈতিক বিকাশে রেলকে ব্যবহারের পরিকল্পনাও একইসঙ্গে গ্রহণের তাগিদ এ বিশেষজ্ঞের।
এদিকে যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. হাদিউজ্জামান বলেন, রেললাইন সম্প্রসারণ প্রকল্পের সঙ্গেই পায়রা বন্দর থেকে মালামাল পরিবহনের সুযোগসংবলিত সব প্রকল্প একইসঙ্গে বাস্তবায়ন করতে হবে। পায়রা বন্দরের যে সম্ভাবনা আছে, সেটাকে কাজে লাগিয়ে একটা আমদানি-রপ্তানিযোগ্য করিডোর তৈরি করা। পাশাপাশি যাত্রী পরিবহনে রেললাইন থাকবে। ফরওয়ার্ড এবং বেকওয়ার্ড লিংক যদি তৈরি না হয়, শুধু যাত্রী পরিবহন করে এত বিনিয়োগ এবং ইঞ্জিনিয়ারিং চ্যালেঞ্জ হিসেবে যে কথাটা বলছি, এ করিডোরটা কিন্তু আসলে তখন সরকার তথা জনগণের জন্য ঋণের একটা বড় বোঝা হয়ে দাঁড়াবে।
ড. হাদিউজ্জামান বলেন, প্রত্যেকটা জেলাই বাণিজ্যিক সুবিধা যেটার সুযোগ আছে সেই সুযোগটা কাজে লাগানোর জন্য প্রকল্পগুলো কিন্তু একসঙ্গে নিতে হবে। জমির প্লান এবং পরিবহন প্লান এটার মধ্যে যদি মেলবন্ধন তৈরি না হয়, তাহলে রেলপথ ঠিকই তৈরি হবে, তবে এ রেলপথের যে উপযোগিতা অর্থনীতি হোক আর বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে হোক, সেই উপযোগিতা কিন্তু তৈরি হবে না। বর্তমানে ৩ হাজার কিলোমিটার রেলপথ রয়েছে দেশে যা ৪৮টি জেলার সংযোগ স্থাপন করেছে।
"








































