ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপ ফুটবল-২০২৬ : এমবাপ্পের জোড়া গোল
ফেভারিটের মতোই খেলছে ফ্রান্স

এই বিশ্বকাপে যেন ৩ গোলের কম দেওয়া যাবে না- এমন প্রতিজ্ঞা নিয়ে এসেছে ফ্রান্স। গ্রুপ পর্বে ৩ ম্যাচে ১০ গোলের পর রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচেও সুইডেনের জালে তিন গোল দিয়েছে ফরাসিরা। ৩-০ গোলের কর্তৃত্বপূর্ণ এ জয়ে শেষ ষোলোয় প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচ নিশ্চিত হয়েছে দিদিয়ের দেশ্যমের দলের। দাপুটে এ জয়ে ফ্রান্স আরো একবার বুঝিয়ে দিল, কেন শুরু থেকেই এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম শক্তিশালী দাবিদার হিসেবে মানা হচ্ছে তাদের। গত ম্যাচে গোল না পেলেও এ ম্যাচে আবারও জোড়া গোলের ধারায় ফিরেছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। চলতি আসরে তৃতীয়বারের মতো ম্যাচে ২ গোল করেছেন এ ফরাসি সুপারস্টার। লিওনেল মেসির সঙ্গে যৌথভাবে ৬ গোল এখন এমবাপ্পের। তবে সঙ্গে নরওয়ের সঙ্গে দুটি অ্যাসিস্টও থাকায় গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে এখন এমবাপ্পেই এগিয়ে। ৩-৪-১-২ ফর্মেশনে খেলতে থাকা সুইডেনকে শুরু থেকেই চাপে রাখার চেষ্টা করেছে ফ্রান্স। ২১ মিনিটেই তার ফল পেতে পারত দলটি। মাইকেল ওলিসের নজরকাড়া থ্রু বল থেকে গোল করেছিলেন এমবাপ্পে, তবে অফসাইডের কারণে সেটি বাতিল হয়। ৩০ মিনিটে আদ্রিয়ান রাবিওর দূরপাল্লার শট ঠেকান সুইডিশ গোলরক্ষক। তবে ৩২ মিনিটে এমবাপ্পে যে সুযোগ মিস করেছেন, সেটি যেন তার নিজেরই বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়েছে। সামনে একদম অরক্ষিত গোলপোস্ট থাকা সত্ত্বেও বল মেরেছেন পোস্টে, ফলে এ দফায়ও গোলবঞ্চিত থাকতে হয় তাকে। এর ঠিক ৪ মিনিট পর ম্যাচের অন্যতম আকর্ষণীয় দৃশ্যটি আসে ওলিসের সৌজন্যে। এ বায়ার্ন মিউনিখ তারকার দুর্দান্ত ওভারহেড কিকটি ডান পোস্টে লেগে ফেরত না এলে নিঃসন্দেহে এবারের আসরের অন্যতম সেরা গোলের দাবিদার হতো সেটি।
প্রথমার্ধেই অন্তত ৩ গোলে এগিয়ে থাকতে না পারার আক্ষেপ অবশেষে কিছুটা দূর হয় এমবাপ্পের পায়েই। উসমান ডেম্বেলের থেকে বল পেয়ে ডি-বক্সের পা প্রান্ত থেকে তার ট্রেডমার্ক শটে দলকে প্রথম গোল এনে দেন ফরাসি অধিনায়ক। গোল করেই তিনি ছুটে যান কোচ দেশমের দিকে, নরওয়ে ম্যাচের আগেই যিনি হারিয়েছেন মাকে। তবে প্রথমার্ধের যোগ করা সময়েই ম্যাচে ফেরার সেরা সুযোগ পেয়েছিল সুইডেন। দ্রুত প্রতি আক্রমণে একদম সুবিধাজনক অবস্থানে বল পেয়েছিলেন এলিয়ট স্ট্রাউড, তবে শেষ পর্যন্ত তিনি বল পাঠান পোস্টের বাইরে। দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের ধার আরো বাড়ায় ফ্রান্স। ৫৩ মিনিটে এর সুফল পান ব্র্যাডলি বারকোলা। ওলিসের থেকে বল পেয়ে ঠাণ্ডামাথায় পেনাল্টি স্পটের কাছাকাছি জায়গা থেকে নিচু শটে ব্যবধান ২-০ করেন এ পিএসজি ফুটবলার।
সুইডেনের ম্যাচে ফেরার বিন্দুমাত্র সম্ভাবনা থেকে থাকলেও ৭৪ মিনিটে সেটি শেষ করে দেন এমবাপ্পে। এ গোলের কারিগরও ওলিসে, তিন সুইডিশ ডিফেন্ডারকে নিষ্ক্রিয় করে এমবাপ্পের উদ্দেশে বল পাঠান তিনি, দারুণভাবে বলটা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বাঁকানো শটে ৩-০ গোলের জয় নিশ্চিত করেন এমবাপ্পে। ৮৫ মিনিটে যখন তাকে উঠিয়ে নেওয়া হয়, কোচ দেশ্যমের তার উদ্দেশে মাথা ঝোঁকানোই বলে দেয়, এমবাপ্পে কতটা অপ্রতিরোধ্য ফর্মে আছেন। জোড়া গোলে সব আলো এমবাপ্পে নিজের দিকে টেনে নিলেও এ ম্যাচে ফ্রান্সের বড় পাওনা মাইকেল ওলিসের পারফরম্যান্স। প্রায় প্রতিটি আক্রমণের সূচনা হয়েছে এ বায়ার্ন তারকার থেকে। নিজে গোল না পেলেও ফ্রান্সের আক্রমণভাগের স্পন্দন হিসেবে খেলে যাচ্ছেন ওলিসে। টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত ৫টি অ্যাসিস্ট ওলিসের, যা এবারের আসরে সর্বোচ্চ।
এ ২ গোলে বিশ্বকাপে এখন ১৮ গোলের মালিক এমবাপ্পে, মেসির থেকে পিছিয়ে আছেন মাত্র ১ গোলে। কেবল শেষ ৫ ম্যাচেই বিশ্বকাপে ৯টি গোল করেছেন এ রিয়াল মাদ্রিদ তারকা! এ ম্যাচেই আরো একটি অনবদ্য রেকর্ড হয়েছে ফ্রেঞ্চ অধিনায়কের। বিশ্বকাপ ইতিহাসের প্রথম ফুটবলার হিসেবে নকআউট পর্বে ১০ গোলের মালিক এখন এমবাপ্পে। ব্রাজিলের লিওনিদাস ও রোনালদো নাজারিও এ দুজনের ৮টি করে গোলই ছিল এতদিনের রেকর্ড। শেষ ষোলোয় এ দুরন্ত ফ্রান্সের মোকাবিলা করবে জার্মানিকে হারিয়ে চমক দেওয়া লাতিন দল প্যারাগুয়ে।
"








































