নিজস্ব প্রতিবেদক

  ০২ জুলাই, ২০২৬

২০২৫-২৬ অর্থবছর

দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ৩৫৫৬ কোটি ডলার

সদ্যবিদায়ি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স) এসেছে ৩৫.৫৬২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় এটি ৪ লাখ ৩৮ হাজার ১২৮ কোটি টাকা। এটি কোনো অর্থবছরে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়। আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে প্রবাসী আয় এসেছিল ৩০.৩২৯ বিলিয়ন ডলার। সে তুলনায় বিদায়ি অর্থবছরে এসেছে ১৭ শতাংশ বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্যে এসব জানানো হয়েছে।

তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের ১ থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত দেশে মোট ২.৮০৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। গত বছরের একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল ২.৮২৩ বিলিয়ন ডলার। সে হিসাবে জুন মাসে রেমিট্যান্সে ০.৬ শতাংশ ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এদিকে সদ্যবিদায়ি জুন মাসে রেমিট্যান্স এসেছে ২.৮০ বিলিয়ন (২৮০ কোটি ৬০ লাখ) ডলার। ৩০ জুন একদিনে দেশে ১২ কোটি (১২০ মিলিয়ন) মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। তবে এটি সাময়িক (প্রভিশনাল) হিসাব। ব্যাংক হলিডের কারণে ১১টি ব্যাংকের তথ্য এতে অন্তর্ভুক্ত হয়নি।

মাসভিত্তিক রেমিট্যান্সপ্রবাহের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের জুনে এসেছে ২.৮০ বিলিয়ন ডলার, মে মাসে ৩.৪২ বিলিয়ন ডলার, এপ্রিলে ৩.১২ বিলিয়ন ডলার, মার্চে ৩.৭৫ বিলিয়ন ডলার, ফেব্রুয়ারিতে ৩.০২ বিলিয়ন ডলার এবং জানুয়ারিতে এসেছে ৩.১৭ বিলিয়ন ডলার। এর আগে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে এসেছে ৩.২২ বিলিয়ন ডলার, নভেম্বর মাসে ২.৮৯ বিলিয়ন ডলার, অক্টোবরে ২.৫৬ বিলিয়ন ডলার, সেপ্টেম্বরে ২.৬৮ বিলিয়ন ডলার, আগস্টে ২.৪২ বিলিয়ন ডলার এবং জুলাই মাসে এসেছে ২.৪৭ বিলিয়ন ডলার।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, বিদায়ি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে গড়ে মাসে প্রায় ৩০০ কোটি ডলার করে রেমিট্যান্স এসেছে দেশে। এর মধ্যে চলতি বছরের মে মাসে ৩.৪২ বিলিয়ন ডলার, এপ্রিলে ৩.১২ বিলিয়ন ডলার, মার্চে ৩.৭৫ বিলিয়ন ডলার, ফেব্রুয়ারিতে ৩.০২ বিলিয়ন ডলার এবং জানুয়ারিতে ৩.১৭ বিলিয়ন ডলার এসেছে। এর আগে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে এসেছে ৩.২২ বিলিয়ন ডলার। ফলে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত টানা ৬ মাস ধরে ৩ বিলিয়ন বা ৩০০ কোটি ডলারের বেশি প্রবাসী আয় দেশে এসেছে।

ব্যাংক খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, পবিত্র ঈদুল ফিতর ও মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের কারণে বাংলাদেশের প্রবাসী বাংলাদেশিরা মার্চ ও এপ্রিল মাসে বেশি অর্থ দেশে পাঠিয়েছেন। পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে মে মাসেও সেই ধারা অব্যাহত ছিল। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে প্রবাসী আয়ে ডলারের দাম বেশি পাওয়া যাচ্ছে। কারণ দেশে ডলারের বিপরীতে টাকার মান কিছুটা কমেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, বিদায়ি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে (জুলাই-জুন) প্রবাসীরা বৈধ চ্যানেলে রেকর্ড ৩৫.৫৬ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন, যা আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরের (৩০.৩৩ বিলিয়ন ডলার) তুলনায় ১৭.৩০ শতাংশ বেশি। এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অর্থবছরে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়ের নতুন রেকর্ড। প্রবাসী আয় সংগ্রহে শীর্ষে রয়েছে ইসলামী ব্যাংক। এরপরই প্রবাসী আয় বেশি এসেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়