নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলার পাপেটম্যান মুস্তাফা মনোয়ার আর নেই

‘বাংলাদেশের পাপেটম্যান’ খ্যাত শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার আর নেই। গতকাল সোমবার সকালে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তার বয়স হয়েছিল ৯০ বছর। তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিউমোনিয়া ও প্রোস্টেট ক্যানসারে ভুগছিলেন।
স্কয়ার হাসপাতাল সূত্র জানায়, চলতি মাসের ১৪ তারিখে অসুস্থ অবস্থায় মুস্তাফা মনোয়ারকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গতকাল সকাল সাড়ে ৮টায় তার মৃত্যু হয়। শিল্পকলায় অবদানের জন্য ২০০৪ সালে ‘একুশে পদক’ দেওয়া হয়েছিল মুস্তাফা মনোয়ারকে। এছাড়া নানা সম্মাননায় ভূষিত ছিলেন তিনি। পারিবারিক সূত্র জানায়, রাতে শিল্পীর লাশ স্কয়ার হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়। আজ মঙ্গলবার সকাল ৯টায় বিটিভিতে তার প্রথম জানাজা হবে। বেলা ১১টায় শহীদ মিনারে তার লাশ সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হবে। বাদ জোহর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে মুস্তাফা মনোয়ারের দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে তার লাশ শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য নেওয়া হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে। বনানী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।
শিল্পীর ব্যক্তিগত সহকারী রুবেল মিয়া জানান, হাসপাতাল থেকে মুস্তাফা মনোয়ারকে নেওয়া হয় ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদে। সকাল সাড়ে ১০টায় শিল্পীর লাশবাহী ফ্রিজিং ভ?্যান তার ধানমন্ডির ১ নম্বর সড়কের নিজ বাড়ির সামনে আনা হয়। সেখানে শিল্পীর পরিবারের সদস্য, আত্মীয়-স্বজন, অনুরাগী ও সুহৃদরা শ্রদ্ধা ও শোক জানান। তাদের মধ্যে ছিলেন বরেণ্য শিল্পী ইমেরিটাস অধ্যাপক রফিকুন নবী, গ্যালারি চিত্রকের নির্বাহী পরিচালক মনিরুজ্জামান, বিটিভির মহাপরিচালক মো. মাহবুবুল আলম, অভিনেতা তারিক আনাম খান, বিশিষ্ট পাপেটশিল্পী জিল্লুর রহমান, তামান্না তিথি, সোহেল আহমেদ, খালিদ আহমেদ, মো. নোমান, অনুকূল দাসসহ অনেকে। সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়, বাংলা একাডেমি, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন শোক জানিয়েছে।
কবি গোলাম মোস্তফার ছেলে মুস্তাফা মনোয়ারের জন্ম ১৯৩৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর। ছোটবেলা থেকেই মুস্তাফা মনোয়ারের ছবি আঁকা আর গানের প্রতি আকর্ষণ। নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় যোগ দেন রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে। জেলে যান ছবি আঁকার অপরাধে। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের লাল সূর্যের অন্যতম স্থপতি মুস্তাফা মনোয়ার। সৃষ্টি করেছেন ‘পারুল’-এর মতো জনপ্রিয় চরিত্র। জড়িত ছিলেন ‘মীনা’র সঙ্গে। নির্মাণ করেছেন শিশু-কিশোরদের প্রতিভা বিকাশে বাংলাদেশের সবচেয়ে মানসম্পন্ন ও জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘নতুন কুঁড়ি’। তার নির্মিত অনুষ্ঠান ‘মনের কথা’ও ব্যাপক সমাদৃত।
মুস্তাফা মনোয়ারের কর্মজীবনের শুরু পূর্ব পাকিস্তান চারু ও কারুকলা মহাবিদ্যালয়ের প্রভাষক হিসেবে। পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি, বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন সংস্থা, শিল্পকলা একাডেমিসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে উচ্চপদে কর্মরত ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় শরণার্থীশিবিরে শিশুদের আতঙ্কগ্রস্ত মলিন চেহারা মুস্তাফা মনোয়ারকে ব্যথিত করে। তাই শিশুদের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য সেই শরণার্থীশিবিরেই আয়োজন করেন জীবনের প্রথম পাপেট শো। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর নতুন আঙ্গিকে বাংলাদেশের শিল্পজগতে মুস্তাফা মনোয়ার মেলে ধরেন পাপেটের এক নতুন রূপ।
"







































