গাজী শাহনেওয়াজ

  ০৬ আগস্ট, ২০২১

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের অভিমত

বিধিনিষেধ না মানা উদ্বেগজনক

নভেল করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার ঘোষিত কঠোর বিধিনিষেধ মূলত অকার্যকর হয়ে পড়েছে বলে অভিমত দিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, চলমান কঠোর বিধিনিষেধ না মানা উদ্বেগজনক। কেননা করোনায় সংক্রমণ ও মৃত্যু দুটিই ঊর্ধ্বমুখী। পরিস্থিতি দেখেও সতর্ক না হওয়ার মাশুল দিতে হবে পরিবারের সদস্যদের অসুস্থ ও মৃত্যুতে।

শুরুতে আক্রান্তের হার নারীদের তুলনায় পুরুষ বেশি হলেও বতর্মানে বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে; নারী ও তরুণরাই বেশি অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করছে; যা কঠোর বিধিনিষেধ না মানার নেতিবাচক দিক।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতো অর্থনীতিবিদরাও আগামীতে লকডাউনের আদলে কঠোর বিধিনিষেধের বিকল্প পথ বেছে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা বলছেন, কঠোর বিধিনিষেধ উঠিয়ে দ্রুত স্বাস্থ্যবিধি মানায় সচেতন করতে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। নিশ্চিত করতে হবে শতভাগ মাস্ক পরা। পাশাপাশি গণটিকা কার্যক্রম গ্রহণ করে মাসের মধ্যে দুই ডোজ সম্পন্ন করতে হবে। এটাই হবে কঠোর বিধিনিষেধ বা লকডাউনের বিকল্প।

এদিকে কঠোর বিধিনিষেধেও বন্ধ থাকছে না অপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকানপাট। রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকছে। গণপরিবহন ও শপিং মল ছাড়া বলা যায় সবই খোলা। দিব্যি চলছে বেচা-বিক্রি। দোকানের শাটার একটি খুলে বাইরে বসে থাকেন; ক্রেতা এলেই পণ্যটি বিক্রি বাইরে আবার অবস্থান করেন। পুলিশের গাড়ির শব্দ পেলেই বন্ধ করে শটকে পড়েন দোকানি। এভাবেই রাত পর্যন্ত চলে দোকান মালিক, অতি উৎসাহী জনতা ও পুলিশের মধ্যে দিনভর লুকোচুরি খেলা।

কথা হয় মিরপুর এলাকায় একজন চা দোকানি নুরুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘লকডাউনে দোকান খোলার কথা না। প্রধান সড়ক থেকে একটু ভেতরে হওয়াই খুলতে পারছি। পুলিশ এলেই বন্ধ করে দেই।’

‘লকডাউন’ না মানা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে স্বাস্থ?্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. বে-নজির আহমেদ প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, জনগণের অতি উৎসাহী হওয়ার পেছনে সরকার দায়ী। ঈদের আগে সব খুলে দিয়ে মানুষকে বাইরে বের হতে সাহস জুগিয়েছে। আর ঈদের পরে শিল্পকারখানা খোলায় মানুষ বলছে, সরকার তার সিদ্ধান্তে অটল নেই। তাই আমরা পেটের দায়ে বের হই এটা কোনো অপরাধ না।

আর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের পরামর্শক ডা. মো. আহাদ হোসেন প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, করোনায় শনাক্ত ও মৃত্যু উদ্বেগজনক। আরো উদ্বেগজনক জনগণের লকডাউন না মানা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যথেষ্ট তৎপর থাকার পরও মানুষের লকডাউন উপেক্ষা করে বাইরে ঘোরাফেরা দুঃখজনক। এই বেপরোয়া চলাফেরা করার কারণে মৃত্যু ও শনাক্ত বাড়ছে।

কোভিড হাসপাতালের এই পরামর্শক বলেন, করোনার প্রথম দিকে পুরুষ এবং বয়স্করা বেশি আক্রান্ত হতেন এবং মারাও যেতেন অনেকে। বতর্মানে নারী ও তরুণরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। এর কারণ ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট। এটা খুবই মারাত্মক। এতে আক্রান্ত ব্যক্তির দ্রুত স্বাস্থ্যহানি হয় এবং মৃত্যু ঘটে।

বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ আবু আহমেদ প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, এ দেশের মানুষের লকডাউন অ্যাফোট করার সক্ষমতা নেই। সবসময় বলছি লকডাউনের বিকল্প সরকারকে খুঁজে বের করতে হবে। দেশের বেশির ভাগ মানুষ দিন আনে দিন খায় তাদের পক্ষে ‘লকডাউন’ মানা সম্ভব না। তাই ‘লকডাউন’ অকার্যকর হবে এটাই স্বাভাবিক।

 

 

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close