reporterঅনলাইন ডেস্ক
  ১০ মে, ২০২১

ঝুঁকি নিয়ে ঈদযাত্রা আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত

বাড়ি যাব কী যাব না! সিদ্ধান্ত আমার। নিশ্চয়ই; আমার সিদ্ধান্ত আমাকেই নিতে হবে। তাও আবার ঈদ সামনে রেখে। এ সময় আমরা সবাই যেন একপ্রকার ‘বিদ্যাসাগর’ বনে যাই। মা ডেকেছেন। অমান্য করার সাদ্ধি কার! এ ভাবনার প্রতি চিরকালই আমরা সম্মান দেখিয়ে এসেছি। মান্য করার চেষ্টাও করেছি। কিন্তু সময় এবং পরিবেশ সবকিছুই বদলে দিতে পারে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলেছে অনেক কিছুই। শুধু বদলায়নি আমাদের সংস্কৃতি। মায়ের ডাকে যেতেই হবে। এ যেন নাড়ির বন্ধন। মাটি ও মানুষের মাঝে গড়ে ওঠা হাজার বছরের ভালোবাসার বন্ধন। পৃথিবীর খুব কম দেশেই এ বন্ধনের খোঁজ পাওয়া যায়। এ বন্ধন মানুষকে আপ্লুত করে, জাগ্রত করে, ভালোবাসার শিক্ষা দেয়। সব বাধা-বিপত্তি উপেক্ষা করে তাইতো ফী-বছর আমরা সেই একই দৃশ্য দেখতে পাই।

যা নিয়ে ভয় ছিল, শেষ পর্যন্ত তাই ঘটে গেল। ঈদে ঘরমুখো মানুষের ঢল সামলানো গেল না। গত বছরও নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে হাজার হাজার মানুষ বাড়ি ফিরেছিলেন। এবারও তার ব্যতিক্রম হলো না। প্রাণঘাতী ভাইরাসের ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণের লাগাম টানতে ঈদের ছুটি কমিয়ে, দূরপাল্লার পরিবহন বাস, লঞ্চ ও ট্রেন চলাচল বন্ধ রেখে গ্রামে যাওয়া আটকে দেওয়ার যে পরিকল্পনা সরকার করেছিল, কার্যত তা ভেঙে পড়েছে। বিকল্প পথে হাজার হাজার মানুষ গ্রামে ফিরছেন। পাশাপাশি ঈদের দিন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে শপিং মল ও বিপণিবিতানে দেখা যাচ্ছে উপচে পড়া ভিড়। এরই মধ্যে দ্রুত সংক্রমণ ছড়ানোর ক্ষমতাসম্পন্ন করোনাভাইরাসের ভারতীয় একটি ধরন বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। এ মুহূর্তে আমরা যদি কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চলি, তাহলে আমাদের অবস্থাও ভারতের মতো বা আরো ভয়াবহ হতে পারে। তাই এ ক্ষেত্রে সতর্কতার কোনো বিকল্প নেই।

------
দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, সতর্কতার দেয়াল ভেঙে ফেলেছে ঈদুল ফিতরে বাড়ি ফেরা মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থাপনা। কর্তৃপক্ষের ধারণা থাকা উচিত ছিল, হাজার মজবুত দেয়াল তৈরি করলেও তারা বাড়ি ফিরবে। এটাই এ দেশের আচার। ভুল ধারণা থেকেই ভুল সিদ্ধান্ত। আর এই ভুল সিদ্ধান্ত ডেকে এনেছে চরম বিশৃঙ্খলা। জেলার অভ্যন্তরে গণপরিবহন চালুর পরপরই গ্রামে ফেরার ভাবনায় পানি ঢালা হয়েছে। ভেঙে ভেঙে হলেও তারা যেতে পারছেন। ঠিক এ কারণেই ফেরিঘাটে উপচে পড়া ভিড় দেখা যাচ্ছে কয়েকদিন ধরে। ভিড় হবে তা আগে থেকেই অনুমেয় ছিল। অনুমানের বাইরে ছিলেন যাতায়াত ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংযুক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিবর্গ। তারা ভেবেছিলেন যাতায়াতের কোনো পথ খোলা না থাকলেই করোনা যুদ্ধে তারা মাইলফলক তৈরিতে সক্ষম হবেন। কিন্তু বিধি বাম। তাদের এ চিন্তা কোনো ভালো ফলাফল আনতে পারেনি।

আমরা খুব ভালোভাবেই জানি, বর্তমান বিশ্বে করোনার কোনো ওষুধ নেই। আছে প্রতিরোধের ব্যবস্থা। তাই এ মুহূর্তে আমাদের উচিত সবকিছুকে স্বাভাবিক রেখে কেবল প্রতিরোধের প্রশ্নে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা। ঈদে বাড়ি ফেরার ব্যাপারে যা ঘটে গেল তাতে সংক্রমণকে ঘরে প্রবেশের জন্য দরজা খুলে দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকার মতো। আমরা যেন এখান থেকে দ্রুত বেরিয়ে আসতে পারি। তবে এবারের ‘লকডাউনে’ আমরা (সাধারণ) কিছুটা হলেও সতর্কতার প্রশ্নে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছি। যা প্রতিরোধের ক্ষেত্রে একটি মোক্ষম ব্যবস্থা। আগামীতে কর্তৃপক্ষ নিশ্চয়ই কাজের আগে ভাববেন, ভালো করে ভাববেন এবং সিদ্ধান্তসহ কাজে এগিয়ে আসবেন এটুকুই প্রত্যাশা।

 

 

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close