reporterঅনলাইন ডেস্ক
  ১২ মে, ২০২৪

মাকে নিয়ে তারুণ্যের অনুভূতি

মা পৃথিবীর সবচেয়ে পবিত্রতম ও মধুর শব্দ। পৃথিবীর সবচেয়ে সম্মানীয় মানুষ মা। মা মানে শান্তির পরশ। মা-ই প্রতিটি সন্তানের প্রথম বন্ধু। মা শব্দের চেয়ে আপন শব্দ পৃথিবীতে আর একটিও নেই। মাকে না বলা অনেক কথা জমে আছে অনেক সন্তানের। মাকে নিয়ে সন্তানের জমে থাকা নানা ধরনের অনুভূতি ও স্মৃতিচারণ নিয়ে লিখেছেন তরুণ লেখক মো. জুবাইল আকন্দ

আমার মা সেরা মা

‘মা’ আমার হৃদয়ে রণিত সবচেয়ে প্রিয় শব্দ এটি। আমার মা এমন একজন মা, যার উপমা বা রূপক তিনি নিজেই। আমার মাকে বোঝাতে কিংবা তার স্নেহ-ভালোবাসা বুঝাতে কোনো উপমা কিংবা রূপক নেই, সবই তার পদধূলি সমতুল্য। এই বিশাল পৃথিবীর শেষ আছে, তল আছে মহাসমুদ্রেরও, দৈত্যদেহি পাহাড়ও তার সুপ্তধারা ঝরনা হারায়। শেষ হয় না শুধু মায়ের নিঃস্বার্থ ভালোবাসা। পৃথিবীর সব ধর্মেই মায়ের মর্যাদাকে অনেক উঁচুতে রাখা হয়েছে। ধর্ম, বর্ণ জাতি, গোষ্ঠী, সর্বত্রই মায়ের মর্যাদা সবার ওপরে। এমনকি স্রষ্টার পক্ষ থেকেও কঠোর সতর্কবার্তা রয়েছে মায়ের মর্যাদার বিষয়ে। আমিও তোমায় ভালোবাসি মা, যেমনি তুমি ভালোবেসে এই পৃথিবীর আলো দেখিয়েছো। এখনো তেমনই ভালোবাসি মা, যেমনি প্রথম শব্দ শিখেছিলাম ‘মা’।

মো. আরিফুল ইসলাম আকাশ

শিক্ষার্থী, ঝালকাঠি সরকারি কলেজ

মাকে বাচ্চাদের মতো আগলে রাখতে হবে

দশ মাস দশ দিন গর্ভে ধারণ করে মা আমাদের দুনিয়ার আলো দেখান। শিশু থাকা অবস্থায় তিনি আমাদের চোখের ভাষা বুঝে যথাযথ সময়ে আমাদের খাইয়েছেন, সেবাযত্ন করেছেন। একটু বড় হওয়ার পরপরই মা আমাদের প্রাথমিক শিক্ষার অ, আ এবং ক, খ শিখিয়ে আমাদের মনে শিক্ষার মূলমন্ত্র দিয়েছেন। এই মায়ের মাধ্যমেই আমরা জীবনের লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য বুঝতে শিখেছি। তাই আমাদের মায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা উচিত। সব সময় তাকে সম্মানের আসনে রাখা উচিত। মনে রাখতে হবে মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের জান্নাত। যদি তিনি আমাদের ওপর সন্তুষ্ট না থাকেন তবে আমাদের এই জীবন ব্যর্থ। তাই মায়ের বার্ধক্যে তাকে বাচ্চাদের মতো আগলে রাখতে হবে। তবেই তার প্রতি আমাদের সত্যিকার ভালোবাসা ফুটে উঠবে।

মো. রাকিব

শিক্ষার্থী, সরকারি সিটি কলেজ, চট্টগ্রাম

মায়ের স্থান হোক হৃদয়ে

‘মা’ পৃথিবীর সবচেয়ে মধুরতম শব্দ। পৃথিবীতে শ্রেষ্ঠ অনুভূতি হলো একজন সন্তানের মা হওয়া। মায়াভরা, সোহাগভরা, জাদুভরা এক শব্দের নাম মা। কী এক অনন্ত মহিমা রয়েছে এ শব্দের ভেতর! মা সবচেয়ে সর্বসংহা একজন নারী। মা ছাড়া কেউ সন্তানের দুঃখ-কষ্ট সহজে বুঝে না আর বোঝার চেষ্টাও করে না। একজন মা হচ্ছেন অস্তিত্বের ধারক ও বাহক। মায়েরা তার সন্তানের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেন। যাতে করে তার সন্তানরা ভালো থাকে। মা হচ্ছেন একজন প্রকৃত শিক্ষক। পারিবারিক শিক্ষাগুরু। মায়ের কাছ থেকে আমরা আমাদের মাতৃভাষা শিখি। মা সব সময় একজনের সন্তানের জন্য ভালো চান, দুঃখ-কষ্টে মা তার সন্তানকে প্রতিকূল পরিবেশ থেকে আগলে রাখেন। আমাদের যাদের মা বেঁচে আছে তাদের প্রতি খেয়াল রাখব, যত্ন নেব। মায়ের স্থান যেন বৃদ্ধাশ্রমে না হয়। অবাধ্য সন্তানের নিরাপত্তাহীনতার ভয়ে যেন আদালতে হাজির না হতে হয় কোনো মাকে। মা বোঝা নয়, স্রষ্টার দেওয়া আশীর্বাদ। আন্তর্জাতিক মা দিবসে সব মায়ের প্রতি অফুরান সম্মান ও শ্রদ্ধা।

দ্বীন ইসলাম

শিক্ষার্থী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজ

মা আমার পৃথিবী

‘মা’ পৃথিবীর সবচেয়ে মধুরতম শব্দ। পৃথিবীতে শ্রেষ্ঠ অনুভূতি হলো একজন সন্তানের মা হওয়া। মায়াভরা, সোহাগভরা, জাদুভরা এক শব্দের নাম মা। কী এক অনন্ত মহিমা রয়েছে এ শব্দের ভেতর! মা সবচেয়ে সর্বসংহা একজন নারী। মা ছাড়া কেউ সন্তানের দুঃখ-কষ্ট সহজে বুঝে না আর বোঝার চেষ্টাও করে না। একজন মা হচ্ছেন অস্তিত্বের ধারক ও বাহক। মধ্যযুগের শেষ কবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর ‘আমার সন্তান’ কবিতাতে লিখেছেন ‘আমার সন্তান যেন থাকে দুধে-ভাতে’। আমাদের যাদের মা বেঁচে আছে তাদের প্রতি খেয়াল রাখব, যত্ন নেব। মায়ের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের ক্ষেত্রে যেন বিন্দুমাত্র কার্পণ্য না হয়।

তৈয়বা খানম

শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম কলেজ

সন্তানের নীড়ে হোক মায়ের শ্রেষ্ঠ আসন

‘মা’ পৃথিবীর অন্যতম শক্তিশালী শব্দ। যা অতুলনীয়, যার কোনো সংজ্ঞা হয় না। যার কাছে সব ফিকে। মাকে নিয়ে লেখা অসাধ্য কারণ যার কোনো শেষ নাই। তাকে নিয়ে বলা বা লেখার জন্য নির্দিষ্ট কোনো দিনেরও প্রয়োজন হয় না। প্রতিটি সেকেন্ড, ঘণ্টা, দিন শুরু হয় মাকে ঘিরে। তারপরও এই যে জাগতিক নিয়মে একটা দিনকে ধরে বেঁধে দেওয়া হলো মা দিবস করে। অন্তত এ দিনটা আসলে সন্তানরা দুঃসাহস নিয়ে বসে যায় মাকে নিয়ে লিখতে। যে দিনটা শুধু মায়েদের জন্য। মা সন্তানের শ্রেষ্ঠ আশ্রয়স্থল, অভিযোগের বাক্স, সুখের নীড়। যে নীড় কখনো বিলীন হয় না। এই নীড় সন্তানের জন্য সব সময় উন্মুক্ত। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, বর্তমানে সেই মায়েদের প্রতি অনেক সন্তানের দায়িত্ব-কর্তব্য অবহেলায় পরিণত হয়েছে। একজন মা নিজের সবকিছু বিসর্জন দিয়ে দেয় তার সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য। কিন্তু সেই সন্তানের ভবিষ্যৎ নীড়ে অনেক মায়েদের ঠাঁই হয় না। সমাজে বৃদ্ধাশ্রম বাড়ছে আর সন্তানরা মায়েদের ভালোবাসার প্রতিদান দিচ্ছে। এর চেয়ে নির্মমতা আর কী হতে পারে? তাই বৃদ্ধাশ্রম নয়, সন্তানের নীড়ে হোক মায়ের শ্রেষ্ঠ আসন।

নাদিয়া সুলতানা

শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম কলেজ

মাকে নির্দিষ্ট সংজ্ঞায় সংজ্ঞায়িত করা যায় না

মা দিবসে তথাকথিত আনুষ্ঠানিকতা করে ‘মাকে’ নির্দিষ্ট কোনো সংজ্ঞায় সংজ্ঞায়িত করতে চাই না। কারণ, যতই বড় হচ্ছি, ততই মাকে অনুধাবন এবং উপলব্ধির করার অব্যক্ত অনুভূতির সঙ্গে পরিচিত হচ্ছি। তবুও বলি- দুঃখিনী মা আমার, সারাটা জীবন দুঃখের উঠোনে সুখের বীজ রোপণ করতে চেয়েছেন আমাকে ভেবে, নিজের অপূর্ণ স্বপ্নগুলোকে নিম পাতার পানি ছিটিয়ে সতেজ রেখেছেন আমার জন্যে। এই এক জীবনে মায়ের মতো কেউ নেই আমার পৃথিবীতে। নিঃস্বার্থ ভালোবেসে আদর-স্নেহ-শাসন সবটুকু উজাড় করে দিয়ে আমায় করেছো বন্দি মা গো অপরিশোধিত ঋণে। ভালোবাসি তোমার দুঃখের উঠোনকে এবং তোমাকে।

নুসরাত জাহান জেরিন

শিক্ষার্থী, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়