আন্তর্জাতিক ডেস্ক

  ১১ জুন, ২০২৬

সংঘাতের মধ্যেই ৫ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করছে ইরান

ইরান উপকূলীয় পাঁচটি স্থানে নতুন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা এগিয়ে নিচ্ছে। মূলত দেশটির বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থায় পারমাণবিক শক্তির অংশ বাড়ানোর বৃহত্তর কৌশলের অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ নিয়েছে দেশটি। এমনটি জানিয়েছেন ইরানের পারমাণবিক শক্তি সংস্থার প্রধান ও দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ ইসলামি।

ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনার বরাতে সোমবার আনাদোলু এজেন্সি জানায়, মোহাম্মদ ইসলামি দেশটির পার্লামেন্টের জ্বালানি ও নির্মাণ কমিশনের সদস্যদের সঙ্গে এক বৈঠকে এসব পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।

মোহাম্মদ ইসলামি জানান, ২০২২ সালে প্রকাশিত ইরানের পারমাণবিক শিল্পবিষয়ক বিস্তৃত কৌশলগত নথির ভিত্তিতেই এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তাঁর ভাষায়, ‘এই নথির ভিত্তিতে দেশের জ্বালানি মিশ্রণে পারমাণবিক বিদ্যুতের অংশ বাড়াতে উপকূলীয় পাঁচটি স্থানে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত রয়েছে এবং প্রকল্পগুলো নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোচ্ছে।’

মোহাম্মদ ইসলামি বলেন, বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এরই মধ্যে ৮০ বিলিয়ন কিলোওয়াট-ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাইলফলক অতিক্রম করেছে। তাঁর দাবি অনুযায়ী, এই উৎপাদন ইরানকে ১৩১ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল অথবা ২১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ঘনমিটার প্রাকৃতিক গ্যাসের সমপরিমাণ জ্বালানি সাশ্রয় করতে সহায়তা করেছে।

১৯৭৫ সালে জার্মান কয়েকটি কোম্পানি এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণকাজ শুরু করে। তবে ১৯৭৯ সালে ইরানের ইসলামি বিপ্লবের পর প্রকল্পটির কাজ বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে ইরান-ইরাক যুদ্ধ চলাকালে এই স্থাপনা বারবার বোমাবর্ষণের শিকার হয়, যা প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ আরও অনিশ্চিত করে তোলে।

এর বহু বছর পর ১৯৯৫ সালে ইরান এবং রাশিয়ার পারমাণবিক শক্তি মন্ত্রণালয়ের মধ্যে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি সম্পূর্ণ করার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির আওতায় রাশিয়ার অ্যাটমস্ট্রোএক্সপার্টকে প্রধান ঠিকাদার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে প্রযুক্তিগত ও আর্থিক জটিলতা, পাশাপাশি পশ্চিমা দেশগুলোর রাজনৈতিক চাপের কারণে প্রকল্পটি দীর্ঘ সময় ধরে একাধিকবার বিলম্বিত হয়। ২০০৭ সালে নির্মাণকাজ আবারও বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়লে একটি নতুন পুনর্নবীকরণ চুক্তি হয়, যেখানে ইরান ভবিষ্যতে নির্মাণকাজ সম্পন্ন হওয়ার পর ক্রমবর্ধমান খরচ ও মুদ্রাস্ফীতির ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়