শাহ আলম, খুলনা
খুলনায় অতিবৃষ্টিতে সাড়ে চার কোটি টাকার ক্ষতি

অতি বৃষ্টিতে খুলনা বিভাগের চার জেলায় আট হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কৃষকের আউশ থেকে শুরু করে নানা ধরনের সবজি মাঠেই নষ্ট হচ্ছে। এসব জেলায় ৩৫ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতির পরিমাণ ৪ কোটি ৪৯ লাখ ৯০ হাজার টাকা। ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলো হচ্ছে খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট ও নড়াইল। এদিকে শ্রাবণের শুরুতে অতিবৃষ্টির ফলে দিনমজুরদের পারিশ্রমিকের মজুরিও বেড়ে গেছে।
ক্ষেত্র বিশেষে সবজির দাম ১৫-২০ টাকা কেজিতে বেড়েছে। ডুমুরিয়া ও বটিয়াঘাটা থেকে সবজিবাহী ভ্যান ও ট্রলির ভাড়ার পরিমাণ দেড়গুণ বেড়েছে। কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় স্বল্পমূল্যে বেগুন, পটলসহ অন্যান্য সবজি বিক্রি করছে। অতিবৃষ্টির কারণে শীতের শিম, লাউ, টমেটো বাজারে আসতে বিলম্ব হবে। আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাসের ৯ জুলাই থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত খুলনায় ৫৪ দশমিক ৫ মিলিমিটার, বাগেরহাটে ৪০ দশমিক ৪১ মিলিমিটার, সাতক্ষীরায় ৪১ দশমিক ৮২ এবং নড়াইলে ২৪ দশমিক ৯৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়।
ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলাগুলো হচ্ছে তেরখাদা, পাইকগাছা, ডুমুরিয়া, বটিয়াঘাটা, ফুলতলা, দিঘলিয়া, দাকোপ, বাগেরহাট সদর, ফকিরহাট, মোল্লাহাট, কচুয়া, মোরেলগঞ্জ, শরণখোলা, চিতলমারী, নড়াইল সদর, লোহাগড়া, কালিয়া ও সাতক্ষীরা জেলা সদর। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী এ মাসে আউশ, আমন বীজতলা, তরমুজ, কাঁচামরিচ, পান, ঢেড়স, পুঁইশাক, ঝিঙে, উচ্ছে, বেগুন ও করোলা সবজি ক্ষেতেই পচেছে।
নড়াইল জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আরিফুর রহমান অতিরিক্ত পরিচালকের কার্যালয়ে পাঠানো প্রতিবেদনে উল্লখ করেছেন, জেলায় আমনের বীজতলা, আউশ, গ্রীষ্মকালীন সবজি ও পান ক্ষেতের ক্ষতি হয়েছে। এ জেলায় প্রায় ২ কোটি টাকার ফসলের ক্ষতি হয়েছে। লোকসান গুনতে হয়েছে ২ হাজার ৪৬৮ জন কৃষককে।
সাতক্ষীরা পৌরসভার কামালনগর, ইটাগাছা, মধুমল্লারডাঙ্গী, বদ্দীপুর কলোনি, মধ্যকাটিয়া, রইচপুর, রাজারবাগান, পুরাতন সাতক্ষীরাসহ সদর উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। এতে বেড়েছে চরম দুর্ভোগ। ডুবে যাওয়া ঘর-বাড়িতে রান্না-বান্না দুষ্কর। সাপ ও পোকা-মাকড়ের উপদ্রবে আতঙ্কিত জনসাধারণ। রাস্তা জলমগ্ন থাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে অনেক এলাকায়। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, খুলনা অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, চার জেলায় ১৩ হাজার ৩২০ হেক্টর জমিতে নানা জাতের ফসলের মধ্যে ৩৮৬ হেক্টর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষেতে পচে যাওয়া ফসলের মূল্য ৪ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে বাগেরহাট জেলায়। এখানে প্রায় চার হাজার মহাজন চাষি, বর্গা, প্রান্তিক চাষি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
"








































