নোয়াখালী প্রতিনিধি
দুর্নীতির মামলায় প্রকৌশলীর ৮ বছরের জেল

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফ উল্লাহ টিপুকে আট বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরো ছয় মাসের কারাদণ্ড এবং ৩৮ লাখ ৪৮ হাজার ৫৮৬ টাকা রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গত ১২ জুলাই নোয়াখালীর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. শওকত আলী এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
মামলার নথি ও আদালত সূত্রে জানা যায়, সাইফ উল্লাহ টিপু ফেনী সদর উপজেলার উপসহকারী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদ অর্জন করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারায় তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০০০ সালের ২৯ নভেম্বর থেকে ২০০৪ সালের ২৮ নভেম্বর পর্যন্ত সময়ে ‘বাবরহাট গ্যাস সিস্টেম লিমিটেড’, ফেনী থেকে প্রাপ্ত আয় ও অন্যান্য বৈধ আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য না থাকা সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া যায়। তদন্তে তার নামে মোট ৩৮ লাখ ৪৮ হাজার ৫৮৬ টাকা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের সন্ধান পাওয়া যায় বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। দুদকের তদন্তে আরো বলা হয়, সোনাগাজী উপজেলার একটি মৌজায় ২ দশমিক ৫ একর জমির ওপর বাড়ি নির্মাণে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হয়। এ ছাড়া একটি মার্কেট নির্মাণের ক্ষেত্রেও ব্যয়ের হিসাব নিয়ে অসঙ্গতি পাওয়া যায়। তদন্তে বাড়ি ও মার্কেট নির্মাণসহ বিভিন্ন সম্পদ অর্জনে ঘোষিত আয় ও প্রকৃত ব্যয়ের মধ্যে অসামঞ্জস্যের বিষয়টি উঠে আসে।
মামলাটির তদন্ত শেষে দুদকের তৎকালীন সহকারী পরিচালক মো. মতিউর রহমান আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরে দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে আদালত আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করেন।
রায়ে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ধারায় তিন বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং ২৭(১) ধারায় পাঁচ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। অনাদায়ে পৃথকভাবে কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হলেও দুই ধারার সাজা একসঙ্গে কার্যকর হবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলাটি রাষ্ট্রপক্ষে পরিচালনা করেন দুদকের আইনজীবী মোহাম্মদ জহির উদ্দিন। এ সংস্করণে অভিযোগ, তদন্ত, আদালতের রায় ও শাস্তির বিষয়গুলো আলাদা করে সাজানো হয়েছে, যাতে সংবাদটি জাতীয় দৈনিকের রিপোর্টের মতো আরো প্রাঞ্জল ও পেশাদার দেখায়।
"








































