নিজস্ব প্রতিবেদক

  ২৩ ঘণ্টা আগে

নারীর প্রতি অনলাইন সহিংসতা রোধে কঠোর অঙ্গীকার

দেশে দ্রুত ডিজিটালাইজেশনের প্রেক্ষাপটে নারীরা ক্রমবর্ধমান অনলাইন হুমকির সম্মুখীন। এই পরিপ্রেক্ষিতে সরকার ডিজিটাল নিরাপত্তাকে অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে চিহ্নিত করেছে। একইসঙ্গে ‘লিঙ্গভিত্তিক ও অনলাইন সহিংসতা, ঘৃণামূলক বক্তব্য এবং সাইবার বুলিংয়ের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স’ নীতির প্রতি সরকার তার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট এবং জেন্ডার বাজেট প্রতিবেদনে ডিজিটাল নিরাপত্তাকে নারীদের জন্য একটি নতুন ও জটিল ঝুঁকিপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নারীরা অনলাইনে হয়রানি, সাইবার বুলিং, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘন, ঘৃণামূলক বক্তব্য এবং অন্যান্য ডিজিটাল সহিংসতার শিকার হচ্ছেন। এটি তাদের মানসিক সুস্থতাকে ক্ষতিগ্রস্ত এবং অনলাইন মাধ্যমে তাদের অংশগ্রহণ ব্যাপকভাবে সীমিত করছে। প্রতিবেদনে সাইবার বুলিংকে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষার জন্যে ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, এটি ছাত্রীদের ওপর অতিরিক্ত মানসিক চাপ সৃষ্টি করছে। শিক্ষা জীবন থেকে তাদের ঝরে পড়ার হার বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে কাজ করছে।

তাই নারীর ক্ষমতায়নে কৌশলগত অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে সরকার লিঙ্গভিত্তিক এবং অনলাইন সহিংসতার বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ অবস্থান গ্রহণ করেছে।

বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারেও ‘লিঙ্গভিত্তিক ও অনলাইন সহিংসতা, ঘৃণামূলক বক্তব্য এবং সাইবার বুলিংয়ের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স’ নীতির ওপর বিশেষভাবে জোর দেওয়া হয়েছে। অনলাইন হয়রানি, ঘৃণামূলক বক্তব্য এবং ডিজিটাল বুলিং নিরসনে সরকার কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা করছে। প্রস্তাবিত পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে- সাইবার সহিংসতা ও যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগ, সাইবার অপরাধে জড়িতদের দ্রুত ও সুষ্ঠু তদন্ত এবং বিচার নিশ্চিত করা। এ ছাড়া নারীর প্রতি সহিংসতা ও নিপীড়ন কমাতে একটি পৃথক গোয়েন্দা ইউনিট এবং সাইবার ক্রাইম ট্র্যাকিং সিস্টেমসহ বিশেষায়িত প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গঠন করা হবে।

ডিজিটাল সহিংসতা প্রতিরোধে সরকার গণমাধ্যম ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে দেশব্যাপী সচেতনতামূলক প্রচারণারও পরিকল্পনা করছে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগ নারীবান্ধব সাইবার নিরাপত্তা প্রশিক্ষণকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে এবং শিক্ষার্থীদের ডেটা সুরক্ষা বা তথ্য নিরাপত্তা বিষয়ে দক্ষ করতে শিক্ষা ব্যবস্থায় ডিজিটাল নিরাপত্তাকে অন্তর্ভুক্ত করছে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ‘সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং নারীর প্রতি সহিংসতা ও নিপীড়ন হ্রাস’ শীর্ষক কর্মসূচির জন্য ১৬৭.৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী তার বাজেট বক্তৃতায় নারীর নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, ‘একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বৈষম্যহীন শ্রমবাজার গঠনে নারী ও শিশুবান্ধব কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা আমাদের সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। কর্মক্ষেত্রে নারী শ্রমিকদের ওপর যে কোনো ধরনের সহিংসতা বা যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।’

নির্বাচনী ইশতেহারের কথা উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী জানান, ইশতেহারে লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা অবসান এবং নারীদের অর্থনৈতিক সুযোগ সম্প্রসারণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগগুলোর মাধ্যমে দেশের সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় কোনো নারীই যেন পিছিয়ে না পড়েন, তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। তিনি আরো বলেন, নারী ও পুরুষের বিভিন্ন প্রয়োজন এবং অগ্রাধিকারগুলো বিবেচনায় নিয়ে সরকারি সম্পদের সুষম বণ্টন ও ব্যবহার নিশ্চিত করতে ‘জেন্ডার বাজেটিং’ একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত কৌশল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এর মূল লক্ষ্য একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, ন্যায়সঙ্গত এবং সমৃদ্ধ সমাজ গঠন করা। এদিকে ‘সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া পর্যালোচনা ও চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে গঠিত মন্ত্রিসভা কমিটি গত ১৫ জুলাই সচিবালয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে বৈঠকে বসে।

বৈঠকে তথ্যপ্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলা, সাইবার নিরাপত্তা জোরদারকরণ, নাগরিকদের অধিকার রক্ষা এবং ডিজিটাল সেবার নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় সংশোধন ও সুপারিশ নিয়ে আলোচনা করা হয়। খসড়া আইনটিকে আরো আধুনিক, কার্যকর ও বাস্তবসম্মত করতে বৈঠকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশও অনুমোদন করা হয়েছে।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়