নিজস্ব প্রতিবেদক
রিজেন্টের সেই সাহেদ আবারও গ্রেপ্তার

রাজধানীর মিরপুর ইসিবি চত্বর এলাকা থেকে রিজেন্ট গ্রুপ ও রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল সোমবার দুপুরে ক্যান্টনমেন্ট থানা-পুলিশ তাকে পল্লবী থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান বাসির।
ওসি বলেন, সাহেদের বিরুদ্ধে একটি সিআর মামলায় আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। সেই পরোয়ানার বিষয়টি ক্যান্টনমেন্ট থানাকে জানালে ক্যান্টনমেন্ট থানা-পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে পল্লবী থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের এক মাস পর, গত বছরের ৪ সেপ্টেম্বর প্রায় চার বছর কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পান সাহেদ। প্রতারণা, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, অস্ত্র, জালিয়াতি ও মানিলন্ডারিংসহ তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ৩৫টি মামলায় পর্যায়ক্রমে জামিন পাওয়ার পর তিনি কারামুক্ত হন।
পুলিশ জানায়, বেলা পৌনে ১১টার দিকে মিরপুর ইসিবি চত্বর এলাকায় মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ ব্যাংকের কর্মকর্তারা প্রথমে মোহাম্মদ সাহেদকে আটক করেন। বিষয়টি সেখানে কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশের নজরে এলে তারা উভয়পক্ষকে ইসিবি ট্রাফিক পুলিশ বক্সে নিয়ে যান।
খবর পেয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। সেখানে ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, সাহেদের বিরুদ্ধে তাদের ব্যাংকের চেক জালিয়াতির অভিযোগে পল্লবী থানায় একটি মামলা রয়েছে এবং সেই মামলায় সাজাসহ তার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট (পরোয়ানা) রয়েছে।
পরবর্তীতে ক্যান্টনমেন্ট থানা-পুলিশ পল্লবী থানার সঙ্গে যোগাযোগ করে ওয়ারেন্টের বিষয়টি নিশ্চিত করে। দুপুর ১টার দিকে পল্লবী থানা-পুলিশের একটি দল ক্যান্টনমেন্ট থানায় পৌঁছলে আটক মোহাম্মদ সাহেদকে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
করোনা কেলেঙ্কারি ও সাহেদের অতীত : মোহাম্মদ সাহেদ প্রথম দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনায় আসেন ২০২০ সালে করোনাভাইরাস মহামারির সময়। পরীক্ষা ছাড়াই করোনার ভুয়া সনদ দেওয়া এবং চিকিৎসার নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে তার মালিকানাধীন রিজেন্ট হাসপাতালের বিরুদ্ধে।
২০২০ সালের ৬ জুলাই র্যাবের একটি ভ্রাম্যমাণ আদালত উত্তরা ও মিরপুরে রিজেন্ট হাসপাতালের কার্যালয়ে অভিযান চালায়। অভিযানে জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়ার পর ৭ জুলাই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশে হাসপাতালটি সিলগালা করে দেওয়া হয়। ওই দিনই উত্তরা পশ্চিম থানায় সাহেদসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। এরপর আত্মগোপনে থাকা সাহেদকে একই বছরের ১৫ জুলাই ভোরে ভারতের সীমান্তবর্তী সাতক্ষীরা জেলা থেকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। দীর্ঘদিন কারাগারে থাকার পর ২০২৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান তিনি। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সাহেদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে মোট ৯৬টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি মামলায় তিনি সাজাপ্রাপ্ত আসামি। তবে সবকটি মামলায় জামিন পাওয়ায় দুই বছর আগে তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন। চেক জালিয়াতির নতুন এই ওয়ারেন্টের ভিত্তিতে তাকে আবারও আইনের আওতায় আনা হলো।
"








































