ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি
ধুনটে কৃষক হত্যা মামলার তদন্তে পিবিআই

বগুড়ার ধুনটে কৃষক নুরুল ইসলামকে কান কেটে ও চোখ উপড়ে হত্যার মামলাটি ৮ মাস পর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনে (পিবিআই) হস্তান্তর করা হয়েছে। বাদির আবেদনের প্রেক্ষিতে মামলাটি শেরপুর থানা থেকে পিবিআই বগুড়া কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়।
মামলা সূত্রে জানা যায়, উপজেলার নিশ্চিতপুর গ্রামের নুরুল ইসলাম তালুকদারের সঙ্গে তার ভাতিজা প্রতিবেশী নাজিম উদ্দিনের দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে। এ ঘটনার জেরে ২০২৫ সালের ১৯ নভেম্বর নাজিম উদ্দিন তার চাচা নুরুল ইসলামকে হত্যার হুমকি দেয়। এ অবস্থায় ২০২৫ সালের ২০ নভেম্বর সন্ধ্যায় প্রতিবেশী রুবা খাতুন নামে এক গৃহবধূ পুলিশের ভয় দেখিয়ে কৌশলে নুরুল ইসলামকে বাড়ি থেকে বের করে নেয়। এরপর থেকে কৃষক নুরুল ইসলামকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় নুরুল ইসলামের ছেলে শিক্ষক ইমদাদুল হক মিলন ধুনট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।
ওই ঘটনার দুদিন পর ২২ নভেম্বর সকাল ১০টায় বাড়ির অদূরে ধানক্ষেতের মাঝে কান কাটা ও চোখ উপড়ানো নুরুল ইসলামের মৃতদেহ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে ইমদাদুল হক মিলন বাদী হয়ে শেরপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় কোনো আসামির নাম উল্লেখ না থাকলেও আরজিতে নাজিম উদ্দিন ও রুবা খাতুনের নাম উল্লেখ রয়েছে। শেরপুর থানা এলাকায় মৃতদেহ পড়ে থাকায় সংশ্লিষ্ট থানায় মামলার পর উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুব্রত কুমারকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। ঘটনার পর থেকে নাজিম উদ্দিন ও রুবা খাতুন প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।
এদিকে দীর্ঘদিন এ হত্যাকাণ্ডের কোনো রহস্য উদ্ঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। এমন পরিস্থিতিতে মামলার বাদী ও নিহতের স্বজনরা ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছেন। এ ছাড়া মামলা তদন্তে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও বাদীর মনে অসন্তোষের সৃষ্টি হয়। ফলে হত্যার ন্যায়বিচার দাবি করে ১২ এপ্রিল মামলার তদন্তভার থানা পুলিশ থেকে পরিবর্তন করে পিবিআইর কাছে দেওয়ার আবেদন করেন মামলার বাদী।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বগুড়া পিবিআইর উপ-পরিদর্শক (এসআই) আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, দুই দিন আগে মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছি। মামলার নথিপত্রগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে সরেজমিন তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
"









































