reporterঅনলাইন ডেস্ক
  ১ ঘণ্টা আগে

নাটকীয় ম্যাচে স্বপ্নভঙ্গ ইরানের

ছবি : সংগৃহীত

ভিএআরের একটি মাত্র সিদ্ধান্ত, আর তাতেই বদলে গেল এক ফুটবল রূপকথার ইতিহাস। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে যখন উল্লাসে ফেটে পড়েছিল ইরান শিবির, ঠিক তখনই প্রযুক্তির নিষ্ঠুর স্ক্রিনে ভেসে উঠল অফসাইডের লাল রেখা। শেষ পর্যন্ত আর ইতিহাস গড়া হলো না ইরানের। নাটকীয়তায় ঠাসা ম্যাচে মিশরের সাথে ১-১ গোলের ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে এশিয়ান পরাশক্তিদের। আর এই ড্রয়ের সুবাদে ৩ ম্যাচে ৫ পয়েন্ট নিয়ে নিজেদের ফুটবল ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের টিকিট নিশ্চিত করল মিশর। অন্যদিকে ৩ পয়েন্ট নিয়ে অলৌকিক কিছুর অপেক্ষায় টেবিলের তিনে ঝুলে রইল ইরান।

ম্যাচের শুরু থেকেই ছিল টানটান উত্তেজনা। কিক-অফের মাত্র ৫ মিনিটের মাথায় লিড নেয় মিশর। মোহাম্মদ সালাহর চেনা বাঁ-পায়ের একটি দুর্দান্ত কার্লিং শট প্রথম দফায় ইরান গোলরক্ষক আটকে দিলেও বল পুরোপুরি ক্লিয়ার হয়নি। রিবাউন্ডে বল পান সাবের। তার নেওয়া দুর্বল শটটি ডিফেন্ডারদের অসংখ্য পায়ের জঙ্গল গলে এবং গোলরক্ষকের হাত ফসকে গোললাইন পার হয়ে যায়। এই গোলটি মিশরের ফুটবল ইতিহাসে বিশ্বকাপের দ্রুততম গোল হিসেবে রেকর্ড বইয়ে নাম লেখায়।

পিছিয়ে পড়ে মরিয়া হয়ে লড়া ইরান ম্যাচের শুরুর দিকেই সমতায় ফেরার সুবর্ণ সুযোগ পায়। আবদেলমোনেমের পা থেকে বল কেড়ে নেওয়ার চতুর চেষ্টায় ফাউলের শিকার হন ইরানি স্ট্রাইকার তারেমি। রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজালে স্পট কিক নেন তারেমি নিজেই। তবে গোলরক্ষকের বাম দিকে নেওয়া তার শটটি দুর্দান্ত ডাইভে নসাৎ করে দেন মিশরীয় প্রাচীর শোবেইর।

তবে সেই হতাশা ইরানকে বেশিক্ষণ গ্রাস করতে পারেনি। ১৫তম মিনিটেই ম্যাচে ফেরে ইরান। এজাতোলাহির বক্সের ভেতর থেকে নেওয়া শট শোবেইর ফিরিয়ে দিলেও রিবাউন্ডে বল পান রামিন রেজাইয়ান। অত্যন্ত কঠিন এক কোণ থেকে নিখুঁত শটে বল জালে জড়ান তিনি। প্রথম ম্যাচের পর এই ম্যাচেও গোল করে দলের ত্রাতা হলেন রেজাইয়ান, যা একই সাথে ইরানের ফুটবল ইতিহাসেও বিশ্বকাপের দ্রুততম গোল হিসেবে নথিবদ্ধ হয়।

দ্বিতীয়ার্ধে ইতিহাস গড়ার নেশায় আক্রমণের ধার বাড়ায় ইরান। ম্যাচের অন্তিম মুহূর্তে ফ্রি-কিক থেকে উড়ে আসা বল মিশরীয় ডিফেন্স ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হলে, সুযোগসন্ধানী শটে বল জালে জড়িয়ে দেন খালিলজাদে। পুরো ইরান দল যখন ইতিহাস ছোঁয়ার উদযাপনে মত্ত, তখনই ম্যাচের ভাগ্যবিধাতা হয়ে আসে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর)। রিপ্লেতে দেখা যায়, শট নেওয়ার মুহূর্তে খালিলজাদে সামান্য অফসাইডে দাঁড়িয়ে ছিলেন। ফলে গোল বাতিলের বাঁশিতে স্তব্ধ হয়ে যায় ইরান।

পিডিএস/এমএইউ

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়