ইসরাইল-লেবানন ১৪ দফা চুক্তির খসড়া প্রকাশ

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর সম্প্রতি ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে স্বাক্ষরিত ১৪ দফার একটি সমঝোতা চুক্তির খসড়া প্রকাশ করেছে। ওয়াশিংটন ডিসিতে হওয়া এই চুক্তির মূল বিষয়গুলো হলো:
১. নিরাপত্তা ও অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ
সেনাবাহিনীর দায়িত্ব: লেবাননের সেনাবাহিনী প্রাথমিকভাবে নির্ধারিত দুটি 'পাইলট জোন' বা পরীক্ষামূলক অঞ্চলে ধাপে ধাপে পূর্ণ নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব নেবে। তবে কৌশলগত কারণে অঞ্চল দুটির নাম এখনো গোপন রাখা হয়েছে। পরবর্তীতে দুই দেশের সম্মতিতে আরও অঞ্চল এই তালিকায় যুক্ত হতে পারে।
অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ও নিরস্ত্রীকরণ: লেবানন সরকার দেশে শক্তির ব্যবহারের ওপর রাষ্ট্রের একক কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠা করবে। চুক্তি অনুযায়ী হিজবুল্লাহসহ সব অ-রাষ্ট্রীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীর সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ নিশ্চিত করা হবে।
২. ইসরাইলের অবস্থান ও প্রতিশ্রুতি
সামরিক অভিযান বন্ধের শর্ত: ইসরাইল জানিয়েছে, হিজবুল্লাহর মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হুমকির অবসান ঘটলে লেবাননে তাদের নতুন করে সামরিক অভিযান বা উপস্থিতির কোনো প্রয়োজন থাকবে না।
ভূখণ্ডগত দাবি: ইসরাইল স্পষ্টভাবে নিশ্চিত করেছে যে লেবাননের কোনো অঞ্চলের প্রতি তাদের কোনো আঞ্চলিক বা ভূখণ্ডগত লোভ নেই।
৩. পুনর্গঠন ও যৌথ শান্তি চুক্তি
আন্তর্জাতিক সহায়তা: লেবানন পুনর্গঠনের কাজে সহযোগিতা করতে যুক্তরাষ্ট্র তার আন্তর্জাতিক অংশীদারদের ঐক্যবদ্ধ করার উদ্যোগ নেবে।
যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ: দুই দেশের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ এবং দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও নিরাপত্তা চুক্তির খসড়া তৈরি করতে ইসরাইল ও লেবানন যৌথভাবে একটি ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করবে।
৪. যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ আর্থিক সহায়তা : সহিংসতার চক্র ভেঙে শান্তি ফেরাতে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর পৃথক বিবৃতিতে বড় অঙ্কের সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে:
মানবিক সহায়তা: জাতিসংঘের সাথে সমন্বয় করে লেবাননে জরুরি ভিত্তিতে ১০ কোটি ডলার মানবিক সহায়তা দেওয়া হবে।
সামরিক অনুদান: লেবাননের সেনাবাহিনীকে শক্তিশালী করতে মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর তাদের বিদ্যমান তহবিল থেকে ৩ কোটি ডলারেরও বেশি অর্থ প্রদান করবে।
পিডিএস/এমএইউ









































