ওষুধ রফতানিতে দেশের সাফল্যকে সাধুবাদ

প্রকাশ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৮:১৫

সম্পাদকীয়

সাফল্য। এমনই একটি শব্দ, যা সামনে এসে দাঁড়ালে বুকটা আনন্দে ভরে ওঠে। উদ্বেলিত হয়ে ওঠে মন। তা সে সাফল্য ব্যক্তির, প্রতিষ্ঠান অথবা রাষ্ট্রের, যারই হোক না কেন; ভালো লাগার একটা গুঞ্জন সঞ্চারিত হবেই নিজের মস্তিষ্কে। এমনই একটা সংবাদ ছিল গতকালের পত্রিকায়। সংবাদ শিরোনামে বলা হয়েছে, করোনা জয়ে বিশ্বের ৪০ দেশে বাংলাদেশি ওষুধ। এমন সুসংবাদে মন ভরে উঠবে এটাই স্বাভাবিক। এমন একটি শুভকাজের জন্য আমরা ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানসমূহকে ধন্যবাদ দিতেই পারি। এ কাজে কেবল প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা বাড়েনি। রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের মর্যাদাও বৃদ্ধি করেছে।

করোনাবিরোধী যুদ্ধে ওষুধশিল্পের কারণে বিশ্বের কাছে কদর বেড়েছে বাংলাদেশের। এ পর্যন্ত ৪০ দেশে পৌঁছে গেছে করোনা চিকিৎসায় বহুল ব্যবহৃত পাঁচটি ওষুধ। পাশাপাশি যুক্ত হয়েছে অন্যান্য ওষুধও। সব মিলিয়ে গত ছয় মাসে প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলারের ওষুধ রফতানি করেছে বাংলাদেশ। চাহিদা অব্যাহত রয়েছে। তবে চাহিদার ক্ষেত্রে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে করোনায় আক্রান্ত রোগীদের ওষুধসমূহ।

বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতির দেয় তথ্যমতে, ‘অনেক ধনী ও প্রভাবশালী দেশও বাংলাদেশ থেকে ওষুধ নিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশেও এ দেশ থেকে ওষুধ যাচ্ছে। ফলে এটাকে আমাদের একটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখা উচিত।’ কেবল উচিত বললেই পুরোটা বলা হবে না। আমাদের সমাজ কাঠামোর মধ্যে থেকে এ রকম সাফল্য সত্যিকার অর্থেই একটি বিস্ময়। এ ঘটনা প্রমাণ করে যে, ‘আমরাও পারি’। সততার ঘাটতি পূরণ করতে পারলে আরো অনেক কিছুতেই এ ধরনের সাফল্য আসতে পারে।

তারা আরো বলেছেন, বাংলাদেশের অনেক ওষুধ কোম্পানির সক্ষমতা শতভাগ বিশ্বমানের। ইউরোপ-আমেরিকার বড় বড় ওষুধ কোম্পানির যে সক্ষমতা ও যে মান রয়েছে আমাদের কয়েকটি কোম্পানিরও সে অবস্থান রয়েছে। এবার করোনায় ওষুধ নিয়ে বিশ্বজুড়ে যখন তোলপাড় শুরু হয়, তখন সবার আগে বিপুল পরিমাণে তা উৎপাদনে সক্ষম হয়েছি। এ ছাড়া বিশ্ববাজারে আমাদের ওষুধের গুণগত মান ও মূল্য অন্যান্য দেশের তুলনায় ভালো ও কম হওয়ায় সবাই এখন বাংলাদেশের দিকে ঝুঁকছে।

এদিকে ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের তথ্যমতে, বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের ওষুধ অনেক আগেই প্রবেশ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বহু দেশই আমাদের ক্রেতা। তবে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর আমাদের ওষুধশিল্প এক নতুন মাত্রা পেয়েছে। ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের সূত্রমতে, দেশে বেক্সিমকো, স্কয়ার, ইনসেপ্টা, রেনাটা, এরিস্টোফার্মা, এসিআই, এসকেএফসহ আরো কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ওষুধ গত বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ রফতানি হয়েছে। অতএব এক কথায় বলা যায়, আমরা আমাদের মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় সক্ষম হয়েছি।

এখন এ মর্যাদা ধরে রাখাটাই জরুরি। কোনো প্রকার অবহেলা কাম্য নয়। ঘর পোড়া গরুর সিঁদুরে মেঘ দেখলেই ভয়। আমরা ইতোপূর্বে কিছু কিছু পণ্য রফতানির ক্ষেত্রে সততার অভাব লক্ষ করেছি। আর সেই অসততার কারণে আমরা আমাদের গড়ে তোলা বাজার হারিয়েছি। এখানে আমরা যেন সেই পথে বাজার হারিয়ে না ফেলি। এ ব্যাপারে কঠোর সতর্কতা অবলম্বন করাই হবে একমাত্র কাজ। মনে রাখতে হবে, কোনো কিছু গড়ে তুলতে অনেক সময়ের প্রয়োজন এবং কষ্টসাধ্য ব্যাপার। তাই একে জীবন দিয়ে রক্ষা করাই হবে আমাদের দায়িত্ব।

পিডিএসও/হেলাল