ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
বড় বন্যার শঙ্কা
দুধকুমারের পানি বিপদসীমার ২৩ সেমি ওপরে, ডুবছে কুড়িগ্রামের চর

ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল আর টানা ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার প্রধান নদী দুধকুমারের পানি বিপদসীমার ২৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে নদী অববাহিকার চর ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে পানিবন্দী হয়ে পড়েছে কয়েকশ পরিবার। রাস্তাঘাট তলিয়ে ভেঙে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। আগামী ৭২ ঘণ্টায় পানি আরও বৃদ্ধি পেয়ে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, সোমবার (২৯ জুন) সকাল ৬টায় দুধকুমার নদের পানি পাটেশ্বরী পয়েন্টে ২৯.৭৬ সেন্টিমিটার রেকর্ড করা হয়, যা ছিল বিপদসীমার ১৬ সেন্টিমিটার ওপরে। পরে সকাল ৯টায় তা আরও বেড়ে ২৯.৮৩ সেন্টিমিটারে পৌঁছায়। ফলে নদের পানি বিপদসীমার ২৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সতর্ক করেছে যে, কুড়িগ্রামের নদ-নদীর পানি আরও বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে, যা একটি বড় ধরনের স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে। ইতিমধ্যে নদীর তীরবর্তী নিচু অঞ্চল ও চরাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় বাসিন্দারা পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। পানিতে তলিয়ে গেছে চরের শাকসবজিসহ বিভিন্ন ফসলের আবাদ।
নদী অববাহিকার তিলাই ইউনিয়নের দক্ষিণ তিলাই ও দক্ষিণ ছাটগোপালপুর গ্রামের শতাধিক বাড়িঘরে পানি ঢুকেছে। এ ছাড়া পাইকেরছড়া ইউনিয়নের ছিট পাইকেরছড়া ও পাইকডাঙ্গা; সোনাহাট ইউনিয়নের চর বলদিয়া ও চর শতিপুরী; চর ভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের ইসলামপুর এবং আন্ধারীঝাড় ইউনিয়নের চর বাড়ুইটারী ও চর ধাউরারকুটিসহ বেশ কিছু চরাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।
নদীতীরবর্তী বাসিন্দা হাসেম আলী, ফরিদুল ও আব্দুল জলিল জানান, বাড়িতে পানি ওঠায় গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগি নিয়ে তাঁরা চরম বিপাকে পড়েছেন। সেই সাথে তীব্র নদীভাঙন আতঙ্কে দিন পার করছেন।
পাইকেরছড়া ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক জানান, তাঁর ইউনিয়নের পাইকডাঙ্গা ও ছিট পাইকেরছড়া গ্রামের শতাধিক পরিবার পানিবন্দী। তিলাই ইউপি চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান জানান, তাঁর ইউনিয়নের ৩টি ওয়ার্ডের দুই শতাধিক পরিবার পানিবন্দী হলেও সোমবার পর্যন্ত কোনো ত্রাণ বরাদ্দ পাননি।
কুড়িগ্রাম পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান জানান, সকাল ৯টায় দুধকুমারের পানি বিপদসীমার ২৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। আগামী ৭২ ঘণ্টায় জেলার নদ-নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেয়ে বন্যা পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যেতে পারে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমৃত দেবনাথ জানান, বন্যা পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখতে একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে এবং ইউপি চেয়ারম্যানদের যোগাযোগ রাখতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া পরিস্থিতি মোকাবিলায় শুকনো খাবার ও মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
পিডিএস/এমএইউ









































