রাবি প্রতিনিধি
বদলায়নি পুরোনো চিত্র
রাবিতে কার্ড ছাড়াই হলে ছাত্রদল কর্মীদের রাজত্ব, অন্ধকারের বৃত্তেই প্রশাসন

ক্ষমতার পালাবদল হলেও দেশের উচ্চশিক্ষালয়গুলোতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সিট পাওয়ার দুর্ভোগ ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অবৈধভাবে হলে থাকার হতাশাজনক সংস্কৃতি যেন কিছুতেই কাটছে না। এবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলে কোনো বৈধ আবাসিক কার্ড ছাড়াই শাখা ছাত্রদলের তিন কর্মীর অবৈধভাবে থাকার অভিযোগ উঠেছে। বৈধ কার্ড না থাকার বিষয়টি হল কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করলেও বহিরাগত ও অবৈধভাবে থাকার এই চিত্র হলের সাধারণ শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকটকে আরও বাড়িয়ে তুলছে।
অভিযুক্ত ছাত্রদল কর্মীরা হলেন— ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের লতিফুর রহমান (কক্ষ নম্বর ২৮৩), বাংলা বিভাগের আরিফ শাহরিয়ার (কক্ষ নম্বর ৪৪৩) এবং ফার্মেসি বিভাগের নাহিদুল ইসলাম (কক্ষ নম্বর ১১৯)। তারা সবাই বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের বিভিন্ন দলীয় কর্মসূচিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। এর মধ্যে লতিফুর রহমান কেন্দ্রীয় ছাত্রদল কর্তৃক বিশেষ নির্বাচনী প্রচারণার দায়িত্বপ্রাপ্ত এবং পূর্বে হল সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। নিজের হল অন্যটি হওয়া সত্ত্বেও তিনি জোরপূর্বক এই হলে থাকছেন।
হল প্রশাসনের নজরদারির অভাব ও অসহায়ত্ব ফুটে উঠেছে হলের অফিস সহকারী মো. আব্দুর রহিমের বক্তব্যে। তিনি জানান, ওই কক্ষগুলোতে আসন খালি থাকলেও এই তিনজনের নামে কোনো বৈধ কার্ড ইস্যু করা হয়নি। অর্থাৎ, সাধারণ শিক্ষার্থীরা যখন সিটের জন্য হাহাকার করছেন, তখন রাজনৈতিক পরিচয়ে খালি আসনগুলো অবৈধভাবে দখল হয়ে আছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্তদের কাছ থেকে পাওয়া গেছে চেনা ও দায়িত্বজ্ঞানহীন অজুহাত। নাহিদুল ইসলাম সাংবাদিকদের সাথে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করে বলেন, "আমার হলের কার্ড আছে কি না, আমি আপনাকে বলব কেন? আপনি কে?" অন্যদিকে আরিফ শাহরিয়ার ও লতিফুর রহমান যথারীতি "বড় ভাইয়ের সিট" ও "সাময়িক বিপদে পড়ে থাকার" চেনা অজুহাত খাড়া করেন।
সবচেয়ে হতাশাজনক বিষয় হলো ছাত্রদল নেতৃত্ব ও হল প্রশাসনের দায় এড়ানোর প্রবণতা। কর্মীদের অবৈধ অবস্থানের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী সাফ জানিয়ে দেন, তিনি এদের চেনেনই না। উল্টো পুরো দায় হল প্রাধ্যক্ষের ওপর চাপিয়ে দিয়ে তিনি রাজনৈতিক কায়দায় মন্তব্য করেন।
এদিকে প্রাধ্যক্ষ ড. মো. আরিফুল ইসলামও তাৎক্ষণিক কোনো শক্ত পদক্ষেপের আশ্বাস দিতে পারেননি। "অফিস টাইম শেষ" হওয়ার অজুহাত দিয়ে তিনি জানান, ঘটনা সত্য হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিভিন্ন হলে যে এমন অবৈধভাবে শিক্ষার্থীরা থাকছে, তা স্বীকার করে তিনি কেবল নোটিশ দেওয়ার কথাই উল্লেখ করেন।
নিয়ম ভাঙার এই চিরচেনা মহোৎসব এবং ছাত্রনেতৃত্ব ও প্রশাসনের এমন উদাসীনতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের এক চরম অনিশ্চয়তা ও হতাশার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
পিডিএস/এমএইউ









































