পাবনায় উপ-নির্বাচন ঘিরে আ.লীগ-বিএনপির পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন

প্রকাশ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৭:৫৮

পাবনা প্রতিনিধি

রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের নামে মিথ্যা হয়রানি মামলা ও গণ গ্রেফতারের প্রতিবাদে ভোটারবিহীন ভোট বাতিল চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে বিএনপি প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব।

শনিবার দুপুরে তার নিজ বাড়ি সাহাপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, মিথ্যা মামলা ও গ্রেফতারের ভয়ে সমস্ত কেন্দ্রের পোলিং এজেন্ট ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা বিএনপি নেতা-কর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভয়-ভীতি দেখাচ্ছে। পুলিশ প্রতিটি নেতা-কর্মীর বাড়িতে গিয়ে তল্লাাশির নামে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। ভোটের ২দিন আগে ২টি মামলা দিয়ে শতাধিক নেতা-কর্মীর নাম উল্ল্যেখ করে অজ্ঞতানামা আসামি করে মামলা করা হয়েছে। এ জন্য তিনি এ ভোটারবিহীন নির্বাচন বাতিল করে নতুন করে তফশিল ঘোষণার দাবি জানান।

অপরদিকে আওয়ামী লীগের সাংগাঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল হোসেন পাবনা প্রেসক্লাবের ভিআইপ লাউঞ্জে দুপুর দেড়টায় বিএনপি প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিবের দাবি নাকচ করে বলেন, হাবিব সাহেব নির্বাচন করতে আসেননি। তিনি এসেছেন নির্বাচনের নামে বাণিজ্য করতে। আমি আপনাদের মাধ্যমে জানতে পারলাম হবিব সাহেব নির্বাচন বাতিল চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে। এটা কি মগের মল্লুক, ছেলের হাতের মোয়া যে চাইলো আর পেয়ে গেল। বিএনপি’র পায়ের তলায় মাটি নেই। দিকবিদিক শূন্য। এরা কখন কি বলে তা নিজেরাই জানেন না। এটা ওনার নেতা লন্ডন থেকে স্কাইপির মাধ্যমে যা বলেন তাই তারা বাস্তবায়ন করেন। বিএনপি হল সুবিধাবাদী দল, দুর্বৃত্তায়নের দল। জনগণ তাদের প্রত্যাখান করেছে। তাদের নেতা কর্মীরা তাদেরকে বিশ্বাস করে না। আমি মনে করি হাবিব সাহেব এটি একটি নাটক সাজিয়েছেন। তার নিজস্ব লোক দিয়ে আ’লীগ অফিসে হামলা করিয়েছেন। এজন্য যে আমি আওয়ামী লীগ অফিসে হামলাকরী তারা একটা মামলা দিয়ে দিক। একটি ক্ষেত্র তৈরি করার জন্য তিনি নিজের লোকজন দিয়ে আওয়ামী লীগ অফিসে হামলা করেছেন। তিনি এ আসনে ৬ বার হেরেছেন। এ এলাকার মানুষ তাকে প্রত্যাখান করেছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল রহিম লাল, সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক প্রিন্স এমপি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি এড.শামসুল হক টুকু এমপি, সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি নাদিরা ইয়াসমিন জলি, এ্যাটকো সভাপতি অঞ্জন চৌধুরী পিন্টু, পৌর মেয়র কামরুল ইসলাম মিন্টু, জেলা আ’লীগের সহসভাপতি আব্দুল হামিদ মাস্টার, জেলা যুবলীগের আহবায়ক গোলাম মর্তুজা বিশ্বাস সনি।

উল্লেখ্য, পাবনার ৪ আসনে শনিবার সকাল ৯টা থেকে ভোট গ্রহণ শুরু হয়। চলে বিকাল ৫টা পর্যন্ত। পাবনা ৪ ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩লাখ ৮১হাজার ১১২জন। এর মধ্যে পরুষ-১৯১৬৯৭, মহিলা-১৮৯৪১৫জন। ১২৯টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে ৮০টি কেন্দ্রকে অধিক গুরত্বপুর্ন হিসেবে বিবেচনা করছে প্রশাসন। গত ২ এপ্রিল সাবেক ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরিফ ডিলু মারা যাওয়ায় এ আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়।