চট্টগ্রাম ব্যুরো

  ১৯ মে, ২০২০

চট্টগ্রাম বন্দরের জেটি জাহাজশূন্য, এলার্ট ৩ জারি

ঘূর্ণিঝড় আম্ফান মোকাবিলায় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। বন্দরের জেটি থেকে বহির্নোঙরে পাঠানো হয়েছে সবগুলো জাহাজ (১৮টি)। বহির্নোঙর থেকে ৫১টি জাহাজ পাঠানো হয়েছে গভীর সমুদ্রবন্দরে। বন্দর এলাকায় জারি করা হয়েছে এলার্ট-৩। এছাড়াও সার্বক্ষণিক নজরদারির জন্য বন্দর সংশ্লিষ্ট এলাকায় চালু করা হয়েছে তিনটি কন্ট্রোল রুম। তিনটি কন্ট্রোল রুম হলো নৌ বিভাগ ০৩১৭২৬৯১৬, পরিবহন বিভাগ ০৩১-২৫১৭৭১১ ও সচিব বিভাগ ০১৭৫১৭১৩০৩৭।

চট্টগ্রাম বন্দর সূত্র জানায়, ঘূর্ণিঝড় আম্ফান মোকাবেলায় জেটি থেকে জাহাজ সরানোর পাশাপাশি ১৪টি গ্যান্ট্রি ক্রেন বুম আপ করে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া অফিস থেকে সংকেত পাওয়ার পর থেকে বহির্নোঙরের বড় জাহাজ থেকে ছোট জাহাজে পণ্য খালাস বন্ধ রয়েছে। এছাড়া সদরঘাট থানার বাংলাবাজারের দিকে থাকা লাইটার-কোস্টার ভ্যাসেলগুলো শাহ আমানত সেতুর দিকে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। কারণ ওই দিকটায় নদীর উজান।

এদিকে আবহাওয়া অফিস পায়রা ও মোংলা সমুদ্রবন্দরকে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত এবং কক্সবাজার ও চট্টগ্রামকে ৬ নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। চট্টগ্রাম আবহাওয়া অফিসের উপপরিচালক আসাদুর রহমান জানান, ঘূর্ণিঝড় আম্ফান চট্টগ্রাম থেকে ৮৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণ পশ্চিম এ অবস্থান করছে। এটি ১৯ মে রাত থেকে ২০ মে বিকাল অথবা সন্ধ্যার দিকে বাংলাদেশ অতিক্রম করবে।

চট্টগ্রাম বন্দর সচিব ওমর ফারক জানান, আম্ফান মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় সুব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জেটি থেকে সবগুলো জাহাজ বহির্নোঙরে পাঠানো হয়েছে। গ্যান্ট্রি ক্রেনগুলো বুম আপ করা হয়েছে। এলার্ট ৩ জারি করা হয়েছে। এছাড়া তিনটি কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে। বন্দর রক্ষায় এর বাইরে আরও যা যা পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন হবে তার সবটাই নেওয়া হবে। এদিকে ঘূর্ণিঝড় আম্ফান মোকাবলায় প্রস্তুতি করেছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় ৬ হাজার ৬৬০ জন সিপিপি স্বচ্ছাসেবক, ৮ হাজার জন রেড ক্রিসেন্ট স্বেচ্ছাসেবক এবং ৩৬০ জন স্কাউট স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুতি রয়েছে। ২৮৪টি মেডিকেল টিম ও ঔষধপত্র প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। এছাড়া উপজেলা ওয়ারী পর্যাপ্ত খাদ্যসামগ্রী (শুকনা খাবার) প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলার ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা সজীব কুমার চক্রবর্তী জানান, ক্ষতির সম্ভাব্য এলাকায় মাইকিং করা হচ্ছে। যাতে প্রস্তুতকৃত আশ্রয়কেন্দ্রে চলে মানুষজন চলে আসে। এছাড়াও ঘূর্ণিঝড় আম্ফান মোকাবেলায় চট্টগ্রাম জেলায় মোট ১ হাজার ৭৭০টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। যেখানে প্রায় ২ লাখ ৬৫ হাজার ৫০০ জন মানুষ আশ্রয় নিতে পারবেন। এছাড়া ৩০ হাজার মেট্রিক টন জিআর চাল, ৫ লাখ টাকা জিআর ক্যাশ, ৩ হাজার প্যাকেট শুকনা খাবার, শিশু খাদ্যের জন্য ৩ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

পিডিএসও/হেলাল

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
ঘূর্ণিঝড়,আম্ফান,চট্টগ্রাম,জেটি জাহাজ
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়