নাহিদ হাসান রবিন
মতামত
নিজের টাকায় কেনা ইন্টারনেট মেয়াদের হয়রানি বন্ধ হোক

ডিজিটাল বাংলাদেশের চমৎকার ভিত্তিপ্রস্তর পেরিয়ে আমরা যখন একটি জ্ঞানভিত্তিক স্মার্ট সমাজ বিনির্মাণের মহাসড়কে পদার্পণ করেছি, তখন ইন্টারনেট আর পাঁচটা বিলাসী উপকরণের তালিকায় পড়ে থাকে না। এটি এখন অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থানের মতোই নাগরিক জীবনের এক অদৃশ্য অথচ অপরিহার্য অনুঘটক। সকালের খবরের কাগজ পড়া থেকে শুরু করে দূরশিক্ষণ, ফ্রিল্যান্সিং, ব্যাংকিং লেনদেন কিংবা প্রত্যন্ত অঞ্চলের একজন কৃষকের আবহাওয়ার পূর্বাভাস জানা, সবকিছুই এখন এসে ঠেকেছে ওই মুঠোফোনের পর্দার আলোকচ্ছটায়। কিন্তু এই বিপুল সম্ভাবনাময় রূপান্তরের সমান্তরালে দেশের এক বিশাল সাধারণ ভোক্তা শ্রেণি প্রতিদিন এক নীরব, অব্যক্ত আর্থিক রক্তক্ষরণের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। সেই ক্ষরণের নাম মোবাইল ইন্টারনেটের মেয়াদের বেড়াজাল এবং মেগাবাইটের গোলকধাঁধা। নিজের কষ্টার্জিত অর্থে কেনা সেবা অথচ নির্দিষ্ট সময়ের গণ্ডিতে তা ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা এবং দিনশেষে অব্যবহৃত অংশ কর্পোরেট সিন্দুকে হারিয়ে যাওয়া একবিংশ শতাব্দীর এক অদ্ভুত বিপণন কৌশল, যা সাধারণ মানুষের মনে এক গভীর ও যুগোপযোগী যৌক্তিক অসন্তুষ্টির জন্ম দিচ্ছে। এই মনস্তাত্ত্বিক দূরত্ব দূর করতে এবং নাগরিকের ডিজিটাল অধিকার সুরক্ষিত করতে এখন রাষ্ট্রের অভিভাবকসুলভ ও সুনির্দিষ্ট নীতিগত হস্তক্ষেপের সময় এসেছে।
একটি উন্নয়নশীল এবং সাধারণ আয়ের দেশে প্রতিটি পয়সার হিসাব মেলাতে সাধারণ মানুষকে হিমশিম খেতে হয়। এ দেশের খেটে খাওয়া মানুষ, মধ্যবিত্ত চাকরিজীবী কিংবা টিউশনির টাকা বাঁচানো শিক্ষার্থী যখন বাজার থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় চাল, ডাল বা তেল কেনেন, তখন সেই পণ্যের ওপর পূর্ণ মালিকানা প্রতিষ্ঠিত হয় ক্রেতার। সেই চাল এক সপ্তাহে শেষ হবে নাকি এক মাসে, তা নির্ধারণের একক অধিকার ওই পরিবারের। কোনো বিক্রেতা বা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান দৈনন্দিন পণ্যের ক্ষেত্রে এমন নিয়ম করতে পারে না যে, ক্রয়ের সাত দিন পেরিয়ে গেছে বলে হাঁড়ির বাকি চাল তারা বাজেয়াপ্ত করে নিয়ে যাবে। অথচ ইন্টারনেটের মতো একটি অপরিহার্য সেবার ক্ষেত্রে এই আদিম ও অযৌক্তিক নিয়মটিই বছরের পর বছর ধরে জেঁকে বসে আছে। বিষয়টি যেন অনেকটা ভাড়ার গাড়ির মতো; আপনি নির্দিষ্ট গন্তব্যে যাওয়ার জন্য পুরো গাড়িটি ভাড়া নিলেন, কিন্তু মাঝপথে চালক আপনাকে নামিয়ে দিয়ে বলল যে আপনার জন্য বরাদ্দ সময় শেষ, বাকি পথ আপনাকে হেঁটে যেতে হবে! গ্রাহক একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা দিয়ে নির্দিষ্ট পরিমাণ ডেটা বা মেগাবাইট ক্রয় করার পর, সেই ডেটার স্থায়িত্ব কেন সময়ের কাঁটায় বন্দি থাকবে, তা এক মস্ত বড় প্রশ্ন। এই মেয়াদের দেওয়াল আসলে গ্রাহকের স্বাধীনতাকে খর্ব করে এবং তাকে এক ধরনের কৃত্রিম তাড়াহুড়োর মধ্যে ফেলে দেয়।
মেয়াদের অজুহাতে অব্যবহৃত ডেটা কেটে নেওয়া আসলে এক ধরনের অলিখিত জরিমানা, যা সাধারণ মানুষের পকেট থেকে অর্থের এক ধরনের অপব্যবহার, যা মেকানিজমের আবরণে ঢাকা থাকে। এই ব্যবস্থার কারণে সবচেয়ে বেশি ভুগছেন সমাজের প্রান্তিক ও নিম্নআয়ের মানুষ। আমরা যদি সমাজের বাস্তব চিত্রগুলোর দিকে তাকাই, তবে দেখতে পাব ওমানের তপ্ত মরুভূমিতে ঘাম ঝরানো প্রবাসী সন্তানের পথ চেয়ে থাকা গ্রামের এক বৃদ্ধ মা, যিনি কেবল সপ্তাহে একদিন সন্তানের মুখটি ভিডিও কলে দেখার জন্য কষ্ট করে ডেটা কেনেন। কিন্তু সপ্তাহ শেষে দেখা যায় তার কেনা ডেটার সিংহভাগই অব্যবহৃত রয়ে গেছে, অথচ মেয়াদের নিষ্ঠুর নিয়মে তা উধাও হয়ে গেছে। কিংবা সেই কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থী, যে অ্যাসাইনমেন্টের জন্য ইন্টারনেটের ব্যাকআপ রাখল, কিন্তু পরীক্ষার চাপে তা ব্যবহারের সুযোগ পেল না। দিনশেষে তার পকেটের টাকাটাই জলে গেল। দেশের সাধারণ মানুষ এই জটিল প্যাকেজ মেকানিজম বোঝে না, বুঝতে চায়ও না। সাধারণ মানুষের দাবি অত্যন্ত পরিষ্কার এবং পানির মতো সহজ ‘এক দেশ, এক নিয়ম’। সকল অপারেটরের জন্য একই নিয়ম থাকবে এবং তাতে কোনো মেয়াদের বেড়াজাল থাকবে না। ডেটা কেনা হবে, তা ফুরিয়ে গেলে গ্রাহক আবার কিনবেন, মাঝখানে মেয়াদের কোনো দেওয়াল থাকবে না।
এই বৈষম্যটি আরো বেশি প্রকট হয়ে ওঠে যখন আমরা দেশের শহর ও গ্রামীণ অঞ্চলের মধ্যকার ডিজিটাল অবকাঠামোর দিকে তাকাই। এটি অনস্বীকার্য যে, বর্তমান সরকারের নানামুখী দূরদর্শী পদক্ষেপের কারণে দেশের প্রতিটি প্রান্তে আজ ফাইবারের আলো পৌঁছে গেছে, সাবমেরিন ক্যাবলের ব্যান্ডউইথ সক্ষমতা বহুগুণ বেড়েছে। কিন্তু এই বিশাল সুবিধার বণ্টন সর্বত্র সমান নয়। ঢাকা বা বড় বড় বিভাগীয় শহরের একজন নাগরিক যেখানে প্রতি মাসে একটি সাশ্রয়ী ও নির্দিষ্ট ফিক্সড বিল দিয়ে আনলিমিটেড ব্রডব্যান্ড বা ওয়াইফাই ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছেন, সেখানে মফস্বল কিংবা গ্রামীণ জনপদের মানুষ পুরোপুরি নির্ভর করতে বাধ্য হচ্ছেন মোবাইল ডেটার ওপর। গ্রামীণ অঞ্চলের একজন ক্ষুদ্র নারী উদ্যোক্তা বা একজন সাধারণ শিক্ষার্থীকে প্রতি সপ্তাহে হিসাব কষে কষে মেগাবাইট কিনতে হচ্ছে। শহর আর গ্রামের ভৌগোলিক দূরত্বের অজুহাতে ইন্টারনেটের খরচে এই যে আকাশ-পাতাল তফাত, তা দেশের ভেতরেই এক ধরনের অদৃশ্য ডিজিটাল বিভাজন তৈরি করছে। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে গ্রামীণ গ্রাহকদের ওপর এই বাড়তি খরচের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া কোনোভাবেই একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ ব্যবস্থার লক্ষ্য হতে পারে না। গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙা করতে এবং প্রান্তিক মানুষকে মূলধারার সঙ্গে সম্পৃক্ত রাখতে হলে এই খরচের ও নিয়মের ফারাক দূর করা অত্যন্ত জরুরি।
এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বিভ্রান্তি তৈরি হয় ডেটার বাণিজ্যিক সংজ্ঞা এবং সরকারের পাইকারি বিক্রয় প্রক্রিয়ার মধ্যে। প্রযুক্তিগত বাস্তবতায় ইন্টারনেট কোনো ক্ষণস্থায়ী ভোগ্যপণ্য নয় যে তা নির্দিষ্ট সময়ে পচে যাবে বা নষ্ট হয়ে যাবে। সরকার যখন আন্তর্জাতিক উৎস বা সাবমেরিন ক্যাবল থেকে ইন্টারনেট বা ব্যান্ডউইথ ক্রয় করে, তখন তা মেগাবাইট হিসেবে কেনা হয় না; বরং তা কেনা হয় নির্দিষ্ট স্পিড বা ব্যান্ডউইথ হিসেবে। মোবাইল অপারেটরদের কাছেও এই ব্যান্ডউইথ স্পিডের ওপর ভিত্তি করেই সরবরাহ করা হয়। কিন্তু সাধারণ গ্রাহক পর্যায়ে এসে সেই একই ব্যান্ডউইথ কেন মেগাবাইটের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্যাকেজে রূপ নেয় এবং তার ওপর মেয়াদের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হয়, তা সাধারণ মানুষের বোধগম্য নয়। ওয়াইফাই বা ব্রডব্যান্ড সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো যদি মাসিক নির্দিষ্ট ফি’র বিনিময়ে আনলিমিটেড ডেটা ও স্পিড সরবরাহ করতে পারে, তবে দেশের শীর্ষস্থানীয় এবং আর্থিকভাবে অত্যন্ত শক্তিশালী মোবাইল অপারেটররা কেন তা পারবে না? তাদের ব্যবসায়িক কাঠামো ও কারিগরি সক্ষমতা অনেক বেশি সুদৃঢ়। তাই গ্রাহকদের শত শত জটিল ও বিভ্রান্তিকর প্যাকেজের ফাঁদে না ফেলে, সবার জন্য একটি সহজ ও স্বচ্ছ ‘এক দেশ, এক নিয়ম’ নীতি প্রবর্তন করা এখন সময়ের দাবি।
মোবাইল ইন্টারনেটের এই মেগাবাইট বিক্রির প্রচলিত মডেলটি খোলস বদলে ফেলার এখনই উপযুক্ত সময়। সমাধান হিসেবে আমাদের ভাবনার পরিধিকে প্রসারিত করতে হবে এবং মোবাইল ডেটাকেও ব্রডব্যান্ডের মতো মাসিক ফিক্সড বিলিং সিস্টেমে নিয়ে আসতে হবে। দেশের প্রতিটি অপারেটরের জন্য একই সাধারণ নিয়ম থাকবে, যেখানে কোনো মেগাবাইটের হিসাব থাকবে না। বিশেষ করে এ দেশের কোটি কোটি সাধারণ ও অল্পআয়ের মানুষের আর্থিক সক্ষমতার কথা বিবেচনা করে সরকারের উচিত মোবাইল অপারেটরদের জন্য মাসিক দুই থেকে তিন শত টাকার মধ্যে আনলিমিটেড ইন্টারনেটের একটি স্থায়ী নীতিমালা জারি করা। গ্রাহক এই সাশ্রয়ী টাকা দিয়ে একটি নির্দিষ্ট স্পিড বেছে নেবেন এবং পুরো মাসজুড়ে মেয়াদের দুশ্চিন্তা ছাড়া নিশ্চিন্তে ইন্টারনেট ব্যবহার করবেন। এতে করে যেমন সাধারণ মানুষের মাসিক ব্যয়ের একটি সুনির্দিষ্ট ও সাশ্রয়ী বাজেট থাকবে, তেমনই মেয়াদের ভয় থেকে তারা চিরতরে মুক্তি পাবেন। কোটি কোটি গ্রাহকের এই মানসিক স্বস্তি দেশের সামগ্রিক উৎপাদনশীলতাকে বাড়িয়ে দেবে বহুগুণ। যখন একজন ফ্রিল্যান্সার বা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী জানবেন যে তার সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার বা ডেটা ফুরিয়ে যাওয়ার কোনো ভয় নেই, তখন তিনি পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে তার কাজে আত্মনিয়োগ করতে পারবেন।
একইসঙ্গে আমাদের মনোযোগ দিতে হবে তৃণমূল পর্যায়ে ব্রডব্যান্ড বা ওয়াইফাই সংযোগের বিস্তার ও তার মূল্য নির্ধারণের দিকে। সরকার বিভিন্ন সময়ে আন্তর্জাতিক ও জাতীয় পর্যায়ে ব্যান্ডউইথের দাম কমিয়েছে, যা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। কিন্তু এই মূল্য হ্রাসের সুফল একদম শেষ প্রান্তের সাধারণ গ্রাহক পর্যন্ত পৌঁছাতে পারছে না। এর পেছনে স্থানীয় পর্যায়ের ক্যাবল টানা এবং রক্ষণাবেক্ষণের নানা অজুহাত দাঁড় করানো হয়। এই সমস্যা দূর করতে হলে সরকারকে কেবল পাইকারি দাম কমালেই চলবে না, বরং মাঠপর্যায়ে ইন্টারনেট সেবাদাতাদের লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া সহজ করতে হবে এবং ট্যাক্স বা শুল্ক কাঠামোতে বড় ধরনের ছাড় দিতে হবে। একইসঙ্গে, এলাকাভিত্তিক ব্রডব্যান্ড বিলের একটি যৌক্তিক সর্বোচ্চ সীমা কঠোরভাবে নির্ধারণ ও বাস্তবায়ন করতে হবে। একজন সাধারণ নাগরিক যেন দুইশত থেকে তিনশত টাকার মধ্যে মানসম্মত ও নিরবচ্ছিন্ন ওয়াইফাই সেবা পেতে পারেন, তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব। তবেই প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রতিটি ঘর একেকটি ডিজিটাল কেন্দ্রে পরিণত হবে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে বাংলাদেশের সরাসরি তুলনা করা হয়তো সবসময় যুক্তিযুক্ত নয়। বাংলাদেশ একটি সম্ভাবনাময় ও ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক শক্তি হলেও এ দেশের মানুষের একটি বড় অংশ এখনো নিম্নবিত্ত ও শ্রমজীবী। ঠিক এই কারণেই এ দেশে ইন্টারনেটের এই বাণিজ্যিক সংস্কার আরো বেশি প্রাসঙ্গিক। একজন বৃত্তবাণের কাছে কিছু মেগাবাইট নষ্ট হওয়া কোনো অর্থ বহন না করলেও, একজন দিনমজুর বা নিম্নআয়ের মানুষের কাছে তার প্রতিটি পয়সা এক একটি স্বপ্নের সমান। রাষ্ট্র যখন ‘স্মার্ট সিটিজেন’ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে, তখন সেই নাগরিকের অধিকার রক্ষা করার দায়ভারও রাষ্ট্রের ওপরই বর্তায়। কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের মুনাফার স্বার্থে নানাবিধ জটিল গাণিতিক ব্যাখ্যা ও যুক্তি দাঁড় করাবে, কিন্তু একটি কল্যাণকামী রাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত জনগণের স্বস্তি ও সমতা নিশ্চিত করা। নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা বিটিআরসিকে এ ক্ষেত্রে আরো বেশি জনবান্ধব ও কঠোর ভূমিকা পালন করতে হবে।
ইন্টারনেট আজ আর কোনো শৌখিনতার অনুষঙ্গ নয়, এটি আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের চালিকাশক্তি ও মৌলিক অধিকারের অবিচ্ছেদ্য অংশ। মেয়াদের বেড়াজালে আটকে থাকা মেগাবাইটের এই মরীচিকা দেশের সাধারণ মানুষকে এক ধরনের একমুখী বৈষম্যের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। এই বৈষম্যের অবসান ঘটাতে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকদের অত্যন্ত দূরদর্শী ও যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সমস্ত অপারেটরের জন্য একক, সহজ ও মেয়াদহীন মাসিক ফিক্সড বিলের একটি রূপরেখা তৈরি করা আজ আর বিলাসী কল্পনা নয়, বরং ডিজিটাল যুগের অবধারিত বাস্তবতা। জনগণের পকেটের টাকা রক্ষা করা এবং ইন্টারনেটকে সত্যিকার অর্থেই সবার জন্য উন্মুক্ত ও সাশ্রয়ী করার মাধ্যমে আমরা একটি বৈষম্যহীন এবং প্রকৃত অর্থেই ডিজিটাল সাম্যের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সক্ষম হব, এটাই এ দেশের কোটি কোটি সাধারণ নাগরিকের প্রত্যাশা ও প্রাণের দাবি।
লেখক : কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক ও কলাম লেখক
"





































