reporterঅনলাইন ডেস্ক
  ৮ ঘণ্টা আগে

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে উত্তেজনা

ধৈর্য ও সহনশীলতা উভয় দেশের জন্যই মঙ্গলজনক

ভারতের সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনী (বিএসএফ) বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে অবৈধ পন্থায় লোকজনকে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে পাঠানো বা পুশইনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) স্থানীয় লোকজনের সহায়তা নিয়ে তা প্রতিরোধ করে যাচ্ছে। এ নিয়ে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে এক ধরনের উত্তেজনা বিরাজ করছে। গতকাল প্রতিদিনের সংবাদে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের পঞ্চগড়, লালমনিরহাট ও নওগাঁ সীমান্ত দিয়ে নারী, পুরুষ এবং শিশুসহ অন্তত ৩৭ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কঠোর অবস্থান ও তাৎক্ষণিক তৎপরতায় এসব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। বর্তমানে পুশইনের জন্য আনা ব্যক্তিরা ভারতের অভ্যন্তরে শূন্যরেখার কাছে অবস্থান করছে। বিজিবি জানায়, দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সতর্ক তারা। সম্ভাব্য পুশইন প্রতিরোধে সীমান্ত এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার বিজিবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সীমান্ত দিয়ে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে বাংলাদেশে ঢুকতে দেওয়া হবে না। আন্তর্জাতিক সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, বিদ্যমান আইন এবং দ্বিপক্ষীয় সমঝোতার পরিপন্থি যেকোনো পুশইন প্রচেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে। সীমান্তে নজরদারি, টহল ও অপারেশনাল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষায় বিজিবি সর্বদা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। বিএসএফ গত বুধবার সকাল থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সীমান্তের অন্তত ১০টি পয়েন্ট দিয়ে অবৈধভাবে পুশইনের চেষ্টা চালায়। বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে পুশইনের সব কটি অপচেষ্টাই ব্যর্থ হয়। মনে রাখা উচিত, ভারত বাংলাদেশের বৃহত্তম প্রতিবেশী। বাংলাদেশ বরাবরই ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক রক্ষায় আগ্রহী। ভারতে যদি কোনো বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী থেকে থাকে, অবশ্যই বাংলাদেশ তাদের ফেরত নেবে। সে ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট আন্তর্জাতিক নিয়ম-কানুন রয়েছে, যৌথ সীমান্ত ব্যবস্থাপনার নিয়ম-কানুন রয়েছে; সেগুলো মেনে চলতে হবে। উভয় দেশের বিদ্যমান আইন ও দ্বিপক্ষীয় সমঝোতার ভিত্তিতে সমস্যার সমাধান করতে হবে। বাংলাদেশকে কিছু না জানিয়ে সীমান্ত দিয়ে কিছু মানুষকে ঠেলে দেওয়া কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ স্পষ্ট জানিয়েছেন, ‘সরকার অবৈধ পুশইনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। বর্ডারে আমাদের বিজিবি অ্যালার্ট আছে। যদি ভারতের তরফ থেকে দাবি করা হয় যেকোনো বাংলাদেশি সেখানে অবৈধভাবে আছে, তবে তাদের পরিচয় নিশ্চিত করার পর যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় ফিরিয়ে আনা হবে (রিপ্যাট্রিয়েশন)। কিন্তু জোর করে ঠেলে দেওয়া আমরা মেনে নেব না।’

বলা বাহুল্য, আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন ও মানবিক রীতিনীতি লঙ্ঘন করে যেভাবে লোকজনকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে, তা কোনোভাবেই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া নয়। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালও মনে করে, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে জোরপূর্বক পুশইন মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। তবে আমরা মনে করি, সীমান্তের এই সংকট দূর করতে দুই দেশের সরকারকে জরুরি ভিত্তিতে উচ্চপর্যায়ে আলোচনা করতে হবে। প্রতিবেশী হিসেবে ধৈর্য ও সহনশীলতা প্রদর্শন করা উভয় দেশের জন্যই মঙ্গলজনক। সীমান্তে উত্তেজনা কোনো স্থায়ী সমাধান বয়ে আনবে না। বরং বিএসএফ যদি নিয়মিতভাবে এভাবে লোক ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে, তবে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বিষয়টি উত্থাপন করা প্রয়োজন। এ ছাড়া উভয় পক্ষকে আন্তর্জাতিক সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও সংশ্লিষ্ট আইন-কানুন মেনে ধৈর্যের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করাই হবে শ্রেয়তর। এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়