reporterঅনলাইন ডেস্ক
  ১৯ ঘণ্টা আগে

বাড়ল বিদ্যুতের দাম

জনস্বার্থে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা হোক

এপ্রিলে জ্বালানি তেল ও এলপিজির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব জুনেও কাটেনি। মাস শেষ হলেই সাধারণ মানুষের ঘরে ঘরে শুরু হয় অনিশ্চয়তায় ভরা নিত্যদিনের বাস্তবতা। বিশেষ করে এপ্রিল মাসের বড় মূল্যবৃদ্ধি পুরো বছরের হিসাব বদলে দিয়েছে। আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের এই অসামঞ্জস্যে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছে মধ্য ও নিম্নআয়ের মানুষ। মাস শেষে জ্বালানি খরচের এই ওঠানামা এখন তাদের কাছে আর শুধু হিসাব নয়, বরং দৈনন্দিন জীবনে বাড়তি মানসিক ও আর্থিক চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই কঠিন বাস্তবতার মাঝেও দেশে এবার বাড়াল বিদ্যুতের দাম। আর সেটি বাড়ানো হলো তাড়াহুড়া করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে। যা সাধারণ মানুষের জীবনকে আরো দুর্বিষহ করে তুলবে।

বলা সংগত, পাইকারি ও গ্রাহক উভয় পর্যায়েই মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পাইকারি পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ১ টাকা ৩৯ পয়সা এবং খুচরা পর্যায়ে ১ টাকা ৫২ পয়সা বাড়ানো হয়েছে। ফলে খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের গড় মূল্য ১৬.৬৮ শতাংশ এবং পাইকারি পর্যায়ে ১৯.৮৫ শতাংশ বেড়েছে। গত বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ এ ঘোষণা দেন। কমিশনের আদেশ অনুযায়ী, জুন মাসের বিল থেকেই নতুন মূল্যহার কার্যকর হবে। যদিও বিইআরসির চেয়ারম্যান স্বীকার করেন, আসন্ন জাতীয় বাজেট মাথায় রেখে দ্রুতই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, দাম বাড়ানোর ফলে মানুষের ব্যয় বাড়বে, তবে অর্থনৈতিক মূল্যায়ন করা হয়নি। বিইআরসির তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের বাড়তি গড় মূল্য প্রতি ইউনিট ৭ টাকা। নতুন সিদ্ধান্তে তা ১ টাকা ৩৯ পয়সা বাড়িয়ে ৮ টাকা ৩৯ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের গড় মূল্য ৯ টাকা ১১ পয়সা থেকে বেড়ে দাঁড়াবে ১০ টাকা ৬৩ পয়সায়। এ ছাড়া বিদ্যুতের সঞ্চালন মূল্যহার বা হুইলিং চার্জও বাড়ানো হয়েছে। বিদ্যমান ৩১.৩৫ পয়সা থেকে তা বাড়িয়ে ৩৮.৮৬ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিইআরসি জানায়, বিদ্যুৎ উৎপাদন, ক্রয় ও আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি, সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যয় এবং সার্বিক আর্থিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নতুন মূল্যহার নির্ধারণ করা হয়েছে। কমিশনের হিসাবে, পাইকারি মূল্যবৃদ্ধি সত্ত্বেও বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) ঘাটতি পূরণে সরকারকে বছরে প্রায় ৪১ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হবে। এর আগে গত মে মাসের শুরুতে বিদ্যুতের পাইকারি, সঞ্চালন ও খুচরা মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব জমা দেয় পিডিবি, পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ, ডেসকো, ডিপিডিসি, পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড, ওজোপাডিকো ও নেসকো। এসব প্রস্তাবের ওপর ২০ ও ২১ মে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। সরকারি-বেসরকারি সব বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে চুক্তি অনুসারে নির্ধারিত দামে বিদ্যুৎ কিনে নেয় পিডিবি। এরপর তারা উৎপাদন খরচের চেয়ে কিছুটা কমে সরকার নির্ধারিত পাইকারি দামে ছয়টি বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থার কাছে বিক্রি করে। ঘাটতি মেটাতে পিডিবি সরকারের কাছ থেকে ভর্তুকি নেয়, তবে বিতরণ সংস্থাগুলো কোনো ভর্তুকি পায় না। তারা খুচরা দামে ভোক্তার কাছে বিদ্যুৎ বিক্রি করে কোম্পানি চালায়।

বলা বাহুল্য, বিদ্যুতের দাম বাড়ার পরও সেবার মান প্রত্যাশিত হবে না, লোডশেডিং চলবেই, অদক্ষতা বহাল থাকবে, গ্রাম ও শহরে বিদ্যুৎ বিতরণে পাহাড়সম বৈষম্য সচল থাকবে- কিন্তু শুধু জনগণকে বিদ্যুতের অতিরিক্ত দাম বহন করতে হবে। সরকারের উচিত ছিল এই খাতে সংঘটিত দুর্নীতির তদন্ত করা, অস্বচ্ছ চুক্তি পুনর্বিবেচনা করা, অপচয় কমানো এবং জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা করা। সেসব না করে কাঠামোগত সংস্কারের পরিবর্তে সহজ পথ হিসেবে সরকার মূল্যবৃদ্ধির পথকেই বেছে নিয়েছে। ফলে মূল্যস্ফীতির চাপে থাকা ভোক্তাদের ওপর নতুন করে আর্থিক চাপ বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আমরা আশা করি, সরকার জনস্বার্থে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করবে।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়