মো. তাহমিদ রহমান
মতামত
শিক্ষায়তনের গ্রন্থাগারগুলো যেন এক অচলায়তন

শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও বই এই তিনটি হলো শিক্ষার প্রধান উপকরণ। যথাযথ শিক্ষা বাস্তবায়নের জন্য এই তিনটির একটিকেও বাদ দেওয়া যাবে না। এরপরও সুচারুরূপে শিক্ষা বাস্তবায়নের জন্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে আরো একটি উপাদান জরুরি; তা হলো গ্রন্থাগার। লেখাপড়ার জন্য যেমন বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষ, খেলার মাঠ, বিজ্ঞানাগার প্রয়োজন ঠিক তেমনি গ্রন্থাগার প্রয়োজন। সেটা হোক প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মহাবিদ্যালয় কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়। কারণ একটি সুন্দর ও যথাযথ গ্রন্থাগার এবং একজন দক্ষ গ্রন্থাগারিক একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জ্ঞানপিপাসু শিক্ষার্থীদের জ্ঞানের মোহনার অবগাহন করাতে পারে। গ্রন্থাগারের নিস্তব্ধ শান্ত পরিবেশ শিক্ষার্থীদের বই পাঠের মনোযোগ ও একাগ্রতা বৃদ্ধি করে।
কিন্তু পরিতাপের বিষয় ২০২৬ খ্রিস্টাব্দে এসেও আমরা দেখছি দেশের স্কুল কলেজের গ্রন্থাগারগুলোর কী বেহাল দশা। গ্রন্থাগারগুলোকে ফলদায়ক না করতে পারার প্রথম কারণ হলো, এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা যতক্ষণ শ্রেণি কার্যক্রমে ব্যস্ত থাকে ততক্ষণই গ্রন্থাগার খোলা থাকে। শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই গ্রন্থাগারও বন্ধ হয়ে যায়। গ্রন্থাগারগুলোয় রিসোর্সেরও অভাব আছে। এসব গ্রন্থাগারে সাধারণত সর্বশেষ সংস্করণের পুস্তকাদি ও জার্নালগুলো পাওয়া যায় না। খুব কমসংখ্যাক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গ্রন্থাগারেই দৈনিক পত্রিকা রাখা হয়। অনেক ক্ষেত্রেই সংশ্লিষ্ট কর্তাবাবুরা এটাকে অপচয় মনে করে। বাজেট ঘাটতির সঙ্গে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের অদক্ষতা ও অযোগ্যতাও এর জন্য দায়ী। বরাদ্দকৃত অর্থ দিয়ে অপরিকল্পিতভাবে ও অপ্রয়োজনীয় বই কিনে তাক ভরে রাখা হয়। অধিকাংশ গ্রন্থাগারে উপযুক্ত পরিবেশও অনুপস্থিত। বসার ব্যবস্থা পরিকল্পিত না হওয়ার কারণে একক পাঠের মতো গ্রুপ রিডিংও বাধাগ্রস্ত হয়; ফলে শেষ পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা গ্রন্থাগারে যাওয়া বন্ধ করে দেয়।
মানুষ বুদ্ধিবৃত্তিক প্রাণী। তাই পেটের ক্ষুধা নিবারণের পাশাপাশি মনের ক্ষুধাও নিবারণ করতে হয়। মনের ক্ষুধা নিবারইে প্রয়োজন হয় জ্ঞানের। আর সেই জ্ঞান অর্জনের জন্য অনেকগুলো মাধ্যমের অন্যতম একটি মাধ্যম বই পড়া। বই পড়ে জ্ঞান অর্জনের আগ্রহ থেকেই একসময় মানুষ গড়ে তুলেছিল পাঠাগার বা গ্রন্থাগার। কিন্তু সেই গ্রন্থাগারগুলোতে যদি শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় বই না থাকে তাহলে শিক্ষার্থীরা গ্রন্থাগার বিমুখ হওয়াই স্বাভাবিক। দেশের শিক্ষাব্যবস্থার সৃষ্টি লগ্ন থেকেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে গ্রন্থাগার থাকা বাধ্যতামূলক হিসেবে বিবেচ্য হয়ে আসছে। একসময় স্কুল-কলেজের গ্রন্থাগারগুলো ছিল শিক্ষার্থীদের জ্ঞানচর্চার প্রাণকেন্দ্র। বইয়ের তাক, পাঠকক্ষের নীরব পরিবেশ এবং জ্ঞান অনুসন্ধানের আগ্রহ সব মিলিয়ে গ্রন্থাগার ছিল এক আলোকিত সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল। শিক্ষার্থীরা পাঠ্যবইয়ের বাইরে বিভিন্ন সাহিত্য, ইতিহাস, বিজ্ঞান, দর্শন ও সাময়িকী পড়ে নিজেদের মননশীলতা বিকাশ করত। ড. কুদরত-এ-খুদা প্রণীত জাতীয় শিক্ষানীতিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গ্রন্থাগারকে হৃদপিন্ডের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছিল। অথচ বর্তমান সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সেই গ্রন্থাগারটিই সবচেয়ে অবহেলিত কক্ষ হিসেবে বিবেচিত।
সময়ের পরিক্রমায় অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গ্রন্থাগারগুলো আজ জীর্ণ, অবহেলিত। আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হওয়া সত্ত্বেও গ্রন্থাগারগুলো এখন যেন শিক্ষাঙ্গনের এক অচলায়তন। এই পরিস্থিতি রাষ্ট্রের সামগ্রিক শিক্ষার উন্নয়নে বড় ধরনের অন্তরায় সৃষ্টি করছে। একটি উন্নত জাতি গঠনের জন্য যেমন প্রয়োজন দক্ষ শিক্ষক, আধুনিক পাঠক্রম ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা, তেমনি প্রয়োজন সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার। পাঠ্যবই একজন শিক্ষার্থীকে পরীক্ষায় ভালো ফল করতে সাহায্য করলেও গ্রন্থাগার তাকে প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে। চিন্তাশীল ব্যক্তির কাছে গ্রন্থ এবং গ্রন্থাগারের উপযোগিতা অনেক বেশি। গ্রন্থের সঙ্গে ব্যক্তি ও সমাজের সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য। একটি গ্রন্থাগার সমাজের কাঠামো বদলে দিতে পারে। বিশ্বখ্যাত শিক্ষাবিদ ফ্রান্সিস বেকন বলেছিলেন, পাঠই মানুষকে পূর্ণতা দেয়। অথচ বর্তমানে আমাদের দেশের অধিকাংশ স্কুল ও কলেজে গ্রন্থাগার থাকলেও তা কার্যকর নয়। বাংলাদেশে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গ্রন্থাগারের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। অনেক প্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত বই নেই, কোথাও পাঠকক্ষ নেই, আবার কোথাও গ্রন্থাগারিকের পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য পড়ে আছে।
বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর বিভিন্ন প্রতিবেদনে দেখা যায়, দেশের বহু মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে কার্যকর গ্রন্থাগার ব্যবস্থা নেই। অনেক প্রতিষ্ঠান শুধু কাগজে-কলমে গ্রন্থাগারের অস্তিত্ব দেখিয়ে সরকারি নিয়ম পূরণ করছে। বাস্তবে সেখানে শিক্ষার্থীদের বই পড়ার কোনো পরিবেশ নেই। গ্রন্থাগারের প্রতি শিক্ষার্থীদের অনাগ্রহও একটি বড় সমস্যা। বর্তমান প্রজন্ম প্রযুক্তিনির্ভর বিনোদনের প্রতি বেশি আকৃষ্ট। স্মার্টফোন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন গেম ও ভিডিও কনটেন্ট তাদের বই পড়ার অভ্যাসকে কমিয়ে দিয়েছে। ফলে অনেক শিক্ষার্থী গ্রন্থাগারে যাওয়ার প্রয়োজনই অনুভব করে না। অন্যদিকে শিক্ষকেরাও পাঠ্যসূচি শেষ করা এবং পরীক্ষাভিত্তিক শিক্ষার ওপর অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়ায় শিক্ষার্থীদের মুক্তপাঠে উৎসাহিত করেন না। এর ফলে জ্ঞানচর্চা সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ছে কেবল পরীক্ষার খাতায়। এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গ্রন্থাগারগুলোকে তথ্যপ্রযুক্তির ছোঁয়ায় আন্তর্জাতিক মানের গ্রন্থাগারের মতো উন্নত এবং সমৃদ্ধ করতে হবে। এছাড়া আর্থিক সংকটও গ্রন্থাগারের দুরবস্থার অন্যতম কারণ। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বাজেটে গ্রন্থাগারের জন্য পর্যাপ্ত বরাদ্দ থাকে না। নতুন বই সংগ্রহ, পুরোনো বই সংরক্ষণ, ডিজিটাল সুবিধা চালু করা কিংবা আধুনিক পাঠাগার পরিবেশ গড়ে তোলার জন্য যে অর্থ প্রয়োজন, তা অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান পায় না। ফলে বছরের পর বছর পুরোনো ও অপ্রাসঙ্গিক বই দিয়েই গ্রন্থাগার চালানো হয়।
শিক্ষার্থীরা সেখানে নিজেদের আগ্রহের উপযোগী বই খুঁজে পায় না। বর্তমান বিশ্বে শিক্ষাব্যবস্থায় ডিজিটাল লাইব্রেরির গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে। উন্নত দেশগুলোতে স্কুল-কলেজের গ্রন্থাগারগুলোকে প্রযুক্তিনির্ভর জ্ঞানকেন্দ্রে রূপান্তর করা হয়েছে। সেখানে শিক্ষার্থীরা শুধু বই পড়ে না; ইন্টারনেট ব্যবহার, গবেষণা, মাল্টিমিডিয়া শিক্ষা এবং তথ্য অনুসন্ধানের সুযোগ পায়। অথচ বাংলাদেশের অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গ্রন্থাগারে এখনো ডিজিটাল ব্যবস্থার কোনো ছোঁয়া নেই। অনেক জায়গায় কম্পিউটার বা ইন্টারনেট সংযোগ পর্যন্ত নেই। ফলে শিক্ষার্থীরা বৈশ্বিক জ্ঞানভাণ্ডারের সঙ্গে যুক্ত হতে পারছে না। দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় গ্রন্থাগারগুলো হচ্ছে শিক্ষার্থীদের মনের হাসপাতাল। এখানে তারা স্বেচ্ছায় ও স্বাচ্ছন্দ্য চিত্তে স্বশিক্ষিত হওয়ার সুযোগ পায়। নিজের শক্তি ও রুচি অনুসারে নিজের মনকে নিজের চেষ্টায় আত্মার রাজ্যে জ্ঞানের পথে এগিয়ে নিতে যেতে পারে। গ্রন্থাগার থেকে সংগৃহীত জ্ঞানের আলো সমাজে ছড়িয়ে দেওয়ার মধ্যেই রয়েছে অকৃত্রিম আনন্দ এবং সার্থকতা। এই আলো একটি সমাজকে আমূল বদলে দিতে পারে। পাঠে নিমগ্ন ব্যক্তি কখনোই সমাজের জন্য ক্ষতিকর হয় না বরং তারা নানাভাবে সমাজের উপকার করে থাকে। অথচ গ্রন্থাগারের অচলাবস্থার ফলে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও বিশ্লেষণী ক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
বর্তমানে মুখস্থনির্ভর শিক্ষার প্রবণতা বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ হলো পাঠাভ্যাসের অভাব। একজন শিক্ষার্থী যখন পাঠ্যবইয়ের বাইরে বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনা করে, তখন তার কল্পনাশক্তি, যুক্তিবোধ এবং চিন্তাশক্তির বিকাশ ঘটে। কিন্তু গ্রন্থাগার অকার্যকর হয়ে পড়ায় শিক্ষার্থীদের সেই সুযোগ কমে যাচ্ছে। এর প্রভাব ভবিষ্যৎ কর্মক্ষেত্রেও পড়ছে। কারণ আধুনিক বিশ্বে শুধু পরীক্ষার ফল নয়, সৃজনশীল চিন্তা ও গবেষণামূলক দক্ষতাই বেশি মূল্যবান। শিক্ষার্থীদের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস বাড়াতে হলে স্কুল পর্যায়েই উদ্যোগ নিতে হবে। এর জন্যে রুটিনে সপ্তাহে অন্তত একটি লাইব্রেরি ক্লাস রাখতে হবে। এই ক্লাসে শ্রেণির সব শিক্ষার্থী স্কুলের গ্রন্থাগারে গিয়ে বসবে। সেখান থেকে পছন্দসই বই নিয়ে সময়টুকু কাটাবে। গ্রন্থাগার থেকে বই বাড়িতে নিয়ে পড়ারও সুযোগ রাখতে হবে। সব শিক্ষককে দায়িত্ব নিয়ে শ্রেণিকক্ষে পাঠাগারের গুরুত্বপূর্ণ ধারণাটিও শিশুশিক্ষার্থীদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে হবে যাতে করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বই পড়ার আগ্রহ বেড়ে যায়। এ ক্ষেত্রে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গ্রন্থাগারে শিক্ষার্থীদের বয়স উপযোগী বই রাখতে হবে। এখান থেকে বই নিয়ে তারা পড়তে পারবে, বাড়িতেও বই নিয়ে যেতে পারবে। যেহেতু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কেন্দ্রীক গ্রন্থাগারগুলো নিয়ন্ত্রণ করা সহজ তাই একটি প্রশ্ন উদ্বেগের সঙ্গে উত্থাপিত হয় যে দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় গ্রন্থাগারগুলোর রুগণ্ অবস্থা আমাদের হীন মননশীলতার ইঙ্গিত বহন করছে। আমরা রাষ্ট্রীয়ভাবে শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়নকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে আমাদের মননশীল চর্চার উন্নয়নকে যে হারিয়ে ফেলছি তার জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত হচ্ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গ্রন্থাগারগুলো। সৃজনশীল শিক্ষাব্যবস্থা প্রণীত হয়েছে কিন্তু আমরা স্কুল কলেজগামী শিক্ষার্থীদের গ্রন্থাগার কেন্দ্রিক বইপ্রেমী করে গড়ে তুলতে পারিনি। অথচ সৃষ্টিশীল ও সৃজনশীল প্রজন্ম গড়ে তুলতে হলে বই পাঠের কোনো বিকল্প নেই।
বিগত সরকারের সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গ্রন্থাগারগুলোতে আরো একটা সমস্যা প্রকট হয়ে উঠেছিল, সেটা হচ্ছে দলীয় রাজনৈতিক বিবেচনায় বই ক্রয়। যা যথাযথ শিক্ষার আলো বিকাশের পথে এক বড় অন্তরায়। উন্মুক্ত শিক্ষার শিক্ষালয় হলো গ্রন্থাগার সেখানে রাজনৈতিক বিবেচনায় বই ক্রয়ে বাধ্য করা কখনো কাম্য নয়। শিক্ষার্থীদের মধ্যে পাঠাভ্যাস গড়ে তোলা, বুদ্ধিভিত্তিক দক্ষতা বৃদ্ধি করা, বিতর্ক প্রতিযোগিতা ও আবৃত্তিতে অংশগ্রহণ করা, দেয়াল পত্রিকা বানানো, বইপড়া নিয়ে আলোচনায় অংশগ্রহণ করা এবং সমৃদ্ধ জ্ঞান অর্জনের জন্য লাইব্রেরি ক্লাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে স্কুলের গ্রন্থাগারিক। গ্রন্থাগারের দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের অভাব, দায়িত্বে অবহেলা, অব্যবস্থাপনা ও অবন্ধুসুলভ আচরণও শিক্ষার্থীদের গ্রন্থাগার বিমুখ করতে ভূমিকা রাখে। এ সমস্যা রোধ করার জন্য গ্রন্থাগারে কর্মরত কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। বেসরকারি স্কুল কলেজের সর্বশেষ এমপিও নীতিমালা ও জনবল কাঠামোতে গ্রন্থাগারিকদের পদের নতুন নাম ‘গ্রন্থাগার প্রভাষক’ এবং সহকারী গ্রন্থাগারিক কাম ক্যটালগারদের পদের নতুন নাম ‘সহকারী শিক্ষক (গ্রন্থাগার ও তথ্যবিজ্ঞান)’ করা হয়েছে। এই পদে কর্মরত ব্যক্তিদের উচিত হবে দায়িত্ব নিয়ে নিজ নিজ গ্রন্থাগারগুলোকে সমৃদ্ধ করা। গ্রন্থাগারগুলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনন্য সম্পদ তাই সবশেষে একটাই প্রত্যাশা সভ্যতার আলো ছড়ানোর বাতিঘরগুলো নিজেই যেনো আর অন্ধকারে নিমজ্জিত না হয়।
লেখক : শিক্ষক, গবেষক ও কলাম লেখক
"





































