reporterঅনলাইন ডেস্ক
  ৭ ঘণ্টা আগে

সড়কে মৃত্যুর মিছিল

পরিবহন আইনের যথাযথ প্রয়োগ আমাদের কাম্য

দুর্ঘটনা প্রতিরোধে আইন আছে। প্রয়োগ নেই। প্রয়োগের জন্য চাই সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা। ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা থাকার কারণেই প্রয়োগ থেকে যাচ্ছে অন্তরালে। দুর্ঘটনা বাড়ছে। ধেয়ে আসছে অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু। গত সোমবার দেশের বিভিন্ন স্থানে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে এক দিনে দুই দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে তিনজনের, ফরিদপুরের ভাঙ্গায় মালয়েশিয়াফেরত এক প্রবাসীসহ একই পরিবারের চারজন ও চালক নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া নওগাঁর ধামইরহাটে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে এক মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু হয়েছে। এতে আহত হন আরো কয়েকজন। এসব দুর্ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্বজনদের মধ্যে।

বলা সংগত, সম্প্রতি যানবাহনের চাপায় ও ধাক্কায় নিহত হওয়ার হার ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার হারও উদ্বেগজনক। সড়কে নিরাপদে চলাচল বিষয়ে অজ্ঞতা, অবহেলা এবং ট্রাফিক আইনের প্রয়োগহীনতাই এসব দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মোটরসাইকেল ক্রয় ও চালনার ক্ষেত্রে ট্রাফিক আইনের প্রয়োগ ও মনিটরিং নিশ্চিত করা না গেলে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার চিত্র আরো ভয়াবহ হবে। সড়কে মাত্রাতিরিক্তভাবে মোটরসাইকেলের প্রবেশ ঘটেছে এবং তাদের বেপরোয়া চলাচলও দুর্ঘটনার শঙ্কাকে বাড়িয়ে তুলেছে। পাশাপাশি এ কথাও সত্য যে, কোনো যানবাহনই আইন মান্য করে চলছে না। সবার মাঝে বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালানোর প্রবণতা যেন একটি ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। এ মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে না পারলে এ ব্যাধি আরো সংক্রমিত হবে। দুর্ঘটনা বাড়বে। বাড়বে মৃত্যু। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, বেপরোয়া গতি, চালকদের অদক্ষতা ও শারীরিক-মানসিক অসুস্থতা, বেতন ও কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট না থাকা মহাসড়কে কমগতির যানবাহন চলাচল, বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো, ট্রাফিক আইন না জানা ও না মানার প্রবণতা আর দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাই এর কারণ। এখানে যতগুলো কারণ উল্লেখ করা হয়েছে তার প্রতিটির রক্ষার দায়িত্ব পরিবহন ব্যবস্থাপনার। কিন্তু এই ব্যবস্থাপনা এতটাই দুর্বল যে, এই ব্যবস্থাপনা কোনোভাবেই তা সামাল দিতে পারছে না। সামাল না দিতে পারার পেছনে কারণ তো আছেই। ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত বেশিরভাগ সদস্যের বিরুদ্ধে রয়েছে নানা অভিযোগ। এর মাঝে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দিকে অভিযোগের পাল্লাটা বেশ ভারি। তারা তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন না করায় দুর্ঘটনার মাত্রা কমে না এসে বাড়ার দিকেই ছুটে চলেছে। এখান থেকে বেরিয়ে আসার জন্য চাই সময়োপযোগী সুষ্ঠু পরিকল্পনা এবং কঠোরভাবে এর বাস্তবায়ন। দরকার একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত।

বলা বাহুল্য, সড়ক-মহাসড়ক থেকে দুর্ঘটনা সরাতে হলে দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ নিতে হবে। চালকদের বেতন-কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট করতে হবে। বিআরটিএর সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে। পরিবহন মালিক-শ্রমিক-যাত্রী ও পথচারীদের প্রতি ট্রাফিক আইনের বাধাহীন প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহন চলাচল বন্ধ করতে হবে। পর্যায়ক্রমে সব মহাসড়কে রোড ডিভাইডার নির্মাণ করতে হবে। গণপরিবহনে চাঁদাবাজি নির্মূল করতে হবে। রেল ও নৌপথ সংস্কার করে সড়কপথের ওপর চাপ কমাতে হবে এবং ‘সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮’ বাধাহীনভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব। অন্যথায় আমরা যে তিমিরে আছি, সেখান থেকে বেরিয়ে আসা খুব কঠিন হবে বলেই আমাদের ধারণা। আমরা বেরিয়ে আসার পক্ষে। কর্তৃপক্ষ নিশ্চয়ই গুরুত্বসহকারে বিষয়টি ভেবে দেখবে।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়