বিদ্যুতের বাড়তি দাম প্রত্যাহারে স্বস্তিতে সাধারণ মানুষ

দেশে বিদ্যুতের দাম সর্বোচ্চ পর্যায়ে উন্নীত করেছে সরকার। দুই ধাপে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর বিদ্যুতের এ বড় মূল্যবৃদ্ধি দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে কেবল উদ্বেগজনকই নয়, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ওপর একটি বড় ধরনের আঘাত। বিদ্যুতের এই রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধি করা হলো এমন একসময়ে, যখন সাধারণ মানুষ এরই মধ্যে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, নিত্যপণ্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি এবং সংকুচিত ক্রয়ক্ষমতার কারণে দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার মতো অবস্থায় রয়েছে। তবে আশার কথা হচ্ছে, প্রান্তিক ও নিম্নআয়ের গ্রাহকদের ওপর চাপ কমাতে বিদ্যুতের বাড়তি দাম প্রত্যাহার করেছে সরকার। ফলে আবাসিক গ্রাহকশ্রেণির লাইফলাইন (০-৫০ ইউনিট) এবং প্রথম ধাপের (০-৭৫ ইউনিট) গ্রাহকদের বিদ্যুতের দাম আর বাড়ছে না। এ দুই শ্রেণির গ্রাহক আগের দামেই বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে পারবেন।
গত বৃহস্পতিবার বিদ্যুতের প্রান্তিক গ্রাহকদের জন্য ঘোষিত বাড়তি দাম প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। কমিশন বলেছে, বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা ও কোম্পানিগুলোর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দাম পুনর্বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সব বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা ও কোম্পানির আবাসিক গ্রাহকশ্রেণির অন্তর্ভুক্ত লাইফলাইন (০-৫০ ইউনিট) বিদ্যুতের দাম ইউনিট প্রতি ৪ টাকা ৬৩ পয়সা এবং আবাসিক প্রথম ধাপের (০-৭৫ ইউনিট) ইউনিট প্রতি ৫ টাকা ২৬ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিইআরসি জানিয়েছে, বিতরণ কোম্পানিগুলোর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ দুই শ্রেণির গ্রাহকের ক্ষেত্রে বর্ধিত বিদ্যুৎতের কার্যকর না করে আগের মূল্যহার বহাল রাখা হয়েছে। এর ফলে বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলোর আয় কমবে, যা সরকারকে অতিরিক্ত ভর্তুকি দিয়ে সমন্বয় করতে হবে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, লাইফলাইন গ্রাহকদের জন্য প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৪ টাকা ৬৩ পয়সা এবং ০-৭৫ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহারকারীদের জন্য প্রতি ইউনিট ৫ টাকা ২৬ পয়সাই বহাল থাকবে। এর আগে ঘোষিত ৫ টাকা ৩২ পয়সা ও ৬ টাকা ১৮ পয়সা কার্যকর হবে না। তবে অন্য সব শ্রেণির গ্রাহকদের ক্ষেত্রে ৩ জুন ঘোষিত নতুন দামই বহাল থাকবে বলে জানিয়েছে কমিশন। এর আগে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির এক দিনের মাথায় লাইফলাইন ও প্রথম ধাপের আবাসিক গ্রাহকদের জন্য পুরোনো দাম বহাল রাখার আবেদন করে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)।
বলা বাহুল, ৩ জুন বিইআরসি পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের নতুন দাম ঘোষণা করে। সে সময় লাইফলাইন গ্রাহকদের প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৪ টাকা ৬৩ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৫ টাকা ৩২ পয়সা এবং প্রথম ধাপের ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহারকারীদের জন্য ৫ টাকা ২৬ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৬ টাকা ১৮ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছিল। নতুন দাম ১ জুন থেকে কার্যকর করার কথা। মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণার পর নিম্নআয়ের ও প্রান্তিক গ্রাহকদের ওপর বাড়তি চাপের বিষয়টি সামনে আসে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিতরণ কোম্পানিগুলোর আবেদনের ভিত্তিতে কমিশন এক দিনের মধ্যেই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে এ দুই শ্রেণির গ্রাহকদের জন্য আগের দাম বহাল রাখে। নিঃসন্দেহে এটি একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। যা নিম্নআয়ের ও প্রান্তিক গ্রাহকদের জন্য অনেক স্বস্তির খবর। আমাদের মনে রাখতে হবে, একটি কল্যাণকামী রাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত জনগণের জীবনকে সহজতর করা, সংকটে ফেলা নয়। সেই প্রেক্ষাপটে প্রান্তিক ও নিম্নআয়ের গ্রাহকদের ওপর চাপ কমাতে বিদ্যুতের বাড়তি দাম প্রত্যাহার করায় আমরা এই জনবান্ধব সরকারকে সাধুবাদ জানাই।
"





































