ডেঙ্গু প্রতিরোধে অভিযান
সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে

ডেঙ্গু এখন কোনো ঋতুনির্ভর রোগ নয়। বলা যায় সারা বছরের রোগ। এ জন্য সবসময় প্রয়োজন বিশেষ সচেতনতা। কথায় আছে, ডেঙ্গু একবার যখন কোথাও প্রবেশ করে তখন তাকে আর বের করা যায় না, বরং দমন করে রাখতে হয়। কিন্তু দমনপদ্ধতি যদি যথাযথ না হয়, তাহলে দমনের সুযোগে ক্রমান্বয়ে বিস্তার লাভ করতে থাকে। ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশা দমন ও ডেঙ্গুর চিকিৎসা দুটি ভিন্ন বিষয়। তবে দুটি বিষয়কে একসূত্রে গেথে কাজ না করলে কোনো লাভ হবে না। সেই লক্ষে সরকার ডেঙ্গু প্রতিরোধে নাগরিকদের সচেতনতা বৃদ্ধি, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষে রাজধানীসহ সারা দেশে তিন মাসব্যাপী বিশেষ অভিযান শুরু করেছে। গত শনিবার রাজধানীর ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবরে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে নেওয়া এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় মন্ত্রী বলেন, আমরা সবার কাছে এই বার্তা পৌঁছে দিতে চাই যে, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং পানি জমতে না দেওয়াই ডেঙ্গু প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। সচেতনতা বৃদ্ধির পরও কোথাও অবহেলা দেখা গেলে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। যেসব স্থানে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যাবে, সেখানে আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ জরিমানা করা হবে বলে মন্ত্রী জানান। অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তৃতায় ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেন, সিটি করপোরেশনের জরিপে ৭৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২৮টি ওয়ার্ডকে উচ্চঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব এলাকায় রবিবার থেকে এক সপ্তাহব্যাপী বিশেষ ‘ক্রাশ প্রোগ্রাম’ পরিচালনা করা হবে। বলা প্রাসঙ্গিক যে, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি প্রতিটি নাগরিকের বিশেষ সচেতনতা অপরিহার্য। যেমন, বাড়ির আঙিনা, ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, ড্রেন ও আশপাশের পরিবেশ নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে। কোথাও বৃষ্টির পানি বা অন্য কোনো স্বচ্ছ পানি জমে থাকতে দেওয়া যাবে না, কারণ এডিস মশার প্রজননের প্রধান উৎসই হলো জমে থাকা পরিষ্কার পানি। তাই নিজেকে যেমন এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে, তেমনি অন্যকেও এ বিষয়ে তাগিদ দিতে হবে। কারণ মশক দমনপদ্ধতি কখনই একক কোনো পদ্ধতি নয়, এ দমন পদ্ধতি হলো বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সব অংশীজনের সমন্বিত পরামর্শের প্রায়োগিক ব্যাপার। পাশাপাশি মশক দমনপদ্ধতির কার্যকারিতা, ডেঙ্গু চিকিৎসার উন্নয়ন প্রভৃতি বিষয়ে যখন সঠিক গবেষণাভিত্তিক তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করা সম্ভব হবে, তখনই একটি সঠিক প্রায়োগিক পদ্ধতি নির্বাচন সম্ভব হবে। একইসঙ্গে যুক্ত হতে হবে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সদিচ্ছা।
বলা বাহুল্য, আমাদের দেশের স্বাস্থ্য খাতে যে বাজেট তৈরি হয় তার সঠিক ও সফল ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। আজ জনস্বাস্থ্য উপেক্ষিত হয়েছে সঠিকভাবে জ্ঞানচর্চার মাধ্যমে গবেষণালদ্ধ ফলাফলের সঠিক বিস্তার ও প্রয়োগের অভাবে। সেক্ষেত্রে একজন মানুষ দূষিত ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে থেকে যত ওষুধই সেবন করুক, সে কখনো সুস্থ থাকতে পারে না। তেমনি অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার প্রজননস্থল বাড়িয়ে কখনই মানুষ ডেঙ্গুর হাত থেকে রক্ষা পাবে না। তাই দেশময় ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। সেক্ষেত্রে প্রত্যেকেরই উচিত, পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রেখে, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করে নির্মল পরিবেশের সঙ্গে নিজেদের সংরক্ষণ করা, পাশাপাশি অন্যকে এ বিষয়ে সতর্ক করা। এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
"





































