প্রতি মৌসুমেই ফিরে আসবে করোনা!

প্রকাশ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

করোনা পরিস্থিতির শুরুর দিকে আলোচনা হয়েছিল হার্ড ইমিউনিটি নিয়ে। বলা হচ্ছিল, ভ্যাকসিন বাজারে আশা পর্যন্ত আপাতত করোনার গ্রাস থেকে রক্ষা পেতে ভরসা সেই হার্ড ইমিউনিটি। কিন্তু লেবাননের বিজ্ঞানীদের সাম্প্রতিক গবেষণায় উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য। সেই গবেষণা অনুযায়ী, করোনাভাইরাস পরবর্তীকালে মৌসুমি ফ্লুয়ে পরিণত হবে। প্রতি বছর শীতকালে অতিথির মতো হাজির হতে পারে করোনা।

ওই গবেষণা অনুযায়ী, যত দিন না অধিকাংশ মানুষের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হচ্ছে, ততদিন প্রায় সব ঋতুতেই এই মারণ ভাইরাসের প্রকোপ থাকবে। ‘ফন্টিয়ার্স ইন পাবলিক হেলথ’ নামে প্রকাশিত ওই গবেষণার রিপোর্ট অনুযায়ী, একটা বড় অংশের মানুষ যখন করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে পারবেন, তখন এই ভাইরাসের সংক্রমণ নিজে থেকেই কমবে। আর তার জেরে করোনাও নির্দিষ্ট মৌসুমে ফিরে-ফিরে আসবে। ওই গবেষণার রিপোর্টে করোনাভাইরাসের চরিত্র, মিউটেশন বা জিনগত পরিবর্তন ও গতিপ্রকৃতি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

লেবাননের আমেরিকান ইনস্টিটিউট অব বৈরুটের গবেষক হাসান জারাকেতের কথায়, ‘করোনাভাইরাস আসলে থাকতে এসেছে। এত সহজে তার হাত থেকে রেহাই পাওয়া যাবে না। স্বাভাবিক গণসংক্রমণ অথবা গণটিকাকরণের মাধ্যমে গোষ্ঠী প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়ে যাওয়ার পর তাপমাত্রার ওঠানামার ওপর ভিত্তি করে মাঝে মধ্যেই আমাদের জীবনে হানা দেবে করোনা। তবে হার্ড ইমিউনিটি তৈরি না হওয়া পর্যন্ত পুরোদমেই থেকে যাবে এই মারণ ভাইরাস।’

তিনি আরো বলেন, ‘যদি কেউ ভেবে থাকেন করোনা চলে যাবে, ঠিক তখনই আবার আমাদের মাঝে এসে হাজির হবে করোনা। তাই অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী না হয়ে করোনাকে সঙ্গে নিয়ে বাঁচার কৌশল আমাদের আয়ত্ত করে নিতে হবে যত দ্রুত সম্ভব। শারীরিক দূরত্ব বিধি বজায় রাখতে হবে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে এবং অবশ্য ভিড় এড়িয়ে চলতে হবে।’

হার্ড ইমিউনিটি কী? বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘গোষ্ঠী সংক্রমণ রোধ করতে গেলে যত শতাংশ মানুষের প্রতিরোধ ক্ষমতা থাকতে হবে, তাকেই বলা হয় হার্ড ইমিউনিটি থ্রেসহোল্ড।’ অন্যান্য ভাইরাসের ক্ষেত্রে এই মান ৪০%-৯৫%। তবে করোনার ক্ষেত্রে তা প্রায় ৭০%। এই তথ্য অনুযায়ী, ভারতে হার্ড ইমিউনিটির জন্য ৯৭.৫ কোটি মানুষকে করোনায় আক্রান্ত হতে হবে। যা রীতিমতো আশঙ্কাজনক।

হার্ড ইমিউনিটি তৈরি হলেও সব মৌসুমেই ঘুরে ফিরে আসবে করোনাভাইরাস। গবেষণার পর এমনই উদ্বেগের কথা শোনাচ্ছেন লেবাননের বিজ্ঞানীরা।

উল্লেখ্য, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ডব্লিউএইচও আগেই জানিয়ে দিয়েছিল করোনা এত সহজে ছেড়ে যাবে না। করোনাকে সঙ্গে নিয়েই ভবিষ্যতে সবাইকে চলতে হবে। নয়া এই গবেষণায় বলা হয়েছে, যেহেতু জ্বর, শ্বাসকষ্ট ও সর্দি-কাশি করোনার অন্যতম উপসর্গ তাই এই ভাইরাস সবচেয়ে বেশি হামলা চালাতে পারে শীতকালে। তবে ক্রান্তীয় আবহাওয়া রয়েছে যেসব দেশে, সেখানে গোটা বছরই দাপট থাকতে পারে মারণভাইরাস করোনার।

 

 

"