আহমেদ রেজওয়ান, ফেনী

  ২ ঘণ্টা আগে

ফেনী

নদীভাঙনে সংকুচিত হচ্ছে জনপদ ঝুঁকিতে হাজারো পরিবার

টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পানির চাপে ফেনীর বিভিন্ন নদ-নদীতে ভাঙন আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ছোট ফেনী, মুহুরী, সিলোনিয়া ও কালীদাস পাহালিয়া নদীর তীরবর্তী এলাকাগুলোয় চলমান ভাঙনে বহু পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা, ফসলি জমি ও বিভিন্ন অবকাঠামো। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে জেলার আরো বিস্তীর্ণ এলাকা ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

সরেজমিনে দেখা যায়, নদীভাঙনের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে সোনাগাজী ও দাগনভূঞা উপজেলায়। সোনাগাজীর চরদরবেশ, চরমজলিশপুর ও চরচান্দিয়া ইউনিয়ন এবং দাগনভূঞার মাতুভূঞা ও সদর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় নদীর তীব্র ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। গত কয়েক মাসে বহু পরিবার ঘরবাড়ি ও জমিজমা হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। বর্তমানে হাজারো মানুষ ভাঙনের আতঙ্ক নিয়ে দিন পার করছেন।

সোনাগাজী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ছোট ফেনী নদীর তীর ভেঙে ফসলি জমি, ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, মসজিদ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হুমকির মুখে পড়েছে। চরমজলিশপুর ইউনিয়নের চরবদরপুর, কুঠিরহাট, কাটাখিলা ও কালীমন্দির এলাকা, চরদরবেশ ইউনিয়নের দক্ষিণ চরদরবেশ, আদর্শ গ্রাম, পশ্চিম চরদরবেশ, কাজীরহাট, আউরারখীল, আলামপুর, তেল্লারঘাট ও ধনীপাড়াসহ বিভিন্ন স্থানে ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। একইভাবে চরচান্দিয়া, বগাদাদিয়া ও আমিরাবাদ ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি এলাকাও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

অন্যদিকে দাগনভূঞা উপজেলার মাতুভূঞা ইউনিয়নের বাগেরহাট, রামানন্দপুর, সালামনগর, জেলেপাড়া, তালতলী ও করিমপুর এলাকায়ও নদীভাঙনের কারণে উদ্বেগ বাড়ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যায় মুছাপুর রেগুলেটর নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার পর পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়েছে। জোয়ারের সময় লবণাক্ত পানি লোকালয়ে প্রবেশ করছে এবং ভাটার সময় তীব্র স্রোতে নদীতীর ভেঙে যাচ্ছে। এলাকাবাসীর দাবি, গুরুত্বপূর্ণ এই স্থাপনাটি দ্রুত পুনর্র্নির্মাণ করা না হলে ভাঙন আরো বিস্তৃত হবে।

ক্ষতিগ্রস্ত পশ্চিম চরদরবেশ এলাকার বাসিন্দা জামাল উদ্দিন বলেন, আকস্মিক ভাঙনে বসতভিটা হারিয়ে পরিবার নিয়ে আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিতে হয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যেই অনেক মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন, অথচ স্থায়ী সমাধানের কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ছে না।

উত্তর চর সাহাভিকারী গ্রামের বাসিন্দা আমান উল্যাহ বলেন, গত বছরের বন্যার পর নদীর স্রোত অনেক বেড়েছে। কয়েক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ভাঙন চলছে। তিনি বলেন, এক দশক আগে নিজের বাড়ি নদীতে হারিয়েছেন, বর্তমানে অন্যের জমিতে বসবাস করছেন। এখন পুরো এলাকাই নতুন করে ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে।

চর গোপালগাঁওয়ের নূরজাহান বেগম বলেন, দীর্ঘদিনের কষ্টে গড়ে তোলা বাড়িঘর ও জমিজমা চোখের সামনে নদীতে হারিয়ে যাচ্ছে। ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে তাদের।

চরদরবেশ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বলেন, কয়েকশ পরিবার ইতোমধ্যে সর্বস্ব হারিয়েছে। অনেকেই আত্মীয়ের বাড়ি, সড়কের পাশে কিংবা বিভিন্ন বস্তিতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। স্থানীয়রা নিজ উদ্যোগে বালুর বস্তা ও বাঁশ দিয়ে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে না।

এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ফেনীর নির্বাহী প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম বলেন, জেলার ভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলো পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ‘বি-স্ট্রং’ প্রকল্পের আওতায় ভাঙনরোধী কাজের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে দ্রুত কাজ শুরু হবে। এছাড়া মুছাপুর রেগুলেটর পুনর্র্নির্মাণ প্রকল্পটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে ভাঙন পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়